কাবা শরিফ তাওয়াফ করার নিয়ম

ওয়ান নিউজ ডেক্সঃ হজের গুরুত্বপূর্ণ রোকন তাওয়াফ। তাছাড়া হজ নির্দিষ্ট ৫ দিনে সম্পন্ন হয়। কিন্তু হজের সফরে হাজিগণ দীর্ঘ দিন মক্কায় অবস্থান করে। এ সময়ে প্রতিনিয়ত তাঁরা তাওয়াফ করবেন।

তাওয়াফের অনেক ফজিলত রয়েছে। সে কারণেই তাওয়াফ যেন সঠিক এবং সহিহ হয়ে সে জন্য তাওয়াফের নিয়ম-কানুন জানা জরুরি। তাই ধারাবাহিকভাবে পবিত্র কাবা শরিফ তাওয়াফ করার পদ্ধতি তুলে ধরা হলো-

তাওয়াফ শুরু স্থান
পবিত্র কাবা শরিফের যে কোনায় হাজরে আসওয়াদ স্থাপিত, সেই কোনা থেকে মাতআফের (তাওয়াফের জায়গার) ওপর দিয়ে মসজিদে হারামের দিকে একটা দাগ দিয়ে চিহ্নিত করে দেয়া আছে এবং কাবা শরিফের গিলাফের উপর থেকে নিচ পর্যন্ত আরবিতে ‘আল্লাহু আকবার’ শব্দের ক্যালিগ্রাফি খচিত লেখা রয়েছে। সে বরাবর দাগের ওপর দাঁড়ানো।

তাওয়াফ শুরু করা
তাওয়াফ শুরু করার আগে হাজরে আসওয়াদকে চুম্বন করা অথবা স্পর্শ করা; সম্ভব না হলে দাগের ওপর দাঁড়িয়ে চলা শুরু করার সময় নামাজের নিয়ত বাঁধার মতো করে উভয় হাত কাঁধ পর্যন্ত হাত উঠিয়ে হাজরে আসওয়াদের দিকে ইশারা করে মুখে ‘বিসমিল্লাহি আল্লাহু আকবার` বলে চক্কর দেয়া শুরু করা।

যেদিকে যাবে
হাজরে আসওয়াদ থেকে পবিত্র কাবা শরিফের দরজার দিকে অগ্রসর হওয়া। এর পর হাতিমে কাবা বাহিরে দিয়ে রুকনে শামি ও ইরাকি অতিক্রম করে রুকনে ইয়ামেনি বরাবর এসে তা স্পর্শ করা। যদি সম্ভব না হয়ে তবে হাতে ইশারা করা।

রুকনে ইয়ামেনি থেকে হাজরে আসওয়াদ পর্যন্ত আসতে এই দোয়া পড়া-
‘রাব্বানা আতিনা ফিদ দুনইয়া হাসানাতাও ওয়া ফিল আখিরাতে হাসানাতাও ওয়া ক্বিনা আ’জাবান নার।’ অর্থাৎ ‘হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদেরকে দুনিয়া এবং পরকালের কল্যাণ দান করুন এবং জাহান্নামের আগুণ থেকে মুক্তি দান করুন।’

হাজরে আসওয়াদের কোনায় এসে আগের মতো আবারো স্পর্শ বা ইশারার মাধ্যমে বিসমিল্লাহি আল্লাহু আকবার বলে চক্কর শুরু করা। এভাবে সাত চক্করের মাধ্যমে তাওয়াফ সম্পন্ন করা।

তাওয়াফ আদায়কালে যে বিষয়গুলো লক্ষ্য রাখতে হবে-

>> ইযতিবা করা
যারা ইহরাম বেঁধে হজ ও ওমরার জন্য ফরজ তাওয়াফ করবেন, তাঁদেরকে তাওয়াফের সময় অবশ্যই ইযতিবা করতে হবে। আর তাহলো বীর-বাহাদুরিসূলভ চাদর পরিধান করা। চাদরের মধ্যভাগ থাকবে ডান বগলের নিচে।

আর ফরজ তাওয়াফ না হলে সাধারণ তাওয়াফের বেলায় যে কোনো পোশাকেই তাওয়াফ করা যাবে।

>> হাতিমে কাবাসহ তাওয়াফ
রোকনে শামি ও রোকনে ইরাকির মধ্যে অবস্থতি অর্ধবৃত্তাকার অংশটিকে হাতিমে কাবা বলা হয়। বাইতুল্লাহ তাওয়াফকালে হাতিমে কাবাকেও প্রদক্ষিন করা।

>> হাজরে আসওয়াদ থেকে শুরু এবং শেষ
তাওয়াফ হাজরে আসওয়াদ থেকে শুরু হয়ে মুলতাযেম, কাবা শরিফের দরজা, হাতিমে কাবা হয়ে রুকনে শামি ও ইরাকি শেষ করে রুকনে ইয়েমেনি অতিক্রম করে আবার হাজরে আসওয়াদে এসে শেষ করা। বাইতুল্লাহ প্রদক্ষিন করার সময় রুকনে ইয়েমেনি কর্নার অতিক্রমকালে সম্ভব হলে চুম্বন করা বা হাতে স্পর্শ করা। ভিড় থাকলে ইশারা করাই যথেষ্ট।

>> রমল করা
বাইতুল্লাহকে সাতবার চক্করের মাধ্যমে তাওয়াফ শেষ হয়। এ সাত চক্করের প্রথম তিন চক্করে রমল করতে হবে। প্রথম তিন চক্বরকে রমল বলে। অর্থাৎ বীর দর্পে দ্রুততার সঙ্গে তাওয়াফ করা। পরবর্তী চার চক্কর স্বাভাবিকভাবে হেটে তাওয়াফ সম্পন্ন করা।

পরিশেষে…
পবিত্র কাবা শরিফ তাওয়াফ হজ ও ওমরার জন্য ফরজ কাজ। হজ ও ওমরাকে সঠিক ও পরিপূর্ণ করতে হলে পবিত্র কাবা শরিফ তাওয়াফ করা আবশ্যক।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে সুন্দরভাবে বিশ্বনবির মতাদর্শ অনুযায়ী পবিত্র কাবা শরিফকে সহিহভাবে তাওয়াফ করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.