চিকিৎসার জন্য খালেদা জিয়াকে বিদেশে নিতে চায় পরিবার

ডেস্ক নিউজ:
করোনাভাইরাসে আক্রান্ত বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে নিতে চায় তাঁর পরিবার ও দল। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে ফোন করে বিষয়টি জানিয়েছেন।

বিএনপির মহাসচিব স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে জানিয়েছেন, পরিবার খালেদা জিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুর, লন্ডন বা ভালো কোথাও নিতে চায়।

ফোন পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, ‘মৌখিকভাবে আবেদন করা হয়েছে। তবে তাঁকে (খালেদা জিয়া) বাইরে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বা সরকারের এখতিয়ারের মধ্যে পড়ে না, এটা আদালতের এখতিয়ার।’ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আদালতের কাছে আবেদন করার আহ্বান জানিয়েছেন।

এদিকে, খালেদা জিয়ার পরিবারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে এখনো আবেদন করা হয়নি। সরকারের পক্ষ থেকে সবুজ সংকেত পাওয়া গেলে পরিবার আবেদন করবে বলে জানানো হয়েছে।

রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালের করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) চিকিৎসাধীন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া স্বাভাবিক শ্বাস-প্রশ্বাস নিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন তাঁর চিকিৎসক দলের সদস্য ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। গতকাল সোমবার রাতে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানিয়েছেন তিনি।

ডা. জাহিদ হোসেন বলেন, ‘ম্যাডাম (খালেদা জিয়া) সোমবার ভোরের দিকে শ্বাসকষ্ট অনুভব করেন। তখন চিকিৎসকরা উনাকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেন। পরীক্ষা করে উনাকে সিসিইউতে স্থানান্তর করেন। সেখানে উনি চিকিৎসাধীন আছেন।’

ডা. জাহিদ বলেন, ‘আমরা আপনাদের মাধ্যমে দেশবাসীর কাছে উনার (খালেদা জিয়া) আশু সুস্থতার জন্য দোয়া কামনা করছি।’

‘মানুষের যে কোনো সময়, যে কোনো পরিস্থিতিতে শ্বাসকষ্ট হতে পারে। খালেদা জিয়ার সব ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে। এখানকার চিকিৎসকেরা কালেক্টিভলি করছেন। আমি আপনাদের জ্ঞাতার্থে জানাতে চাই, ১০ সদস্যের মেডিকেল বোর্ড উনার পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছে। পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার পর সেগুলো পর্যালোচনা করে দেশি-বিদেশি চিকিৎসকদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে পরবর্তী সময়ে বিস্তারিত জানানো যাবে,’ যোগ করেন ডা. জাহিদ।

খালেদা জিয়া স্বাভাবিক শ্বাস-প্রশ্বাস নিচ্ছেন কি না জানতে চাইলে ডা. জাহিদ বলেন, ‘করোনারি কেয়ার ইউনিটে যখন থাকে, তখন রোগী স্বাভাবিক শ্বাস-প্রশ্বাসই নেয়। ম্যাডাম স্বাভাবিক শ্বাস-প্রশ্বাসই নিচ্ছেন।’

এখন কী অবস্থা জানতে চাইলে জাহিদ হোসেন বলেন, ‘আর এখানে আপনাদের এর বেশি কিছু বলতে পারছি না। এটুকু বলি, আমি কয়েক মিনিট আগে উনার কাছে গিয়েছি, উনার সঙ্গে কথা বলেছি।’

গত ১১ এপ্রিল খালেদা জিয়ার করোনা শনাক্ত হয়। এরপর থেকে গুলশানের বাসা ‘ফিরোজা’য় তাঁর ব্যক্তিগত চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকীর নেতৃত্বে চিকিৎসা শুরু হয়। করোনা আক্রান্তের ১৪ দিন অতিক্রান্ত হওয়ার পরে খালেদা জিয়ার করোনা টেস্ট করা হয়েছিল কিন্তু ফলাফল পজিটিভ আসে। এরপর ২৭ এপ্রিল রাতে তাঁকে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরদিন খালেদা জিয়ার চিকিৎসার জন্য ১০ সদস্যের মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়।

মন্তব্য করুন

আমরা সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্র রিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোন মন্তব্য বা বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোন ধরনের আপত্তিকর মন্তব্য বা বক্তব্য সংশোধনের ক্ষমতা রাখেন।

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.