বঙ্গবন্ধুই বাংলাদেশ

উদিসা ইসলাম#

ঘাতকের ষড়যন্ত্র আর বুলেটে বাংলাদেশের জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবন থেমে যায় মাত্র ৫৫ বছর বয়সে। কিন্তু সেই ৫৫টি বছর ছিল বারুদে ঠাসা। বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবন, কারাবন্দি দুঃসময়, জ্বলজ্বলে ৭ই মার্চ ও যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশকে গড়ে তোলা; তাঁর জীবনটা যেন মহাকালের এক রোমাঞ্চ উপন্যাস।

৫৫ বিয়োগ ১৩

বঙ্গবন্ধুর ৫৫ বছরের জীবনের ১৩ বছরই কেটেছে কারাগারে। রাজনীতি বোঝার বয়স যদি ১৮ ধরা হয়, তবে কারাগারের বাইরে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ছিলেন ২৪ বছর। এই ২৪ বছরের ৩ বছর ৭ মাস গেল যুদ্ধবিধ্বস্ত একটি দেশকে তিলে তিলে গড়তে। বাকি ২০ বছর ৫ মাস। এর প্রতিটি ক্ষণ তিনি ব্যয় করেছেন বাঙালির মুক্তিসংগ্রামে।

জীবনের প্রতিটি ছত্রে ছিলেন শঙ্কাহীন, সাহসী ও আপসহীন। গবেষক, রাজনীতিবিদ ও শিক্ষকরা বলছেন, ‘বঙ্গবন্ধুই বাংলাদেশ’। একথা মানতেই হবে। কারণ একজন মানুষ তার পুরো জীবন, পারিবারিক সময়, আরাম-আয়েশ সব তালাবন্দি রেখেছিলেন শুধু একটি দেশকে বাঁচাবেন বলে। মনের উপনিবেশ হঠানোর ডাক দিতে পেরেছিলেন বঙ্গবন্ধু। দেশকে এনে দিয়েছিলেন মুক্তির সনদ।

‘ফাঁকির স্বাধীনতা’ থেকে স্বাধীন বাংলাদেশ

পাকিস্তান আন্দোলনকে কেন্দ্র করে বাঙালির স্বাধীনতার যে স্বপ্ন ছিল, ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান হওয়ার পর তার বাস্তবায়ন ঘটেনি। বঙ্গবন্ধুর ভাষায় তা ছিল ‘ফাঁকির স্বাধীনতা’।

বঙ্গবন্ধুর রাষ্ট্রভাবনায় একক পাকিস্তান ছিল না। বঙ্গীয় রাজনীতিতে আবুল হাশেমের অনুসারীদের মতো তিনিও লাহোর প্রস্তাবের একাধিক রাষ্ট্রের ধারণায় বিশ্বাসী ছিলেন। পশ্চিম পাকিস্তানের বাইরে তৃতীয় স্বাধীন বাংলা রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ গ্রহণ করেন সোহরাওয়ার্দী আর বঙ্গবন্ধু তার পক্ষে কলকাতায় সভা-সমাবেশ করেন।

মুক্তিযুদ্ধ জ্ঞানকোষের তথ্য বলছে, দেশ বিভাগের পর পর অন্য সবার মতো বঙ্গবন্ধু পূর্ব বাংলায় ফিরে না এসে আরও কিছু কাল কলকাতায় অবস্থান করে মহাত্মা গান্ধী ও হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর সঙ্গে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার ক্ষেত্রে নিজেকে নিয়োজিত করেন।

ভাষা আন্দোলন ও বঙ্গবন্ধু

গবেষকরা বলছেন, এ ইতিহাস স্বীকৃত যে, বাঙালিদের প্রথম বিদ্রোহ রাষ্ট্রভাষার প্রশ্নে। সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের ভাষা হওয়া সত্ত্বেও বাংলাকে উর্দুর পাশাপাশি পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করতে অবাঙালি শাসকগোষ্ঠীর সম্মতি ছিল না। শুরু হয় ভাষা আন্দোলন।

