চীনকে টেক্কা দিতে নিম্ন ও মধ্য আয়ের দেশগুলোতে নজর জি সেভেনের

ডেস্ক নিউজ:
বিশ্বের ধনী দেশগুলোর জোট জি৭ সম্মেলনে নেতারা চীনের উদ্যোগের বিপরীতে নিম্ন ও মধ্য আয়ের দেশগুলোতে অবকাঠামোগত উন্নয়নে সহায়তার পরিকল্পনায় সম্মত হয়েছেন। যুক্তরাজ্যের সংবাদমাধ্যম বিবিসির খবরে এমনটি বলা হয়েছে।

চীনের মেগা উদ্যোগ বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের (বিআরআই) মতো বিকল্প একটি উদ্যোগ নিতে চাইছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় তিনি ‘বিল্ড ব্যাক বেটার ওয়ার্ল্ড’ (বিথ্রিডব্লিউ) পরিকল্পনা হাতে নিতে চান, যা কিনা বিআরআই’র চেয়ে বেশি কার্যকর হবে।

চীনের বিআরআই উদ্যোগের আওতায় অনেক দেশের সড়ক, রেলপথ ও বন্দরে অর্থায়ন হয়েছে।

যুক্তরাজ্যের কর্নওয়ালে চলমান জি৭ সম্মেলনে এক বিবৃতিতে জোটের নেতারা জানিয়েছেন, তাঁরা ‘প্রয়োজন নির্ভর উচ্চমানসম্পন্ন এবং স্বচ্ছ অংশীদারত্বের’ ভিত্তিতে কাজ করতে চান। তবে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে অর্থায়ন কীভাবে হবে তা এখনও পরিষ্কার নয়।

উদ্যোগটির অর্থায়ন নিয়ে বিস্তারিত জানানোর সময় আসেনি বলে উল্লেখ করেছেন জার্মানির চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মেরকেল।

চীনকে ঠেকাতে নানাভাবে কর্মপরিকল্পনা হাতে নিচ্ছে পশ্চিমা বিশ্ব। চীনের জিনজিয়াং প্রদেশে উইঘুর মুসলিমসহ অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীর ওপর দমনপীড়নের অভিযোগে এ বছরের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ও যুক্তরাজ্য যৌথভাবে সমন্বিত নিষেধাজ্ঞা জারি করে।

এ ছাড়া সম্মেলনে ভবিষ্যৎ মহামারি নিয়ন্ত্রণে একটি পরিকল্পনা হাতে নিতে সম্মত হয়েছেন বিশ্ব নেতারা। পরিকল্পনার মধ্যে, কোভিড-১৯-এর টিকা তৈরি এবং এর অনুমোদনে যে সময় লেগেছে তা ১০০ দিনের কমে নিয়ে আসার কথা রয়েছে। আর জাতিসংঘের স্বাস্থ্য সংস্থাকে (ডব্লিউএইচও) শক্তিশালীকরণের কথাও বলা হয়েছে। আজ রোববার সম্মেলনের শেষ দিনে এই পরিকল্পনাটির বিস্তারিত প্রকাশ করা হবে।

সম্মেলনে জি৭ জোটভুক্ত দেশ যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, জার্মানি, ইতালি, ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য ও জাপানের নেতারা চীন, মহামারি ও জলবায়ু পরিবর্তনসহ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনায় বসেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন, কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো, জাপানের প্রধানমন্ত্রী ইয়োশিহিদে সুগা, ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ, জার্মানির চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মেরকেল এবং ইতালির প্রধানমন্ত্রী মারিও দ্রাঘি।

এ ছাড়া জাতিসংঘের মহাসচিব, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান ভার্চুয়ালি এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ দুই নেতা সশরীরে এই সম্মেলনে যোগ দিয়েছেন।

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.