কর্ণফুলীতে চার নারীকে ধর্ষণের ঘটনায় প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিচার চাইলেন বৃদ্ধ মা

জে,জাহেদ বিশেষ প্রতিবেদক চট্টগ্রামঃ

বন্দর নগরীর কর্ণফুলীতে গৃহকর্তার নিজ মেয়ে আর নিজ পুত্রবধু ধর্ষণের ঘটনায় বৃদ্ধ মায়ের শেষ আকুতি। আমি প্রধানমন্ত্রীর কাছে এর সুষ্ঠ বিচার চাই। আমার মেয়ে আর পুত্রবধু ধর্ষনকারীদের ফাঁসি চাই।

একান্ত সাক্ষাৎকারে অনেক দুঃখে, কষ্টে কথাগুলো বলেছেন ধর্ষিতাদের বৃদ্ধ  মা ফাতেমা বেগম (৬২)। ৬মাসের অন্তসত্বা এক নারীসহ চারজনকে ধর্ষণ করে পাষন্ড নরপশুরা সেদিন।

জানা যায়, কর্ণফুলী উপজেলার বড়উঠান ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের শাহমিরপুর গ্রামের এক প্রবাসীর বাড়িতে গত ১২ ডিসেম্বর ডাকাতি ও পুরুষের অনুপস্থিতি সুযোগে চার নারীকে ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। ৫দিন পর গত ১৮ ডিসেম্বর কর্ণফুলী থানায় মামলা হলে বিষয়টি জানাজানি হয় সর্বত্রেই।

ঘটনায়  প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনায় জানা যায়, ১২ ডিসেম্বর রাত আনুমানিক ১টার সময় বাঁশ বেঁয়ে ১০/১২ফুট দেয়াল টপকিয়ে জানালার গ্রিল কেটে ডাকাতদল বাড়িতে প্রবেশ করে। এ সময় ৪জন যুবক (একজন মুখোশ পরিহিত লম্বা) হাতে ছুরি নিয়ে জবাই করার ভয় দেখিয়ে গৃহকর্তার কাছ থেকে আলমারির চাবি ছিনিয়ে নেয়। পরে প্রতিটি রুমে প্রবেশ করে আলমারিতে থাকা ১৫ ভরি স্বর্ন,৫টি দামি মোবাইল সেট ও ৮৭ হাজার টাকা নিয়ে যায়। তবে ৪জনেই তাদের সামনে ভাগ বাটোয়ারা করে বলে তথ্য দেন প্রত্যক্ষদর্শী ভিকটিম।

এমনকি মালামাল নিয়ে নেওয়ার পর বাসাতে কোনো পুরুষ নাই দেখে সকলে মুখোশ উম্মোচন করে  চার নারীকে আলাদা রুমে নিয়ে ধর্ষণ করে। ধর্ষিত নারীদের তিনজন সম্পর্কে জা ও অপরজন তাদের ননদ। যিনি লোহাগড়া হতে বেড়াতে আসলেন । একজন ৬মাসের অন্তসত্বা নারীও ছিলেন। বাড়ির ৩ সহোদর যুবকরা মধ্যপ্রাচ্য দুবাই প্রবাসী। ও মামলার বাদী ছোট ভাই পটিয়া মাদ্রাসার শিক্ষার্থী। ঘটনার সময় যিনি পটিয়ায় ছিলেন।

বাড়িতে তিন প্রবাসী ভাইয়ের তিন স্ত্রী, দুই সন্তান ও তাদের মা থাকতেন। তাদের ননদ ওই বাড়িতে বেড়াতে এসেছিলেন বলে জানা যায়। ডাকাতি কালে ৪ ডাকাত সদস্য কারো নাম ধরে ডাকাডাকি করেনি তবে সর্দার বলে সম্বোধন করেছেন বলে জানান গৃহকর্তা ফাতেমা। ১২ই ডিসেম্বর রাত ১টার সময়  প্রবেশ করা ডাকাতদল ভোর ৪টায় ঘর ছাড়েন প্রায় ৩ ঘন্টা পর।

এদিকে ঘটনার দিন অভিযোগ করতে আসা আত্বীয় স্বজনদের তথ্যমতে জানা যায়, প্রথমে তারা ধর্ষণের কথা বলেন নি বরং গোপন রেখেছিলেন। অজান্তে গ্রামের নামও ভুল বলেছিলেন। বরং তাদের উল্লেখিত এলাকা পটিয়া থানার অধীনে হওয়ায় পুলিশ তাদের সেখানে যেতে বলেছিলেন সীমানা জটিলতার কারনে। তবে পরে কেহ পটিয়াও যায়নি। ঠিকানা বলতে ভুল করায় মামলা গ্রহণে দেরি হয়েছে তার সত্যতা ও রয়েছে বলে জানান প্রতিবেদক।

