খালেদাকে প্রশ্ন রোহিঙ্গাদের কোন ব্যবস্থা যথাযথ হয়নি ? মাহাবুব উল আলম হানিফ,  

 

 

ওয়ান নিউজঃ

বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ কুষ্টিয়া জেলা শাখার ত্রিবার্ষিক সম্মেলন আজ ৩১শে অক্টোবর রোজ মঙ্গলবার সাকল ১০টায় কুষ্টিয়া জেলা ষ্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব উল আলম হানিফ, সম্মেলন উদ্বোধন করবেন যুবলীগ চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ওমর ফারুক চৌধুরী, প্রধান বক্তা সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব মোঃ হারুনুর রশীদ। এ সময় প্রধান অতিথির বক্তব্যে  বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব উল আলম হানিফ বলেন বেগম খালেদা জিয়া ত্রাণ দিয়ে তিনি বললেন, রোহিঙ্গাদের জন্য নাকি সরকার যথাযথ ব্যবস্থা করেন নাই। কি ব্যবস্থা করা হয় নাই। বেগম খালেদা জিয়াকে জিজ্ঞাসা করতে চাই কোন ব্যবস্থাটায় আপনি দেখলেন যথাযথ হয় নাই? রোহিঙ্গাদের আশ্রয় ক্যাম্প বানিয়ে দেয়া হয়েছে, তাদের তিন বেলা খেতে দেয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে, তাদের নিবন্ধন করা হয়েছে, সেনিটেশনের ব্যবস্থা করা হয়েছে, নামাজের জন্য মসজিদ তৈরি করে দেয়া হয়েছে, চিকিৎসার জন্য ক্যাম্প বসানো হয়েছে। সকল কিছুর ব্যবস্থা তাদের (রোহিঙ্গা) জন্য করা হয়েছে। আর কোন ব্যবস্থা বাকি আছে? যখন সরকারের এই  সব পদক্ষেপকে আন্তর্জাতিকভাবে গোটা বিশ্ববাসী প্রশংসা করছেন, জাতিসংঘ যখন মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ দিচ্ছেন কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছেন। সবাই যখন প্রশংসা করছেন রোহিঙ্গাদের জন্য সুব্যবস্থা করার জন্য তখন বেগম খালেদা জিয়া কোন কিছু খুজে না পেয়ে বললেন যথাযথ ব্যবস্থা করা হচ্ছেনা। এই ধরণের মিথ্যাচার বন্ধ করুন। এই মিথ্যাচার করে, সরকারের বিরুদ্ধে বিষাদগার করে আর কোন লাভ হবে না। ঢাকা থেকে দেড়শর উপরে গাড়ি নিয়ে বহর সাজিয়ে উনি শুরু করলেন রাজনৈতিক শো ডাউন। রাস্তায় রাস্তায় বরণ করে নিলেন উনার দলীয় নেতাকর্মীরা। এইটা মানবতার মধ্যে পড়ে না ত্রাণ দেয়ার মধ্যে পড়ে আমার জানা নেই। উনি একশ টন চাল, যার দাম হয় হয়তোবা ত্রিশ থেকে পয়ত্রিশ লক্ষ টাকা, সেই চাল বিতরণ করতে গিয়ে দেড়শ গাড়ির বহর নিয়ে উনি প্রায় এক কোটি টাকা খরচ করলেন। পচিশ লক্ষ টাকার ত্রাণ দিচ্ছেন উনি এক থেকে দুই কোটি টাকা খরচ করে, এগুলো হচ্ছে রাজনৈতিক শোডাউন দেয়া। বেগম খালেদা জিয়া এক বেলা খাবার দিচ্ছেন পাঁচ বেলার খাবার নষ্ট করে, ধ্বংস করে। এটাই হচ্ছে উনার মানবতা। যাওয়ার সময় উনার পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী একটা ইস্যু তৈরি করতে চেষ্টা করেছেন। আমরা বলেছিলাম যে ত্রাণ দিতে যাবেন আপনি কক্সবাজারে…. আপনি নিজেই  বলেছিলেন আপনি অসুস্থ, তিন মাস লন্ডনে থেকে চিকিৎসা করিয়েছেন। আর এখন এসে আপনি লম্বা রাস্তায় গাড়িতে যাবেন! আপনিতো বিমানে যেতে পারতেন!  উনি বিমানে গেলেন না, বাই রোডে গেলেন। উনার আসলে তো ত্রাণ দেয়াটা মুখ্য নয়। উনার মুখ্য ছিল রাজনৈতিক শোডাউন করার। আর একটা ইস্যু তৈরি করা, যাতে সরকারের বিরুদ্ধে একটা আন্দোলন করা যায়।

