দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের সময়ই পদত্যাগ করেছেন কোচ : পাপন

ওয়ান নিউজ ক্রীড়া ডেক্স:  প্রেস কনফারেন্সের আগে একটু মজা করে নিলেন নাজমুল হাসান পাপন। পরিবেশ হালকা করতেই বুঝি। কিন্তু গুমোট ভাবটা বৃহস্পতিবার বেশ ছিল। সেই সাথে নানা প্রশ্ন। কেন চন্ডিকা হাথুরুসিংহে পদত্যাগ করলেন? বাংলাদেশের প্রধান কোচের পদত্যাগের খবরটা এদিন দুপুরের পর ছড়িয়ে পড়ে। এরপর বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড প্রেসিডেন্ট পাপনকে মিডিয়া ধরতে পারে সন্ধ্যার দিকে। তখন বিসিবি সভাপতি জানিয়ে দেন, দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের শুরুতেই পদত্যাগ করেছেন হাথুরুসিংহে। ১৫ অক্টোবরের আগে। কোনো কারণ দেখাননি। এখন বিসিবির পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলেও কোনো সাড়া দিচ্ছেন না। নভেম্বরের ১৫ তারিখের পর বাংলাদেশে আসবেন বলেছেন। তখন কথা বললে বোঝা যাবে সমস্যাটা কোথায়।

‘ও বলেছে ইন্টারেস্টেড না। করতে চায় না। কোনো কারণ দেখায়নি।’ তাহলে কি হয়েছে? ঝামেলাটা কোথায়? বিসিবি সভাপতি নিজেও জানেন না, ‘বলা মুশকিল। ওর সাথে দেখা হওয়ার আগে বলা মুশকিল।’ তাহলে কি নিজের দেশ শ্রীলঙ্কার প্রস্তাবে সাড়া দিয়েই হাথুরুসিংহের এই হঠাৎ পতদ্যাগ? মানতে চান না পাপন, ‘এটা তো ১২ মাস আগে থেকেই। শ্রীলঙ্কার মহামান্য রাষ্ট্রপতিও তাকে বলেছিলেন। আরো অনেক জায়গায় ওর অফার আছে। আমাকে দেখিয়েছে। কিন্তু ওর সাথে দেখা হওয়ার আগে বলা মুশকিল যে এসব কারণে নাকি অন্য কোনো কারণে চলে যেতে চায়। নাকি পারিবারিক কোনো কারণ নাকি অন্য কোনো কিছু তাকে বিরক্ত করছে। অনেক কিছুই হতে পারে।’

খবরটা প্রকাশ হলো বৃহস্পতিবার। কিন্তু তার আগে থেকেই বোর্ড হাথুরুসিংহের সাথে যোগাযোগ করে যাচ্ছে। অস্ট্রেলিয়ায় স্থায়ী হওয়া টাইগারদের পদত্যাগী কোচ যা বলার তা বলে দিয়েছেন, এই ভাব নিয়েই আছেন। তাতে অসহায়ত্ব বেড়েছে বিসিবির। পাপনের কথাতেই সেটা বোঝা যায়, ‘খেলা চলাকালীন সময়ে এটা নিয়ে আমরা কোনো কথা বলতে চাইনি। কিন্তু খেলা শেষ হওয়ার সাথে সাথে তার সাথে যোগাযোগ করা হয়েছে। যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে…আমি করিনি। আমাদের সিইওর মাধ্যমে যোগাযোগ করতে বলেছি। কিন্তু যোগাযোগ হচ্ছে না। আমি যতদূর জানি ওর সাথে যোগাযোগ করে রেসপন্স পাচ্ছে না।’

এখন তাহলে কি করবে বিসিবি? বাংলাদেশের সফলতম কোচ, যার সাথে এক বছর আগেই ২০১৯ বিশ্বকাপ পর্যন্ত চুক্তি বাড়িয়েছে। এখন তার পদত্যাগপত্র কি গ্রহণ করবে? পাপন হাসেন। হাসেন নোটিশ পিরিয়ডের প্রসঙ্গেও। বলেন, ‘নোটিশ পিরিয়ড থেকে লাভ কি? একজন যদি নাই থাকে তাহলে নোটিশ পিরিয়ড দিয়ে কি হবে? ওর সাথে যা যোগাযোগ আমার ছিল তাতে জানি পেশাদার মানুষ। হঠাৎ করে কি এমন হলো যে একটা চিঠি দিয়ে অস্ট্রেলিয়ায় চুপচাপ বসে আছে ওই সিরিজের পর থেকে। এমনটা অস্বাভাবিক। সাধারণত কিছু হলে আমাদের কাউকে না কাউকে জানায়। কথা বলে। এবার কিন্তু এই সিরিজে আমাদের সাথে যোগাযোগও করেনি। আমার সাথে তো না।’

কিন্তু পাপনের সাথেই আসলে সবচেয়ে বেশি খাতির ছিল ৪৯ বছর বয়সী এই লঙ্কান কোচের। সেই তার সাথে কিছু না বলে এভাবে হঠাৎ ছেড়ে দেওয়া সব! পাপন বুঝে উঠতে পারেন না। সমস্যাটা আগে বের করতে হবে তো! তাহলে কি এর সাথে আবেগজনিত কোনো ব্যাপার আছে? ২০১৪ সাল থেকে কাজ করে গেছেন। উপমহাদেশীয় হিসেবে আবেগ কাজ করতেই পারে। এই প্রসঙ্গ টানলে পাপন বলে চলেন, ‘আপসেট নই, একটু অবাক হচ্ছি। এটাতে মনে হচ্ছে, ইমোশনাল ইস্যু আছে এখানে। এতদিন ওকে দেখেছি ইমোশন ছাড়া। কিন্তু যেহেতু আমার সঙ্গেও কথা বলল না বা জানালো না, এবার হয়ত এমন কিছু একটা হয়েছে, যেটা নিয়ে আর কথাই বলতে চাচ্ছে না বা হয়ত আমার মুখোমুখি হতে চাচ্ছে না।’

এটা কি বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্য বড় এক ধাক্কা না? ‘জানি না। আপনারা ভালো বলতে পারবেন। অনেকে খুশি হবে। মিডিয়া তো প্রচুর খুশি হওয়ার কথা, ও চলে যাচ্ছে। ধাক্কা কিনা জানি না। ক্রিকেটারদেরও অনেকে খুশি হবে, অনেকে বলবে ক্ষতি হয়ে যাচ্ছে। তবে আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, আমাদের একটা পরিকল্পনা ছিল। সেটি বাধাগ্রস্ত হবে তো বটেই।’

তবে হাথুরুসিংহে যেহেতু এই মাসেই বাংলাদেশে আসবেন বলে কথা দিয়েছেন, এখনই সব আশা বুঝি শেষ করে দিতে চাচ্ছেন না পাপন। কিন্তু পরের ভাবনাটাও ভেবে রাখতে হচ্ছে। পাপন বলেছেন, ‘ও না থাকলে আরেকজন কোচ নিতে হবে। আর শুধু ধুম করে নিলে তো হবে না। আরেকজনকে পেতে হবে। ভালো মানের পাওয়া যায় কিনা দেখতে হবে।’

Comments are closed.