অসাম্প্রদায়িক চেতনায় উদ্বুদ্ধ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন ভাষা আন্দোলনের প্রথম কারাবন্দিদের অন্যতম। ভাষা আন্দোলনের দ্বিতীয় পর্বে ১৯৫২ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে ফরিদপুর কারাগারে স্থানান্তরিত হয়ে বন্দি অবস্থায় মহিউদ্দিন আহমেদকে নিয়ে তাঁর দীর্ঘ অনশন তীব্রতর করে আন্দোলনকে।

রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন শুধু ভাষা আন্দোলন ছিল না- বাঙালির অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, সংস্কৃতি তথা সার্বিক স্বাধিকার প্রতিষ্ঠার প্রশ্ন এর সঙ্গে জড়িত ছিল। ১৯৫৫ সালের ২১ সেপ্টেম্বর পাকিস্তান গণপরিষদে বাংলা ভাষায় বক্তব্য দেওয়ার অধিকার দাবি করে বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, অন্য কোনও ভাষা জানি কি জানি না, তা গুরুত্বপূর্ণ নয়। আমরা এখানে বাংলাতেই কথা বলতে চাই। যদি আমরা এটা উপলব্ধি করি যে, আমরা বাংলা ভাষায় ভাব বিনিময় করতে সক্ষম, তা হলে সবসময় আমরা বাংলায় কথা বলব। এমনকি ইংরেজিতেও যদি আমাদের সমান দক্ষতা থেকে থাকে, তবুও। যদি আমাদের অনুমতি না দেওয়া হয়, তবে আমরা হাউস পরিত্যাগ করব।

গণতন্ত্রের ক্রমাগত অনুপস্থিতি

১৯৫৪ সালে কেন্দ্রের হস্তক্ষেপে যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভা বাতিল হওয়ার পর ওই মন্ত্রিসভার সদস্যদের মধ্যে একমাত্র বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। ১৯৫৮ সালে জেনারেল আইয়ুব খানের ক্ষমতা দখলের সঙ্গে সঙ্গে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের মধ্যে সর্বপ্রথম তাকেই গ্রেফতার করা হয়। পাকিস্তানি ঔপনিবেশিক রাষ্ট্র কাঠামো ভেঙে বাঙালির জাতীয়মুক্তি অর্জনের লক্ষ্যে ১৯৬৬ সালে বঙ্গবন্ধু দেশবাসীর সম্মুখে তাঁর বিখ্যাত ‘আমাদের বাঁচার দাবি ছয় দফা’ কর্মসূচি তুলে ধরেন।

পাকিস্তানের ২৪ বছরের মধ্যে ১২ বছর জেলে, বাকি সময় গোয়েন্দাদের কড়া নজরদারিতে কেটেছে তাঁর জীবন। সংগ্রাম জীবন বিশ্লেষণে বেরিয়ে আসে, তার কাছে পাকিস্তান নিজের স্বাধীন বাসভূমির পরিবর্তে ছিল বৃহত্তম কারাগার। স্বাধীন বাংলার স্বপ্ন থেকে তাই তিনি কখনই সরে আসেননি।

চূড়ান্ত সংগ্রামের পথ

ইয়াহিয়া খান পাকিস্তানের প্রত্যক্ষ ভোটে সাধারণ নির্বাচন দিলে ১৯৭০ সালের ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ পাকিস্তান জাতীয় পরিষদে পূর্ব পাকিস্তানের জন্য নির্ধারিত ১৬৯টি আসনের মধ্যে ১৬৭টি আসন পেয়ে বিজয় অর্জন করেন। নির্বাচনের ফলাফল অনুযায়ী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে কেন্দ্রীয় সরকার গঠনের সুযোগ না দিয়ে ইয়াহিয়া খান পাকিস্তানের সামরিক জান্তা ও পশ্চিম পাকিস্তানের সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে নির্বাচিত জুলফিকার আলি ভুট্টোকে সঙ্গে নিয়ে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হন।

