ঝিনাইদহে আ’লীগের দুই গ্রæপের সংঘর্ষে ৩৫ জন আহত

ঝিনাইদহ সংবাদদাতাঃ

ঝিনাইদহ সদর উপজেলার ধনঞ্জয়পুর ও সমসপুর গ্রামে আওয়ামীলীগের দুই গ্রæপের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এক সংঘর্ষে অন্তত ৩৫ জন আহত হয়েছেন। এ সময় ১০টি বাড়ি ভাংচুর ও লুটপাট করা হয়। ঈদের পর দিন গত রোববার সকাল ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। আহতদের মধ্যে ধনঞ্জয়পুর গ্রামের বারিক (৫০), মনিরুল ইসলাম(৩০), দুধ মোল্লা (৫০), রুবেল (২৫) শামছুল বিশ্বাস (৪০), বাশার (২০) নাজিম, রুহুল আমিন (৬০), লাবু (৪০), আলম, ছেলে সাগর, সপ্তম শ্রেণীর ছাত্রী খাদিজা (১৪), সমসপুর গ্রামের আতিয়ার রহমান (৭০), আতিয়ার রহমানের ছেলে ৫ ছেলে মোবাচ্ছের, মোকাদ্দেস, মদাসসের, টুলু বিশ্বাস ও ভুলু বিশ্বাস, সোহেল রানা(২৫), শুভ, কালামীর, নুরুল ইসলাম, হানিফ, সেলিম, রফিকুল, আব্দুর রশিদ(৪৫), হাফিজার বিশ্বাস, সুরজান বিশ্বাস, গোলাম রসুল, সাজেদুল, ইমাদাদুল ও হাসিবুল হাসানকে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। রমজান আলী নামে একজনকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়েছে।

 

প্রত্যক্ষদর্শী সুত্রে বলা হয়েছে ঘটনার দিন জালাল মল্লিক ও মকবুলের নেতৃত্বে সমসপুর, ল²ীপুর ও ফুরসন্দি গ্রামের প্রায় দুই’শ মানুষ দেশী অস্ত্র রামদা সড়কি, বল্লভ ও লাঠি নিয়ে সমসপুর গ্রামের হারুন বিশ্বাস, আতিয়ার রহমান বিশ্বাস, আবুল হাদি, টুলু বিশ্বাস, সুরমান বিশ্বাস, কদম আলী বিশ্বাস, রাজ্জাক বিশ্বাস ও রবিউল বিশ্বাসের বাড়িতে হামলা চালায়। এ সময় প্রতিরোধ করতে গেলে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যায়। সংঘর্ষের সময়  হামলাকারিরা ঘরের চালে উঠে ঢালার টিন কুপিয়ে কুপিয়ে কেটে দেয়। ঘরে আসবাবপত্র তছনছ করা হয়। হামলাকারীদের হাত থেকে রক্ষা পায়নি পানির টিউবওয়েল, বিদুতের মিটার, গাছের ফল, পানির পাইপ, কোরবানির রান্না করা গোস্ত, ভাত ও তরিতরকারি। ঝিনাইদহ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এমদাদুল হক শেখ জানান, উপজেলার ফুরসন্দি ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা আবদুল মালেক এবং সাবেক চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা শহিদ শিকদারের সমর্থকদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। এর জের ধরে রোববার সকালে উভয় পক্ষের লোকজন সমেশপুর গ্রামে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ৩৫ জন আহত হয়।

 

পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ওই এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। আহতদের জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে জানান ওসি। সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) অপূর্ব কুমার সাহা জানান, হাসপাতালে ভর্তি আহতদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। একজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। ঈদের ছুটির মধ্যে একসঙ্গে বিপুলসংখ্যক আহত হাসপাতালে আসায় চিকিৎসাসেবা দিতে হিমশিম খেতে হয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। উল্লেখ্য আওয়ামীলীগের স্থানীয় দুই নেতা শহীদ শিকদার ও আব্দুল মালেকের মধ্যে ঐক্য ফেরাতে পুলিশ ও জেলা প্রশাসন একাধিকবার সভা সমাবেশ করেছে। দুই নেতার কোলাকুলির ছবি পত্রিকায় ছাপা হয়েছে ফলাও করে। তারপরও ফুরসন্দি ইউনিয়নে শান্তি আসেনি। এই দুই নেতার দ্বন্দে বহু মানুষের ঘরবাড়ি লুট ও ভাংচুর হয়েছে। প্রাণ হারিয়েছেন অনেকেই। চাঁদা দিয়ে মানুষকে বাড়ি ফিরতে হয় এমন কথা প্রচার রয়েছে। মামলা হামলায় জর্জরিত ফুরসন্দির মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে উঠে পড়েছে।

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.