ইয়ানূর রহমান : দক্ষিন শার্শায় মাদকের নেশা যেভাবে ছড়িয়ে পড়ছে তাতে ভবিষ্যৎ নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন সচেতন মহল। আগে তরুণ-যুবকরা মাদকে আসক্ত হতো। এখন কিশোর, এমনকি কিশোরীরাও মাদকাসক্তির শিকার হচ্ছে।
অতীতে এ এলাকায় মাদকের তালিকায় প্রধান দ্রব্যটি ছিল গাঁজা। এখন সেই তালিকায় যোগ হয়েছে ইয়াবা, ফেনসিডিল, হেরোইন সহ অনেক নাম। তার মধ্যে সবচেয়ে ভয়ংকর মাদকটির নাম ইয়াবা। চিকিৎসাবিজ্ঞানীদের মতে, এটি কেউ দীর্ঘদিন ব্যবহার করলে তার মধ্যে মানবিক গুণাবলি বলে কিছু অবশিষ্ট থাকে না। খুন-খারাবিসহ হেন অপকর্ম নেই, যা তারা করতে পারে না। শারীরিকভাবেও এর ক্ষতি ভয়ংকর।
অথচ ইয়াবা এখন শার্শার দক্ষিনাঞ্চলের প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলেও সহজলভ্য হয়ে গেছে। এই ইয়াবার কারবার অত্যন্ত লাভজনক হওয়ায় গাজা, ফেনসিডিল ছেড়ে মাদক ব্যবসায়ীরা ইয়াবা ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েছে।
তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, শার্শার দক্ষিনাঞ্চলের প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চল ভবানিপুর, দাদখালী, কায়বা ও বাগআঁচড়া এলাকায় ইয়াবা ব্যবসায়ীর সংখ্যা হঠাৎ করে বেড়ে গেছে। পুলিশের অভিযানের ফলে সমগ্র শার্শার ব্যবসায়ীরা আত্মগোপনে গেলেও এ সব এলাকার মাদক ব্যবসায়ীরা থেমে নেই। একটি মাত্র কারন, তারা ভারত ও কলারোয় সীমান্ত এলাকায় বসবাস করেন। পুলিশি অভিযান শুরু হলেই তারা সীমান্ত পার হয়ে ওপারে চলে যায়।
একটি নির্ভরযোগ্য সুত্র জানান, পুলিশের কিছু অসাধূ কর্মকর্তার আশির্বাদে ভবানিপুর, দাদখালী, কায়বা ও বাগআঁচড়া এলাকায় ইয়াবা ব্যবসায়ীরা আস্তানা গড়ে তুলেছে।
ভবানিপুর গ্রামের রেজাউল, কায়বা গ্রামের বিল্লাল চৌকিদার, দাদখালী গ্রামের ডাবলু, বাগআঁচড়ার রানা প্রশাসনের নাকের ডগায় ইয়াবার কারবার করলেও তাদের টিকিটিও পুুিলশ খুজে পাচ্ছেনা। তারা দেদার্ছে মাদকের কারবার চালিয়ে যাচ্ছে বলে এলাকাবাসির অভিযোগ।
সুত্রটি আরো জানায়, এ সকল মাদক ব্যবসায়ীদের নামে একাধিক মামলা থাকলেও তারা আটক হচ্ছে না। মাঝে মধ্যে সিভিল পোশাকে এ সকল মাদক কারবারীদের বাড়িতে পুলিশ আসলেও অজানা কারনে তারা আটক হচ্ছে না অভিযোগ সচেতন মহলের।
জানা যায়, নানা কৌশলে এ এলাকার চোরাই ঘাটগুলো দিয়েও প্রচুর মাদক ঢুকছে। বিভিন্ন চোরাই পন্যের ভেতরে করে।
এ ব্যাপারে কায়বা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাসান ফিরোজ আহমেদ টিঙ্কুর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, হাট বসিয়ে কেনাবেচা হলেও তা রোধ করতে পারছি না। উপরন্তু যারা এসব রোধ করবে, তারাই যদি কারবারে জড়িয়ে যায়, তাহলে ফল কী হবে? দ্রæত বিস্তার ঘটবে। হচ্ছেও তাই। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর নামে সরকারের একটি অধিদপ্তর রয়েছে, যেটি ‘ঢাল নেই, তলোয়ার নেই-নিধিরাম সর্দার’ বা ‘ঠুঁটো জগন্নাথ’ হিসেবেই বেশি পরিচিত। তাদের না আছে লোকবল, না আছে মাদক কারবারিদের মোকাবেলা করার সক্ষমতা।

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.