টেকনাফে ভেসে উঠল ১৯ রোহিঙ্গা নারী, শিশুর মরদেহ

ওয়ান নিউজ ডেক্সঃ নির্যাতনের হাত থেকে বাঁচতে সেখানকার রাখাইন রাজ্য হতে বাংলাদেশে পালিয়ে আসার পথে সাগরে নৌকাডুবি মৃত্যু হয়েছে ১৯ রোহিঙ্গা নারী ও শিশুর। তাদের মধ্যে ১০ জন শিশু এবং ৯ জন নারী।

বৃহস্পতিবার সকালে কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার শাহপরীর দ্বীপ এলাকার মাজারপাড়া তীরে তাদের মরদেহগুলো ভেসে উঠে।

এ নিয়ে গত দুইদিনে ২৩ রোহিঙ্গার মরদেহ উদ্ধার করা হলো। যারা সবাই নারী ও শিশু। বুধবার ভোরে সাগরে নৌকাডুবির ঘটনায় দুই নারী ও শিশুসহ চার জনের মরদেহ পাওয়া যায়।

স্থানীয়দের বরাত দিয়ে সাবরাং ইউপি সদস্য নূরুল আমিন জানান, গত দুইদিনে রোহিঙ্গা বোঝাই তিনটি নৌকাডুবির ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় তীরে ১৯টি মৃতদেহ পাওয়া যায়। এদের মধ্যে নারী-শিশু রয়েছে। নৌকাডুবির ঘটনায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে জানান তিনি।

কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মো. আলী হোসেন জানান, নৌকাডুবির ঘটনায় কয়েকটি মরদেহ তীরে পাওয়া গেছে বলে তিনি শুনেছেন। এ বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে।

এ মৃতদেহগুলো উদ্ধার করতে পুলিশ পাঠানো হয়েছে বলে কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আফরুজুল হক টুটুল জানিয়েছেন।

গত সপ্তাহে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে ৩০টি পুলিশ ফাঁড়ি ও একটি সেনাঘাঁটিতে সমন্বিত হামলা চালায় দুর্বৃত্তরা। এতে অন্তত শতাধিক ব্যক্তি নিহত হন। নিহতদের মধ্যে ১২ জন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য এবং বাকি ৫৯ জন ‘রোহিঙ্গা মুসলিম বিদ্রোহী’ বলে দেশটির সরকার ও সেনাবাহিনী নিশ্চিত করে।

গত বছরের অক্টোবরে সীমান্তরক্ষীদের চৌকিতে হামলার পরেই রাখাইনদের গ্রামে-গ্রামে অভিযান চালায় দেশটির সেনাবাহিনী। এ সময় নির্বিচারে রোহিঙ্গা হত্যা, নির্যাতন, ধর্ষণ ও অগ্নিসংযোগের মত মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হয় বলে জাতিসংঘসহ বিভিন্ন মহল থেকে অভিযোগ উঠে।

সেনা অভিযানের মুখে প্রাণ বাঁচাতে গত বছর। অক্টোবর থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ৮৭ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা।

এছাড়াও গত কয়েক দশকে ৫ লাখের বেশি রোহিঙ্গা এদেশে আশ্রয় নিয়েছে বলে দাবি সরকারের। তাদের ফেরত নিতে মিয়ানমারের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে আসছে বাংলাদেশ।

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.