গোয়ালন্দে স্বাস্থ্যবিধি মেনেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ক্লাস শুরু

মোজাম্মেল হক, গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী):
দীর্ঘ ১৭ মাস২৬ দিন পর শুরু হয়েছে দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাঠদান কার্যক্রম। তারই ধারাবাহিকতায় আজ রবিবার (১২সেপ্টেম্বর) রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ উপজেলার সকল বিদ্যাপিঠে সরকারের বেঁধে দেওয়া নির্দেশনা মোতাবেক স্বাস্থ্য বিধি নিশ্চিত করে ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে চলছে পাঠদান কার্যক্রম। শিক্ষার্থীদের পদচারনায় আবার মুখরিত হয়ে উঠেছে প্রতিটি বিদ্যাপ্রাঙ্গন। অনেকদিন পর প্রিয় বিদ্যাপিঠে আসতে পেরে উচ্ছ্বসিত ও উৎফুল্ল শিক্ষার্থীরা।
উপজেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, বিদ্যাপিঠগুলো খোলার অনেক আগেই থেকেই উপজেলার সরকারি ৯৭ টি প্রাথমিক বিদ্যালয়,২১টি কিন্ডারগার্টেন, মাধ্যমিক ১১টি, মাদ্রাসা ৬টি, কলেজ ৫টি ও ২টি কারিগরি কলেজসহ সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষরা প্রতিষ্ঠান প্রাঙ্গন ও পাঠদানের কক্ষ পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন করাসহ অন্যান্য সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান গেইটে শিক্ষার্থীদের মাস্ক প্রদান, স্প্রে করা, ও শরীরের তাপমাত্রা পরিমাপ করে কক্ষে প্রবেশ করানো হচ্ছে। এছাড়াও প্রতিটি কক্ষে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে ২০জন করে শিক্ষার্থীদের বসানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে।
উজানচর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৫ম শ্রেণির শিক্ষার্থী রাহেলা, আফসানা সহ অনেকেই জানায় দীর্ঘীদন পরে প্রিয় স্কুলে আসতে পেরে তারা খুবই খুশি। সকল স্বাস্থ্যবিধি মেনেই শিক্ষকরা তাদের শ্রেনিকক্ষে প্রবেশ করিয়েছে। এভাবেই তারা আগামীতেও স্কুলে আসতে চায়।
উজান চার মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বাবর আলী বলেন আমরা পাঠদানের শুরুতেই শিক্ষার্থীদের প্রথমেই করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে অবশ্যই করনীয় বিধি ও সরকারের নির্দেশনাগুলো ভালো ভাবে বুঝিয়ে দিচ্ছি। প্রতিদিন বিভিন্ন শ্রেণির শিক্ষার্থীদেরকে আপাতত সকাল সাড়ে ৯টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত এই পাঠদান কার্যক্রম চলবে। এরপর তাদের পাঠদানের কার্যক্রম শুরু করা হচ্ছে। আমরা আগেই প্রতিটি শ্রেণি কক্ষ জীবানুনাশক দিয়ে পরিস্কার করেছি। সামসাজিক দূরত্ব বজায় রাখার জন্য বেঞ্চে চিহ্নত করেছি।
সরকারি ওয়াজেদ চৌধুরী টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ সমর কান্তি হালদার বলেন, আমরা সরকারের সকল নির্দেশনা মোতাবেক শিক্ষার্থীদের শ্রেণি কক্ষে প্রবেশ করিয়ে সরকারের প্রদান করা রুটিন মাফিক পাঠদান কার্যক্রম পরিচালনা করছি। শিক্ষার্থীসহ আমরা শিক্ষকরা খুবই আনন্দিত বহুদিন পর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আসতে পেরে। আগামীতেও আমাদের এই ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মাসুদুর রহমান বলেন, সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করে উপজেলার সকল বিদ্যাপিঠে পাঠদান কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। আগামীতেও সকল স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দূরত্ব এবং সরকারের জারি করা নির্দেশনা মোতাবেক প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাঠদানের জন্য স্ব স্ব বিভাগকে কঠোর ভাবে নির্দেশনা প্রদান করেছি।

মন্তব্য করুন

আমরা সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্র রিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোন মন্তব্য বা বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোন ধরনের আপত্তিকর মন্তব্য বা বক্তব্য সংশোধনের ক্ষমতা রাখেন।

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.