গণতন্ত্রের অংশ হিসেবে জাতীয় পরিষদের অধিবেশন একতরফাভাবে স্থগিত ঘোষণা করলে বিক্ষোভে ফেটে পড়ে দেশ। বলাই বাহুল্য, এরও নেতৃত্বে বঙ্গবন্ধু। ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ ঐতিহাসিক জনসভায় বঙ্গবন্ধু সর্বাত্মক অসহযোগ আন্দোলন ও স্বাধীনতা সংগ্রামের ডাক দেন। সে সময় ধানমণ্ডি ৩২ নম্বর সড়কের বাড়িটি রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়। এরপর পরাজয়ের নিশ্চিত ইঙ্গিতে পাকিস্তান সরকার ২৫ মার্চ অপারেশন সার্চলাইট পরিচালনা করে গুড়িয়ে দিতে চায় বাংলার সংগঠিত জনতাকে। গ্রেফতার হন বঙ্গবন্ধু। বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতা ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয় বাঙালির মুক্তিযুদ্ধ।

স্বাধীন বাংলাদেশ

স্বাধীনতার পর যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ ও জাতির উন্নয়নে আত্মনিয়োগ করে দশ মাসের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রের জন্য সংবিধান প্রণয়ন, এক কোটি শরণার্থী পুনর্বাসন, শতাধিক রাষ্ট্রের স্বীকৃতি আদায়, জাতিসংঘের সদস্যপদ লাভ, রাষ্ট্র ও সরকারের মৌলিক প্রতিষ্ঠানসমূহ তৈরি ও অনেকগুলোর ভিত্তিস্থাপন, স্বাধীনতাবিরোধী ও উগ্রপন্থীদের মোকাবেলা করাসহ মাত্র সাড়ে তিন বছরের মধ্যে প্রায় সম্পূর্ণ ধ্বংস অবস্থা থেকে সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশকে একটি দৃঢ় ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে সক্ষম হন তিনি।

বঙ্গবন্ধু জাতিসংঘে দাঁড়িয়ে বলছেন বাংলাদেশের কথাবঙ্গবন্ধু জাতিসংঘে দাঁড়িয়ে বলছেন বাংলাদেশের কথা‘বঙ্গবন্ধুইতো বাংলাদেশ’ উল্লেখ করে আমাদের অর্থনীতির সম্পাদক মাসুদা ভাট্টি বলেন, ‘একজন মানুষ তার পুরো জীবন, পরিবার, আরাম-আয়েশ সব দিয়েছেন এই দেশটার জন্য। দুঃখজনক সত্য হলো, দীর্ঘকাল এদেশে বঙ্গবন্ধুর নাম মুখে আনা যায়নি। অপমান করা হয়েছে বিশাল মহীরূহকে। ফলে তার কন্যার নেতৃত্বে তার দলটি যখন ক্ষমতায় এসেছে স্বাভাবিকভাবেই তার সম্পর্কে কথা বলা শুরু হয়েছে। দীর্ঘকাল বন্ধ থাকার পরে কথা শুরু হওয়ায় অনেকের কানেই সেটা বেশি মনে হচ্ছে।’

মাসুদা ভাট্টি আরও বলেন, ‘নেলসন ম্যান্ডেলা, জর্জ ওয়াশিংটন, মহাত্মা গান্ধীকে বাদ দিয়ে তাঁদের দেশগুলোকে কি কোনওভাবে ভাবতে পারবেন? তা হলে বার বার কেন বঙ্গবন্ধুর নাম নিতে, তাকে যোগ্য সম্মান দিতে আপত্তি? কারণ কিছুই নয়, বঙ্গবন্ধু যা করেছেন দিনের আলোয় জনগণকে সাক্ষী রেখে করেছেন। বাংলাদেশে তাকে খুন করে যারা ক্ষমতা নিয়েছে তারা কারফিউ দিয়ে, অরডিন্যান্স জারি করে ক্ষমতায় থেকেছে। রাষ্ট্রের টাকায় দল তৈরি করেছে। বঙ্গবন্ধুর ক্ষেত্রে তা হয়নি। বাংলাদেশের মানুষ তাকে ভালোবেসেই জাতির পিতার আসনে বসিয়েছে।’

