প্রেমিকের মা গালি দেয়ায় প্রেমিকার আত্মহত্যা

ডেস্ক নিউজ:
বরগুনার পাথরঘাটায় গলায় ওড়না পেচিয়ে তুবা আক্তার (১৩) নামের এক স্কুলছাত্রী আত্মহত্যা করেছে। বুধবার (২০) আগস্ট বিকালে ওই ছাত্রীর ঝুলন্ত মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যুর মামলাও দায়ের করেছে পুলিশ। তুবা পাথরঘাটা পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ডের সেন্টু মিয়ার মেয়ে।

তুবার স্বজনরা জানান, এসএসসি পরীক্ষার্থী তুবার সাথে লাকুরতলা গ্রামের আলমগীর হোসেনের ছেলে সজীব হাসানের (১৯) প্রেমের সম্পর্ক ছিল। বিষয়টি সজীবের মা জানতে পেরে ক্ষীপ্ত হয়ে বুধবার সকালে নিজের ছেলেকে নির্দোষ দাবি করে তার ছেলেকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে বিরক্ত করার অভিযোগ করতে আসে তুবার স্বজনদের কাছে। এসময় সজীবের মা মাজেদা বেগম তুবাকে চরিত্রহীনসহ অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন।

তুবার স্বজনরা শুধু তুবার দোষ নয়, ছেলে-মেয়ে দু’জনেরই দোষ বলে মাজেদা বেগমকে বোঝাতে চেষ্টা করলে আরও ক্ষীপ্ত হয় সে। এরপর তুবার বাবা-মাকেও অকথ্য ভাষায় গালাগালি করে চলে যান। এরপর দুপুরের দিকে তুবাকে তার মা ডাকতে গেলে কোনো সাড়া পান না। পাশাপাশি রুমের দরজা ভিতর থেকে বন্ধ দেখে স্থানীয়দের সহায়তায় দরজা ভেঙে তুবাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। পরে পুলিশকে খবর দিলে তুবাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎস্যক মৃত ঘোষণা করেন।

মৃত তুবার বাবা মো. সেন্টু মিয়া রাইজিংবিডিকে বলেন, ‘সজীবের সাথে তুবার প্রেমের সম্পর্কের খবর পেয়ে মেয়েকে লেখা-পড়ায় মন দিতে বলেন। তবে, এরপর আর তার মেয়ে সজীবের সাথে যোগাযোগ করেনি। এরপর সজীব তুবাকে ফোনে না পেয়ে নানান কৌশলে তুবার সাথে যোগাযোগ করে। উল্টো সজীবের মা তুবা এবং আমাদের দোষারোপ করতে এসেছেন সকালে। যেহেতু আমি মেয়ের বাবা তাই তার সকল অভিযোগ মাথা পেতে নিয়েছি। কিন্তু সকালে যখন সজীবের মা আমাদের চরিত্র নিয়ে কথা বলে আমাদের অকথ্য ভাষায় গালি দেন, তখন আমার মেয়ে তার রুমে গিয়ে কান্না করতে থাকে। শেষ পর্যন্ত আমার মেয়েটা মরেই গেলো।’

তিনি কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, ‘আমার মেয়ের একার দোষ ছিল না। ওদের বয়স কম, তাই এমন সম্পর্কে জড়িয়েছে। আমি মেয়েকে শাসন করেছি। কিন্তু অতিরিক্ত শাসন করিনি। কি লাভ হলো তাতে? আমার ১৩ বছরের মেয়েটাকে চরিত্রহীন বলে গালি দিলো। আমাকে ও আমার স্ত্রীকেও গালি দিলো। মেয়েটা কষ্টে মরেই গেলো।’

এ বিষয়ে পাথরঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল বাশার রাইজিংবিডিকে জানান, আত্মহত্যার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ গিয়ে মৃতদেহ উদ্ধার করে। মৃতদেহ ময়না তদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। পুলিশ বাদী হয়ে একটি অপমৃত্যুর মামলাও করেছে। তবে এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোন লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.