পানিতে জীবন মরণ।

 

 

পৃথিবীর ৩ভাগ পানি এবং ১ভাগ স্থল।অর্থ্যাৎ পানির পরিমান বেশী।এর মধ্যে ৯৭% পানি সমুদ্রে,২% বরফ  এবং শুধু মাত্র ১% আমরা পান করার উপযুক্ত।যদিওবা আমরা এই ১% পানিকেও নিরাপদ রাখতে বার বার ব্যর্থ হচ্ছি। একজন মানুষের প্রতিদিন পানির চাহিদা কতটুকু তা নির্ভর করে আবহাওয়া, তার কাজকর্মের পরিমাণ, শরীরের অবস্থা ইত্যাদির ওপর।যেমন-আমি নিজেও চেম্বারে থাকলে সারা দিনে ২লিটার পানি পান করিনা,কিন্তু যখন বাহিরে গরম আবহাওয়া বা পরিশ্রমের কাজ করি তখন পানি পানের পরিমান কয়েক গুন বেড়ে যায়। পানি পান নিয়ন্ত্রণের জন্য আমাদের মস্তিষ্কের হাইপোথ্যালামাস অংশে রয়েছে থার্স্ট সেন্টার বা পিপাসাকেন্দ্র। এই কেন্দ্র জানিয়ে দেয় যে কখন পানি পান করা দরকার। একজন মানুষের এই অংশটি কার্যকরী থাকলে পানির অভাব বা বাড়তি কখনোই হবে না।তবে কোনো কোনো সময়, যেমন মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচারের পর এই কেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হলে ব্যক্তির পিপাসার নিয়ন্ত্রণ লোপ পায়। তখন পানির অভাবে বিপদ ঘটে যেতে পারে। আবার এর পরিমাণ বেশি হয়ে গেলে মানুষের কিডনি কার্যকরভাবে অতিরিক্ত পানি প্রস্রাবের মাধ্যমে দেহ থেকে বের করে দিতে পারে। কিন্তু এই কিডনি যদি অকার্যকর হয়ে যায়, তবে অতিরিক্ত পানি শরীরে জমে গিয়ে সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে।

কখন এবং কিভাবে পানি পান করবেনঃ

০১.প্রথম কথা হচ্ছে পানি পানের আগে অবশ্যই পানিটি বিশুদ্ধ কিনা নিশ্চিত হতে হবে।কারন পানির অপর নাম জীবন হলেও দুষিত পানির নাম মরণ।

০২. তাড়াহুড়া করে পানি পান করবেন না। জোর করে বেশি পানি পান করার প্রয়োজন নেই। আপনার পিপাসাই জানিয়ে দেবে কখন কতটুকু পানি আপনার দরকার।

০৩. গরম আবহাওয়ায় পানির পরিমাণ কম হলে প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যেতে পারে, হলুদ বা লালচে রং ধারণ করতে পারে এবং প্রস্রাবে জ্বালা করতে পারে। এ রকম হলে বুঝে নিন পানিশূন্যতা হয়েছে। তাই প্রচুর পানি পান করতে হবে।

০৪. কিডনির সমস্যা, উচ্চ রক্তচাপ, হূদেরাগ ও শ্বাসযন্ত্রের সমস্যা আছে, এমন রোগীদের চিকিৎসকেরা পানির পরিমাণ নির্দিষ্ট করে দিতে পারেন।

০৫. আমাদের মতো উষ্ণ আবহাওয়ার দেশে মোটামুটি পরিশ্রমের কাজ করলে একজন মানুষের সাধারণত দিনে দুই থেকে তিন লিটার পানি পান করলেই চলে। তবে এটি নির্ভর করে তার দেহ থেকে স্বাভাবিক পানি নির্গত হওয়ার পরিমাণের ওপর।

০৬. জ্বরের সময় প্রচুর পানি পান করা উচিত। কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতেও প্রচুর পানি পান করতে হয়। সকালে খালি পেটে তিন-চার গ্লাস পানি পান করা এ ধরনের সমস্যায় ফলদায়ক। কিছু ওষুধ, বিশেষ করে কিছু অ্যান্টিবায়োটিক খেলে বেশি পানি পান করতে বলা হয়, যাতে তা দ্রুত নিষ্কাশিত হতে পারে।

 

০৭. ত্বক সুস্থ ও উজ্জ্বল রাখতে যথেষ্ট পানি পান করা উচিত। ক্ষুধামান্দ্য ও অন্যান্য হজমের সমস্যায়ও পানির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।

০৮. খাবারের অন্তত আধঘণ্টা আগে এবং খাবার খাওয়ার আধঘণ্টা থেকে এক ঘণ্টা পর পানি পান করা উচিত। খাবার সময় বেশি পানি পান না করাই ভালো।

০৯. ভারী কাজকর্ম বা ব্যায়ামের পর তিন-চার গ্লাস পানি পান করুন।

লেখকঃ ডাঃ মুহাম্মদ ওমর ফারুক(হোমিওপ্যাথ)

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.