 

সেই ইস্যুটা কি সেটি আপনারা ইতিমধ্যেই দেখেছেন। উনি যাওয়ার পথে ফেনীতে উনার গাড়ি বহরের    পেছনে সাংবাদিকদের গাড়িতে কিছু ডিল পাটকেল মেরে হামলা করে সাংবাদিকদের গাড়ি ভাংচুর করা       হয়েছে।  সঙ্গে সঙ্গে বিএনপি থেকে বলা হলো যে আওয়ামী লীগ যুবলীগের লোকজন এই  হামলা করেছে। আমরা তো অবাক হয়ে গেলাম! কি কারণে  যুবলীগ ছাত্রলীগের ছেলেরা গাড়ি বহরের শেষে থাকা সাংবাদিকদের গাড়ি বহরে হামলা করবে? পরে খুজে খুজে পাওয়া গেল বিএনপির চট্টগ্রামের মহানগরের সভাপতি  ডাঃ শাহাদাত হোসেন, উনি উনার ফেনীর এক নেতাকে টেলিফোনে বলছেন কিভাবে হামলা করতে হবে।

 

এটা পরিকল্পিত ভাবে এই  হামলা করে বিএনপি রাজনৈতিকভাবে একটা ইস্যু তৈরি করতে চায়। সরকারের বিরুদ্ধে বিএনপির অভিযোগ করার কিছু নেই, সরকারের বিরুদ্ধে জনগণের বিপক্ষে কথা বলার কিছু নেই। সেই  কারণে বিএনপি পরিকল্পিতভাবে নিজ গাড়ি বহরে হামলা করে রাজনৈতিক ইস্যু করে তারা ঘোলা পানিতে মাছ স্বীকার করতে চায়।

 

বিএনপির আরেক নেতা, উনি ঢাকায় মানববন্ধন করেছেন খালেদার গাড়ি বহরে হামলা হয়েছে সেটার প্রতিবাদে। এবং বললেন ফেনী জেলা হচ্ছে সন্ত্রাসীদের ফ্যাক্টরি। আমি রুহুল কবির রিজভীর সঙ্গে সম্পূর্ণ একমত। কারণ এই ফেনী জেলা আপনার নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জেলা। যে দলটির জন্ম সন্ত্রাসী কর্মকান্ডর মাধ্যমে সেই  দলের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া সন্ত্রাসের রাণী হিসেবে চিহ্নিত হয়েছেন বহু সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের কারণে। তার জেলা সন্ত্রাসীদের ফ্যাক্টরী হবে না তো কোন জেলা সন্ত্রাসীদের ফ্যাক্টরী হবে। আজকে আপনার নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জেলা হিসেবে আপনারা সন্ত্রাসের কারখানা বানিয়ে ফেলেছেন ফেনী জেলাকে। এবং সেই  সন্ত্রাসের ধারাবাহিকতা বার বার আমাদেরকে বিব্রতকর অবস্থায় ফেলে দিচ্ছে।

 

