পাপুলের সংসদ সদস্য পদ বাতিল

ডেস্ক নিউজ:
লক্ষ্মীপুর-২ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য মোহাম্মদ শহিদ ইসলাম পাপুলের সংসদ সদস্য পদ বাতিল করে আসন শূন্য ঘোষণা করা হয়েছে। আজ সোমবার সংসদ সচিবালয় এ সংক্রান্ত গেজেট প্রকাশ করে।

সংসদ সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব ড. জাফর আহমেদ খানের লেখা গেজেটে বলা হয়েছে, ‘কুয়েতের ফৌজদারি আদালত কর্তৃক গত ২৮-০১-২০২১ খ্রি. তারিখ ঘোষিত রায়ে নৈতিক স্খলনজনিত ফৌজদারি অপরাধে ৪ (চার) বছর সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হওয়ায় ২৭৫ লক্ষ্মীপুর-২ হইতে নির্বাচিত সংসদ সদস্য জনাব মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সংবিধানের ৬৬ (২) (ঘ) অনুচ্ছেদের বিধান অনুযায়ী সংসদ সদস্য থাকিবার যোগ্য নহেন। সেই কারণে সংবিধানের ৬৭ (১) (ঘ) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রায় ঘোষণার তারিখ ২৮-০১-২০২১ খ্রি. হইতে তাহার আসন (২৭৫ লক্ষ্মীপুর-২) শূন্য হইয়াছে। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সংসদের কার্যপ্রণালি-বিধি ১৭৮ (৪) বিধি অনুযায়ী ২৭৫ লক্ষ্মীপুর-২ হইতে নির্বাচিত সংসদ সদস্যের আসন শূন্য সংক্রন্ত বিজ্ঞপ্তি জারি করা হইল।’

গত বছরের ৬ জুন কুয়েতের বাসা থেকে পাপুলকে গ্রেপ্তার করে সে দেশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। পরে তার বিরুদ্ধে কুয়েতে মানবপাচার ও অর্থপাচারের মামলা করা হয়। অভিযোগের সঙ্গে জড়িত থাকায় গত ২৮ জানুয়ারি পাপুলকে চার বছরের কারাদণ্ডাদেশ দেন কুয়েতের একটি আদালত। পাশাপাশি তাকে ১৯ লাখ কুয়েতি রিয়াল বা ৫৩ কোটি টাকা জরিমানাও করা হয়।

এর আগে, নির্বাচনী হলফনামায় মিথ্যা তথ্য দেওয়া ও শিক্ষাগত যোগ্যতার জাল সনদ দাখিল করায় পাপুলের সংসদ সদস্য পদের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ২০২০ সালের ১৬ আগস্ট হাইকোর্টে জনস্বার্থে রিট দায়ের করেন একই আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী আবুল ফয়েজ ভূঁইয়া।

গত বছরের ৯ জুন দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সাংসদ পাপুল ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের সম্পদের বিবরণ চেয়ে নোটিশ দেয়। তাদের পাসপোর্ট, জাতীয় পরিচয়পত্র, টিআইএন এবং আয়কর রিটার্নের কপি ১৫ দিনের মধ্যে জমা দিতে বলা হয়েছিল।

এদিকে সম্প্রতি শহিদ ইসলাম পাপুলের সাজার রায়ের কপি হাতে পায় বাংলাদেশ। গত ১৯ ফেব্রুয়ারি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন সাংবাদিকদের জানান, রায়ের কপি ইতোমধ্যে জাতীয় সংসদের স্পিকার ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। এখন সংসদের আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা ৬১ পৃষ্ঠার রায়ের কপি পেয়েছি এবং এটি সঠিক জায়গায় প্রেরণ করা হয়েছে।’

Comments are closed.