এ বিষয়ে এক বিশ্ববিদ্যালয় প্রফেসর জানান, জুরিডিকশন এরিয়া ভিন্ন হলেও জিরো এফেয়ারে দেশের যেকোন জায়গায় তাৎক্ষনিক জরুরী মামলা ও অভিযোগ নিতে পারে কিনা দেখারও বিষয় রয়েছে ।

ধর্ষিত নারীদের পরিবারের সদস্যরা জানান, ঘটনার পরের দিন সকালে পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও উপজেলা চেয়ারম্যানকে অবহিত করেন। তবে কেহ তাদের বিষয়টি তেমন গুরুত্ব দেয়নি। কেননা পরিবারটি আত্বসম্মান রক্ষার্থে ধর্ষণের বিষয়টি এড়িয়ে যেতে চেয়েছিলেন বলে জানা যায়।

এবং লোক লজ্জায় সংবাদকর্মীদেরও এ ঘটনাটি তাৎক্ষণিক জানায়নি পরিবারটি।

এ ঘটনায় প্রথমে সন্দেহজনক দুইজনকে আটক করে পুলিশ। তবে তার মধ্যে মোঃ সুজন ওরফে আবু নামে একজনকে সনাক্ত করে চার নারী ভিকটিম ছবি দেখে। কেননা ধর্ষিতাদের দাবি,সেদিন রাতে আবুই সব সময় তাদের সামনে বেশি এসেছে এবং মারধর করেছে। এই পর্যন্ত চারজনকে আটক করে কর্ণফুলী থানা পুলিশ।

আবু একই ইউনিয়নের আহম্মদ মিয়া পুত্র। যিনি রাজমেস্ত্রী কাজ করতেন বলে জানা যায়। তিনি স্থানীয় রহিম মেস্ত্রীর অধীনে কাজ করেছিলেন। পাশের সংরক্ষিত মহিলা সদস্য সানোয়ারা বেগম জানান,আবু এক সময় প্রবাসীর ঐ বাড়িটিতে নির্মাণ কাজে অংশ নিয়েছিলেন। এবং তিনি জানতেন ঐ বাসায় কোন পুরুষ থাকতেন না।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্বাস্থ্য পরীক্ষায় ওই নারীদের ধর্ষণের প্রমাণ পাওয়া যায় বলে জানিয়েছে কর্ণফুলি থানা পুলিশ। এতে ডাকাতি ও ধর্ষণের রহস্য উদঘাটনসহ অপরাধীদের ধরতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বলেও জানান।

বড়উঠান ইউনিয়নের ৪,৫,৬ নং ওয়ার্ডের সংরক্ষিত নারী সদস্য সানোয়ারা বেগম জানান,তারা ঘটনাটি জেনেছেন মূলত দুইদিন পর এবং প্রবাসী পরিবারটির পুর্ব বাড়ি আনোয়ারা উপজেলা। তবে দীর্ঘদিন তারা পটিয়ায় ভাড়া বাসায় ছিলেন। মাত্র ৩মাস পুর্বে বড়উঠোন নতুন বাড়িতে ওঠে।যা কেহ জানেনা।

স্থানীয় চেয়ারম্যান আলহাজ্ব দিদারুল ইসলাম দিদার  জানান, পুলিশের অবহেলার কারনে ভুক্তভোগীরা মামলা করতে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন বলে দেরি হল। পরে ভূমি প্রতিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদের  নির্দেশে কর্ণফুলী থানা পুলিশ মামলা নিয়ে অভিযান শুরু করে বলে মন্তব্য করেন বেসরকারি স্যাটেলাইট চ্যানেল নিউজ ২৪ এ।

এ ঘটনায় মামলার বাদী (নাম প্রকাশ করতে চাননি) কান্না জড়িত কন্ঠে বলেন, আমার পরিবার অসহায় ধর্মভীরু মানুষ। আমার ভাবি ও আমার বোনের জীবনটা শেষ করে দিয়েছে। আমি দেশের প্রচলিত আইন ও আদালতের কাছে এর সঠিক বিচার চাই। আমি ধর্ষণকারীদের ফাঁসী চাই”। বাদী দাবি করেন, আটককৃতদের পুলিশি রিমান্ডে নিলে সব তথ্য বেরিয়ে আসবে।

কর্ণফুলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা  সৈয়দুল মোস্তফা জানান, ধর্ষনের ঘটনায় মোঃ সুজন ওরফে আবু ও কালু নামে দুজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়। এ ঘটনায় আরও কয়েকজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এবং ঘটনার সাথে কারা জড়িত তা দ্রুত বের করে আইনের মুখোমুখি করা হবে বলে জানান।

Comments are closed.