গফফার সরদারের তান্ডবে দক্ষিণ শার্শার পুটখালীবাসী আতঙ্কিত

অধিকাংশ জনপদ ও হাটবাজার ফাঁকা

যশোর অফিস: আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দক্ষিণ শার্শার পুটখালী জনপদ আতঙ্কিত করে তুলেছেন চেয়ারম্যান প্রার্থী আব্দুল গফফার সরদার। এলাকার মানুষের কাছে নিজের গ্রহনযোগ্যতা না থাকায় গত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে তিনি নৌকা প্রতিক নিয়ে বিপুল ভোটের ব্যবধানে হেরে যাওয়ায় এবার বিজয় নিশ্চিত করতে তিনি নৌকা প্রতিককে কলুশিত করে এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের নিয়ে পুটখালীর জনপদে তান্ডব চালিয়ে সন্ত্রাসীর রামরাজত্ব কায়েম করে চলেছেন। যে কারণে দিনের বেলায়ই অধিকাংশ জনপদ ও হাটবাজার ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ শান্তিপ্রিয় পুটখালীবাসীর।

স্থানীয়রা জানান, আগামী ২৮ নভেম্বর পুটখালী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আব্দুল গফফার সরদারের চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা এলাকায় অস্ত্রের মহড়ার সাথে মুহুর মুহু বোমা বিষ্ফোরণ আর গুলির শব্দে এলাকাবাসীকে আতঙ্কিত রেখে ঘুমহারা করেছে। একই সাথে গফফার বিরোধী শান্তিপ্রিয় জনগনকে পিটিয়ে ও বাড়িঘর ভাংচুর করে বাড়িছাড়া করেছে। অনেককে আবার জীবননাশের হুমকি দিয়ে অবরুদ্ধ করেছে যার যার নিজ বাড়িতে। জনমনে ত্রাস! এই বুঝি গফফার বাহিনীর সন্ত্রাসীরা এলো। কখন জানি কোন মায়ের বুক খালি হলো, কখন জানি কোন সন্তান পিতৃহারা বা কোন স্ত্রী বিধবা হয়। মনে শান্তি নেই, আতঙ্কিত তন্দ্রা, মনে শুধু ভয় আর ভয়। অত্যাচারি গফফার সরদারের ২৮ তারিখের ভোট কবে পার হবে এই নিয়ে সংশয় জনমনে বিরাজ করছে।

কথা হয় গফফার সরদারের সন্ত্রাসী কর্তৃক সদ্য (২১ নভেম্বর, রবিবার দুপুরে) ছুরিকাঘাতে রক্তাক্ত পুটখালী ইউনিয়নের শিবনাথপুর বারপোতা এলাকার সালাউদ্দিনের স্ত্রী ফতেমার সাথে। তিনি বলেন, আমার ছেলে চেয়ারম্যান প্রার্থী নাসির উদ্দিনের আনারস মার্কার পোস্টার টাঙানোয় গফফার সরদারের সন্ত্রাসীরা আমাদের বাড়িতে এসে ছেলেকে খোজ করে। আমি কারণ জিজ্ঞাসা করলে তারা চুলের মুঠি ধরে এলোপাতাড়িভাবে আমাকে মারধর করে এবং তাদের হাতে থাকা ছুরি দিয়ে রক্তাক্ত জখম করে। এসময় আমার স্বামী প্রতিবাদ করলে তাকেও মারধর করতে যায়। একপর্যায়ে আমরা স্বামী-স্ত্রী বাড়ির পাশের খালে ঝাপ দিয়ে সাতারকেটে এপারে পালিয়ে আসি। এ সংবাদ লেখা পর্যন্ত তিনি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছিলেন এবং আইনের আশ্রয়ে যেতে পারেননি।

