চট্টগ্রাম কলেজিয়েটের ভর্তির ফলাফল পুর্বেই ফাঁস,দুজন শো’কজ,রহস্যে জট

জে,জাহেদ বিশেষ অনুুসন্ধানী প্রতিবেদকঃ

ভর্তি পরীক্ষার ফলাফল ফাঁসের ঘটনায় আরো দুজনকে শো’কজ করা হয়েছে।

স্কুল সূত্রে জানা যায়, ফলাফল প্রস্তুতের পর রাত সাড়ে দশটার দিকে জেলাপ্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটগণ স্কুল থেকে বের হয়ে আসেন।

এসময় কয়েকজন শিক্ষক, উচ্চমান সহকারী ফারুক আহমেদ ও কম্পিউটার অপারেটর রিদুয়ান স্কুলে ছিলেন।

ফলাফলের হার্ড কপি নিয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটগণ স্কুল থেকে চলে আসার পর ফলাফলের আরো দুটি সেট হার্ড কপি বের করা হয়। যার এক সেট শিক্ষক আনোয়ার হোসেন এবং অপর এক সেট উচ্চমান সহকারী ফারুক আহমেদ বাসায় নিয়ে যান বলে লিখিত ব্যাখ্যায় উল্লেখ করেছেন রিদুয়ানও।

সরকারি ভাবে প্রকাশের আগেই ভর্তি পরীক্ষার ফলাফল ফাঁসের ঘটনায় গতকাল কলেজিয়েট স্কুলের প্রধান শিক্ষক দেবব্রত দাশ এই দুজনকে শোকজ করেন।

শোকজ প্রাপ্তরা হলেন কলজিয়েট স্কুলের সহকারী শিক্ষক আনোয়ার হোসেন ও একই স্কুলের উচ্চমান সহকারী ফারুক আহমেদ।

শোকজের লিখিত জবাব দিতে দুজনকেই শনিবার (আজ) পর্যন্ত সময় দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন কলেজিয়েট স্কুলের প্রধান শিক্ষক দেবব্রত দাশ।

এর আগে স্কুলের কম্পিউটার অপারেটর মো. রিদুয়ানকে শোকজ করে স্কুল কর্তৃপক্ষ। গতকাল এ বিষয়ে লিখিত ব্যাখ্যা জমা দেয় রিদুয়ান।

রিদুয়ানের প্রদত্ত ব্যাখ্যায় এই দুজনের সম্পৃক্ততা থাকতে পারে বলে কিছুটা ধারণা করছে স্কুল কর্তৃপক্ষ।

দুজনকে শোকজ ও রিদুয়ানের লিখিত এ তথ্যের বিষয় স্কুলের প্রধান শিক্ষক দেবব্রত দাশ নিশ্চিত করেছেন। হার্ড কপি বাসায় নিয়ে যাওয়ায় এই দুজনের কেউ ফলাফল ফাঁসের সাথে জড়িত থাকতে পারেন বলেও ধারণা তিনি।

রিদুয়ানের প্রদত্ত ব্যাখ্যার ভিত্তিতেই অপর দুজনকে শোকজ করা হয়েছে বলেও জানান স্কুলের প্রধান শিক্ষক।

নাম প্রকাশ না করা একটি সুত্র জানায়, ভর্তি পরীক্ষায় ফলাফলের সাথে অবৈধ একটি গোপন লেনদেন হয়েছে ।

চকবাজার এলাকার ঐ বাবলা নামক কোচিং শিক্ষক অভিভাবকদের কাছ থেকে কলেজিয়েটে ভর্তিতে পাশ করিয়ে দেবেন বলে অগ্রীম মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।

যার কন্টারের ৫০% টাকা অভিভাবকেরা ফলাফল দেখে পরিশোধ করতে চাইলে, স্কুলের ফলাফলের পুর্বেই প্রকাশ করে বাকি ৫০% টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। এবং পরীক্ষায় ও একটি গোপন কোড ব্যবহার করেছে।

যার কারণে অনেক ভালো ছাত্র আসেনি ফলাফলে। বিষয়টি অধিকতর তদন্তের দাবি জানিয়ে পুনরায় পরীক্ষা নেবার আহ্বান করেন।

কর্ণফূলী এলাকার মোঃ জসিম উদ্দিন নামে এক ছাত্রের অভিভাবক জানান, ফলাফল পাশের সাথে পরীক্ষার কোন অনৈতিক যোগসুত্র থাকতে পারে। কেননা আমার ছেলে এতো ভালো পরীক্ষা দিলেন তবে ফলাফলে দেখা গেলো ওয়েটিং লিস্টে। যা মেনে নিতে পারছিনা”।

একই অভিযোগ করে মাহবুবা সুলতানা শিউলি নামক আরেক অভিভাবক জানান, বড় দুঃখজনক একটা সরকারী স্কুলের ফলাফল পুর্বেই ফাঁস হয়। আর ভালো ছাত্রদের ফলাফল যদি তালিকায় না আসে”।

অন্যদিকে এ বিষয়ে স্কুলের সহকারী প্রধান শিক্ষক মোঃ আবু তালেব এর সাথে কথা হলে তিনি জানায়,বিষয়টি খুবই দুঃখজনক এবং অপরাধমুলক কাজ। একটা সরকারী স্কুলের ফলাফল প্রকাশের আগেই একটা কোচিং সেন্টারের শিক্ষক কিভাবে তা পেলেন ও ফাঁস করলেন সেটা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

আরেক প্রশ্নের জবাবে আরো জানান,এসব কোচিং সেন্টার গুলো নগরীতে স্কুলের পরিবেশটাই নষ্ট করছে কেননা এখন ছাত্রছাত্রী স্কুলে না এসে,এসব ইন্টারমিডিয়েট পাশ করা বাবলা স্যারদের কোচিং সেন্টার ভীড় করছে। যা বড় দুঃখজনক বলে মন্তব্য করার সাথে সাথে স্কুলকলেজ চলাকালীন সময়ে সব কোচিং সেন্টার বন্ধের অনুরোধ জানান তিনি।

ফলাফল ফাঁসের সাথে পরীক্ষার কোন যোগসুত্র রয়েছে কিনা অনেকের এমন অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে স্কুলের প্রধান শিক্ষক দেবব্রত দাশ জানান, “না ফলাফল প্রকাশের সাথে পরীক্ষার কোন সম্পর্ক নেই। রেজাল্ট সম্পুর্ন তৈরি হবার পর কিভাবে তা একটা কোচিং সেন্টারে রাত ১১.৩৫ মিনিটে প্রকাশ করে তা আমাদের বোধগম্য নয়। তবে বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে শোকজ ও করা হয়েছে”।

তবে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় এর এক শিক্ষক জানান, এসব ভর্তি পরীক্ষা কেন নেওয়া হয় আর মুল্যায়ন কোন পর্যায়ে তার সঠিক ব্যাখা তিনি জানেন না। ভর্তি পরীক্ষার নামে ছোট ছেলেমেয়েদের মগজ ধোলাইয়ের আরেক নাম ভর্তি পরীক্ষা বলে উল্লেখ করেন তিনি”।

Comments are closed.