চট্টগ্রামে হাসপাতালের ফ্রিজে রক্তের ব্যাগের সঙ্গে মাছ-মাংস!

ওয়ান নিউজঃ  অপারেশন থিয়েটারে মেয়াদোত্তীর্ণ ইনজেকশন। ড্রাগ ব্যবহার করে করা হচ্ছে অপারেশন।

ওটিতে কাতরাচ্ছেন রোগী। অথচ চিকিৎসক ডাক্তার নেই। অস্বাস্থ্যকর-নোংরা পরিবেশে চালানো হচ্ছে অপারেশন। ফার্মেসিতে পাওয়া গেছে মেয়াদোত্তীর্ণ ও লেবেলবিহীন ওষুধ। ফ্রিজে রক্তের ব্যাগের সঙ্গে রাখা হয়েছে মাছ-মাংস।

চট্টগ্রাম নগরের চট্টেশ্বরী রোডের কসমোপলিটান হসপিটালের চিত্র এটি।

বুধবার দুপুরে জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত এ চিত্র দেখতে পান। এ সব অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটিকে তিন লাখ টাকা জরিমানা এবং তিনজনকে আটক করা হয়েছে। অভিযান পরিচালনা করেন জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তানিয়া মুন।

একই ভ্রাম্যমাণ আদালত হালিশহরের হিউমান প্যাথোলজি ও  ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযানে দেখা যায়, মেয়াদোত্তীর্ণ রি-এজেন্ট ব্যবহার করে চলছে রোগ নির্ণয়, ফ্রিজে ওষুধের সঙ্গে রাখা হয়েছে মাংস। রেডিওলজি টেকনিশিয়ানের নেই কোনো প্রশিক্ষণ এবং অভিজ্ঞতা সনদ। এ সব অনিয়মে প্রতিষ্ঠানটিকে পৃথক মামলায় দুইলাখ পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তানিয়া মুন বলেন, একটি হসপিটাল এবং প্যাথলজি ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অভিযান পরিচালনা করা হয়। সেখানে এত ভয়ানক অনিয়ম, যা অবিশ্বাস্য। নানা অনিয়মের কারণে একটি প্রতিষ্ঠানকে তিন লাখ টাকা জরিমানা এবং অন্য প্রতিষ্ঠানকে দুই লাখ পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

অভিযানে থাকা সিভিল সার্জনের প্রতিনিধি মেডিকেল অফিসার ডা. মো. নুরুল হায়দার বলেন, ‘ওটিতে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ প্রাণঘাতী। এসব ব্যবহারে রোগীর মৃত্যুও হতে পারে। এছাড়া নোংরা এবং অস্বাস্থ্যকর যে পরিবেশ পাওয়া গেছে কসমোপলিটন হাসপাতালে, তা রোগীদের জন্য মারাত্মক ঝুকিপূর্ণ। ’

অভিযানে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন কার্যালয়ের প্রতিনিধি মেডিকেল অফিসার ডা. মো. ওয়াজেদ চৌধুরী অভি, ওষুধ তত্ত্বাবধায়ক গুলশান জাহান প্রমুখ।

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.