কথা হয় পুটখালী ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সভাপতি বালুন্ডা গ্রামের বাসিন্দা মিজানুর রহমানের সাথে। তিনি বলেন, পুটখালী ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের বিতর্কিত সভাপতি ও চেয়ারম্যান প্রার্থী আব্দুল গফফার সরদার এবারের নির্বাচনে অবৈধপন্থায় জয়লাভ করতে এলাকার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী ও ডাবল হত্যা মামলার আসামী ইয়াব আলী, বদিয়ার, শফিক, কামরুল, আকরমসহ অগনিত সন্ত্রাসীদের সাথে নিয়ে সন্ত্রাসীর রাজত্ব কায়েম করায় আমরা তার থেকে মুখ ফিরিয়ে নেই। যে কারণে গফফার সরদার ক্ষিপ্ত হয়ে দিনে-দুপুরে আমার বাড়িসহ আমার ছেলের বাড়ি ও এলাকার অনেক গুলি বাড়ি ভাংচুর করে। সেই সাথে বালুন্ডা গ্রামের তবিবরের ছেলে তরিফকে মেরে দাঁত ভেঙে দেয়। পিটিয়ে আহত করে আশরাফ আলী হরকরার ছেলে শফিকুর রহমান ও মোহাম্মদ আলীর ছেলে বাবুকে। যাদের ভয়ে তিনি নিজেও বাড়িছাড়া হয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন বলে জানালেন এই আওয়ামীলীগ নেতা।

কথা হয় পুটখালী ইউনিয়ন আওয়ামী যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ও শিবনাথপুর গ্রামের মমিন মেম্বরের সাথে। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামীলীগ থেকে মুখ ফিরিয়ে চলা ও দীর্ঘ ২ বছর যাবত করোনা মহামারীর সময় এলাকাবাসীর পাশে না থাকা গফফার সরদার হঠাৎ নির্বাচন করতে আসায় পুটখালীবাসী তা মনেপ্রাণে মেনে নিতে পারেনি। যেকারণে আমরা দূর্দিনের কান্ডারি, করোনা মহামারীর সময় এলাকাবাসীর পাশে থেকে অন্ন-বস্ত্রের সহযোগিতাকারি নাসির উদ্দিনের পক্ষ নিয়ে তার আনারস প্রতিকে চেয়ারম্যান নির্বাচন করায় তা মেনে নিতে পারেননি গফফার সরদার। সে কারণে আমার বাড়িতে আগুন জালিয়ে এবং আমার পরিবার পরিজনের লাঠিপেটা করে রেখেছে তার পোষ্য সন্ত্রাসীরা। গত তিনদিন যাবত তিনি ভয়ে বাড়িতে যেতে পারছেন না বলে জানালেন এই যুবলীগ নেতা।

আসন্ন ২৮ নভেম্বর পুটখালী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এলাকার সহিংসতা নিয়ে কথা হয় আনারস প্রতিক নিয়ে নির্বাচনকারি চেয়ারম্যান প্রার্থী নাসির উদ্দিনের সাথে। তিনি বিষ্ময় প্রকাশ করে বলেন, এলাকাবাসীর দাবির মুখে তিনি নৌকার বিপক্ষে নয়, গফফার সরদারের বিপক্ষে চেয়ারম্যান প্রার্থী হউন। এই মানুষটি যে এতো খারাপ প্রকৃতির আর এই নির্বাচনে এতো প্রহসন তা জানলে তিনি নির্বাচন করতে আসতেন না। মনে হচ্ছে নির্বাচন থেকে সরে যেতে, তারপরেও এলাকাবাসীর কাকুতি-মিনতির কারণে সরতে পারছিনা। পুটখালী ইউনিয়নের সর্বত্রই চলছে নৌকাকে অপব্যবহার করে এলাকাবাসীর উপর যুলুম-নির্যাতন। খুবই ভয়ে আছি, কখন না জানি কোন মায়ের বুক খালি করে ওই কূ-চক্রী গফফার সরদারের সন্ত্রাসীরা। তারপরে আবার নৌকার প্রার্থীর বিপক্ষে নির্বাচন করায় তারা সাজানো নাটকে মুহুর-মুহু বোমা ও গুলির বিষ্ফোরণসহ নানা অপকর্ম ঘটিয়ে আমার সমর্থকদের উপর হামলা-মামলা করছে।

বেনাপোল পোর্ট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মামুন খান বলেন, পুটখালী ইউনিয়ন শান্ত।

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.