বাংলা একাডেমির সাবেক মহাপরিচালক ড. শামসুজ্জামান খান বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবই বাংলাদেশ এই অর্থে যে, হাজার বছরে কোনও বাঙালি তা অতীশ দীপঙ্কর বা শ্রী চৈতন্য হোক বা রাম মোহন রায় থেকে রবীন্দ্রনাথ, চিত্তরঞ্জন দাশ বা নেতাজি সুভাস বসুর কথাই ধরুন, আর কেউ একটি স্বাধীন সার্বভৌম গণতান্ত্রিক, ধর্মনিরপক্ষে বাংলাদেশ রাষ্ট্র নির্মাণ করতে পারেননি। যাদের কথা বললাম, এদের মধ্যে কেউ কেউ বরং বাঙালিত্বের কথা তেমন ভাবেননি। তারা একটি সর্বভারতীয় জাতীয়তাবাদের চেষ্টা করেছিলেন। সেটাও তারা সফল করতে পারেননি। ঔপনিবেশিক ইংরেজ শক্তির হাত থেকে আপসে স্বাধীনতা সনদ গ্রহণ করতে হয়েছিল। একমাত্র বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সংগ্রাম করে মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে জাতিরাষ্ট্র তৈরি করতে পেরেছেন। তার সঙ্গে রাজনৈতিক দর্শনের দিক থেকে কারও তুলনা হয় না। সেজন্যেই আমরা মনে করি বাংলাদেশ এবং বঙ্গবন্ধু একাত্ম।’

হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, এমনটা উল্লেখ করে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ড. আনোয়ার হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু দীর্ঘসময় পাকিস্তান উপনিবেশের বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন। তার ডাকেই বাঙালি মরণপণ লড়াইয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। খুব অল্প সময়ে আমরা তাঁকে অনুসরণ করেই স্বাধীনতা অর্জন করেছিলাম।’

শিক্ষাবিদ সৈয়দ মঞ্জুরুল ইসলাম বঙ্গবন্ধুর সংগ্রামী জীবনে মনের উপনিবেশ মুক্তির সংগ্রামের কথা উল্লেখ করে বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দুই ধরনের সংগ্রাম করেছেন। একটা হচ্ছে ব্রিটিশ উপনিবেশবিরোধী। যার উদ্দেশ্য ছিল স্বাধীনতা অর্জন। যে স্বাধীনতা উপনিবেশিক শাসনের সবগুলো প্রভাবকে নাকচ করে জনমানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা করবে, গরিবদের মুখে হাসি ফোটাবে। তারপর যখন দেখা গেল পাকিস্তান আবার উপনিবেশের রূপে নতুন ব্রিটিশ শাসনের অবতার হিসেবে সামনে হাজির হয়েছে। ব্রিটিশরা যা করতো পাকিস্তানও সেটাই করতে শুরু করলো। প্রথমে ভাষার ওপর আঘাত হানলো, তারপর সংস্কৃতির ওপর, তারপর শিক্ষার ওপর। এসবের বিরুদ্ধে যে সংগ্রাম বঙ্গবন্ধু করলেন, সেটি ছিল তার প্রথম সংগ্রামের ধারাবাহিকতা। যেটা থেকে আমরা সফল হয়ে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পতাকা ওড়ালাম।’

সৈয়দ মঞ্জুরুল ইসলাম আরও বলেন, ‘দ্বিতীয় সংগ্রাম ১৯৫২ সাল থেকে শুরু করেছিলেন। সেটি ছিল সাংস্কৃতিক মুক্তির আন্দোলন। শিক্ষার মধ্য দিয়ে মন থেকে উপনিবেশের ভূতটাকে তাড়ানোর আন্দোলন। সেজন্য তিনি শিক্ষা ও সংস্কৃতির ওপর জোর দিয়েছিলেন। একাত্তরের ৭ই মার্চ বঙ্গবন্ধু যখন অহিংস আন্দোলনের ডাক দিলেন, তিনি বেসামারিক সবকিছু বাঙালিদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছিলেন। সাত মার্চ তিনি দুটো কথা বলেছিলেন, স্বাধীনতার সংগ্রাম, মুক্তির সংগ্রাম। এই মুক্তির কথা হঠাৎ করে বলেননি। ’৫২ থেকে তিনি এই সাংস্কৃতিক মুক্তি নিয়ে সংগ্রাম করছেন।

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.