কেশবপুরে মাতৃমঙ্গল ক্লিনিকে ভুল চিকিৎসায় রোগির মৃত্যু সাংবাদিক লাঞ্চিত

ইয়ানূর রহমান : যশোরের কেশবপুর শহরের মাতৃমঙ্গল ক্লিনিকে আবারও ডাক্তারের ভুল চিকিৎসায় রোগীর মৃত্যু হয়েছে। এ ব্যাপারে সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে এক সাংবাদিককে লাঞ্ছিত করা হয়েছে। এ ঘটনায় ওই সাংবাদিক কেশবপুর থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন।

জানা গেছে, উপজেলার বিদ্যানন্দকাটী ইউনিয়নের হাড়িয়াঘোপ ামের হাজের আলী মোড়ল শনিবার অসুস্থ হয়ে পড়লে কেশবপুর শহরের হাসপাতাল সড়কের মাতৃ মঙ্গল ক্লিনিকে ভর্তি করেন। কিন্তু ওই ক্লিনিকে সার্বক্ষনিক কোন এমবিবিএস ডাক্তার না থাকায় ক্লিনিক মালিক আশরাফুন্নাহারের স্বামী উপজেলার ত্রিমোহিনী ইউনিয়ন উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার ডা. নজরুল ইসলাম তার চিকিৎসা করেন। ভুল চিকিৎসা দেওয়ায় সন্ধ্যার পর ওই রোগীর মৃত্যু হয় বলে অভিযোগ উঠে। রাতে এ সংবাদ পেয়ে যশোরের দৈনিক কল্যাণ পত্রিকার কেশবপুর প্রতিনিধি আজিজুর রহমান সংবাদ সংগ্রহের জন্য ক্লিনিকের সামনে গেলে ক্লিনিক মালিকের স্বামী ডা. নজরুল ইসলাম তাকে শারীরিক ভাবে লাঞ্ছিত এবং তার ক্যামেরা ভাংচুর করেন। এ সময় ওয়ান নিউজ বিডি’র কেশবপুর প্রতিনিধি আব্দুল্লাহ আল ফুয়াদ সহ স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করেন। পরে আহত ওই সাংবাদিক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন।

সাংবাদিক লাঞ্ছিতের সংবাদ পেয়ে ওই রাতেই কেশবপুর থানার ওসি তদন্ত ফোর্স নিয়ে ওই ক্লিনিকে গেলে তার আগেই ডা. নজরুল ইসলাম সহ অন্যরা তালা লাগিয়ে পালিয়ে যায়।
ইতিপূর্বেও মাতৃ মঙ্গল ক্লিনিকে ভুল চিকিৎসায় একাধিক রোগীর মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু প্রশাসন কড়া পদক্ষেপ না নেওয়ার ফলে ওই ক্লিনিকে থামছেনা রোগী মৃত্যুর ঘটনা।

উল্লেখ্য, এমবিবিএস পাশ না করেও ইউনিয়ন উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার নজরুল ইসলাম, ফিরোজ কবিরসহ এ ধরণের অনেকেই দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে অপারেশন করে থাকেন বিভিন্ন ক্লিনিকে। তাদের ভুল অপারেশনে বহু রোগীর মৃত্যু ঘটেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

২০১৩ সালের ৩০ এপ্রিল ডা. নজরুল ইসলাম রাজগঞ্জের একটি ক্লিনিকে অবৈধভাবে অপারেশন করার সময় যশোরের সিভিল সার্জনসহ মনিরামপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার তাকে ঘটনাস্থলেই ধরে ফেলে এবং ভ্রাম্যমান আদালত বসিয়ে ১৫ দিনের কারাদন্ড প্রদান করে জেল হাজতে প্রেরন করেন। ওই সময় মনিরামপুর থানায় ১৮/২০১৩ নং মামলা হয়। যে কারণে ০৪/০৬/১৩ তারিখে ৭২২নং স্মারকে ডা. নজরুল ইসলামকে চাকুরী থেকে সাময়িক ভাবে বরখাস্ত করা হয় এবং সরকারী কর্মচারী বিধিমালা ১৯৯৮ এর ধারা মোতাবেক অসদাচরণের দায়ে ৭৮১ নং স্মারকে ২৫/০৭/২০১৩ তারিখে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা রজু হয়।

এ ছাড়া তিনি সুফলাকাটি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য উপকেন্দ্রে দায়িত্ব পালন কালে এক গৃহবধূর সাথে অসদাচরণের কারণে তার বিরুদ্ধে এলাকাবাসি ফুসে উঠেছিল। ওই ঘটনায় সে সময় তার বিরুদ্ধে মিছিল, সমাবেশ ও মানববন্ধনও পালিত হয়েছিল।

এ দিকে রোববার বিকেলে লাঞ্ছিত সাংবাদিক আজিজুর রহমান বাদি হয়ে ডা. নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করেন। এ ব্যাপরে ডা. নজরুল ইসলাম বলেন, ওই সাংবাদিককে লাঞ্ছিত বা ক্যামেরা ভাংচুর করা হয়নি। তার হাত ধরে টেনে ক্লিনিকের ভেতরে আনার চেষ্টা করা হয়েছে মাত্র। আমার এলাকার মানুষ অসুস্থ হাজের আলী শ্বাসকষ্টের রোগী ছিল। খুলনায় নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়েছে।

কেশবপুর থানার ওসি (তদন্ত) শাহজাহান আহম্মেদ বলেন, রাতে সাংবাদিক লাঞ্ছিতের সংবাদ পেয়ে দু’জন অফিসারসহ ঘটনাস্থলে যেয়ে ক্লিনিক তালাবদ্ধ দেখি। ওই ঘটনায় থানায় দাখিলকৃত অভিযোগ তদন্ত পূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Comments are closed.