যুবলীগ চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ওমর ফারুক চৌধুরী বলেন, জাতি হিসেবে আমদের সৌভাগ্য আমরা শেখ   হাসিনার মত একজন নেতা পেয়েছি। শেখ হাসিনা বিশ্ব মানবতার প্রতীক। আমেরিকার সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা শান্তিতে নোবেল পেয়েছেন, কিন্তু তার কোন শান্তির দর্শন নেই। যারাই  শান্তিতে নোবেল  পেয়েছেন তাদের কারো ফিলোসফি নেই।  একটি মাত্র ফিলোসফি যেটাকে বিশ্বের একশ তিরানব্বইটা রাষ্ট্র স্বীকৃতি দিয়েছেন, সেটা হচ্ছে রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার ফিলোসফি জনগণের ক্ষমতায়ন। শান্তি আনতে হলে জনগণকে প্রধান্য দিতে হবে, জনগণের মতামতকে সস্পৃক্ত করতে হবে। জনগণ যত বেশি সমৃদ্ধ হবে দেশ ততো এগিয়ে যাবে। শুধু মাত্র অবকাঠামোগত উন্নয়নের কথা বললে হবে না, মানবিক উন্নয়ন, বিবেকের উন্নয়নের কথা বেশি বেশি প্রচার করতে হবে। যেখানে জনগণ ক্ষমতায়িত হচ্ছে আমরা আওয়ামী যুবলীগ সেই উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার লক্ষ্যে কাজ করছি। এখন আওয়ামী লীগ গাছের পাতায় পাতায়। আগে ছিল ডালে ডালে। এই জিয়াউর রহমান প্রথম সামরিক শাসন চালু করেছিল। আর প্রধান নির্বাচন      কমিশনার বললো জিয়াউর রহমান গণতন্ত্রের পুন:প্রতিষ্ঠা করেছে। আর আমরা সবাই চুপ, ভদ্র লোক হয়ে গেছি।  সামরিক ক্যু করেছে জিয়াউর রহমান। ষড়যন্ত্র আর ক্যু ছাড়া আর বিএনপির কিছুই না। বিচারপতির ক্যু করলো এই বেগম খালেদা জিয়া।  আবার প্রধান বিচারপতিরে দিয়ে… একক ডাকে নাকি দেশ স্বাধীন হয়নি। মক্কা মোয়াজ্জেমায় লক্ষ লক্ষ লোকের ইমামতি করছেন একজন ইমাম। নামাজে ইমাম সাবেব কি পড়ছেন আপনি কি জিজ্ঞাসা করেছেন? আমরা মুসলমানরা এটি মানি মানবো। এখন শুরু করেছেন রোড শো। মানবতার নাম নিয়ে প্রহসন করা বিএনপির কাজ। তারা রিলিফ দিতে গেল বিশাল গাড়িবহর নিয়ে।  এগুলোর কি দরকার? আপনি কত টাকার রিলিফ দিয়েছেন? আর রোডশোতে কত টাকা খরচ করলেন? অর্থাৎ বেগম খালেদা জিয়া ত্রাণ প্রহসনের  নামে মানবতার চরম অপমান করেছেন। আপনি (খালেদা জিয়া) এই যে ত্রাণ প্রহসন করেছেন এটাকি মানবতার অপমান না? এটি কি রোহিঙ্গাদের তামাশার সঙ্গে  তামাশা করা নয়? ভাগ্যহত মানুষগুলোর সঙ্গে প্রতারণা নয়? তিনি যদি মানবিক বোধ সম্পন্ন মানুষ হতেন তাহলে এমনটি করতে পারতেন না।  তিনি ধর্মের নামে অধর্মের নোংরা রাজনীতি করতে পারতেন না। তিনি বলেছেন তার নাকি পায়ে ব্যাথা। পায়ে ব্যাথা থাকা অবস্থায় তিনি কি করে এত দূরের পথ গেলেন সেটি মানুষের কাছে পরিস্কার হয়ে গেছে। তিনি যদি ত্রাণ দেয়ার উদ্দেশ্যে যেতে চাইতেন তাহলে হেলিকপ্টারে বা বিমানে যেতে পারতেন। ত্রাণ দেয়ার নামে যে মানুষের যাতায়াতের বিঘœ সৃষ্টি করা এ দায় তিনি এড়াতে পারেন না।

কুষ্টিয়া জেলা যুবলীগের আহবায়ক রবিউল ইসলাম এর সভাপতিত্বে আরো বক্তব্য রাখেন কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি আলহাজ্ব সদর উদ্দিন খাঁন, সাধারণ সম্পাদক মোঃ আজগর আলী সাধারণ সম্পাদক, কুষ্টিয়া জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোঃ রবিউল ইসলাম, কুষ্টিয়া ৪ এর এমপি আব্দুর রউফ, কুষ্টিয়া ১ এর এমপি আলহাজ্ব রেজাউল হক চৌধুরী, কুষ্টিয়া মেয়র মোঃ আনোয়ার আলী, যুবলীগ প্রেসিডিয়াম সদস্য শহীদ সেরনিয়াবাত, মোঃ ফারুক হোসেন, মাহবুবুর রহমান হিরন, মোঃ জাকির হোসেন খাঁন, যুগ্ম সম্পাদক মহিউদ্দিন আহম্মেদ মহি, মঞ্জুর আলম শাহীন, সাংগঠনিক সম্পাদক মুুহা: বদিউল আলম, আসাদুল হক আসাদ, সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য কাজী আনিসুর রহমান, মিজানুল ইসলাম মিজু, আনোয়ার হোসেন, ইকবাল মাহমুদ বাবলু, শ্যামল কুমার রায়, ঢাকা মহানগর উত্তর সভাপতি মাইনুল হোসেন খান নিখিল, সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসেন, দক্ষিন ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাইনুদ্দিন রানা, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম রেজা, ঢাকা জেলা সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান প্রমুখ।

Comments are closed.