করোনায় রাবির সাবেক অধ্যাপক ও তাঁর মেয়ের মৃত্যু

ডেস্ক নিউজ:
করোনায় আক্রান্ত হয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক অধ্যাপক ড. শামসুন নাহার মারা গেছেন। রাজশাহী শহরের মাস্টারপাড়ায় নিজ বাসভবনে গত রোববার তিনি ইন্তেকাল করেন। এর আগে গত ৩ এপ্রিল তাঁর মেয়ে রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের সহকারি জেনারেল ম্যানেজার শামীমা ফেরদৌস করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা যান। ড. নাহারের ছেলে রাবির উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. সারওয়ার পারভেজ গতকাল সোমবার এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।

ড. পারভেজ জানান, গত ১৪ মার্চ অসুস্থ হলে ড. শামসুন নাহারকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তখন করোনা রিপোর্ট ‘নেগেটিভ এলেও চিকিৎসকেরা অনুমান করেন, আগে তিনি করোনায় আক্রান্ত ছিলেন। কিছুদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর গত ২৭ মার্চ রামেক থেকে ছাড়পত্র পান ড. শামসুন নাহার। এরপর ৮ এপ্রিল তাঁর করোনা রিপোর্ট ‘পজিটিভ’ আসে। এরপর বাড়িতে থেকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। গত রোববার বাদ এশা দরগাহপাড়া জামে মসজিদে জানাজা শেষে নগরীর হেতেমখাঁ গোরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়। ৱ

ড. পারভেজ আরও জানান, এর আগে তাঁর বোন শামীমা ফেরদৌস করোনায় আক্রান্ত হয়ে রামেকের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) মারা যান।

রাবি পরিবারের পক্ষ থেকে উপাচার্য অধ্যাপক এম আব্দুস সোবহান গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। উপাচার্য উদ্ভিদবিজ্ঞান বিষয়ে উচ্চশিক্ষা এবং গবেষণায় অবদান শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে বলেন, তাঁর মৃত্যুতে দেশ এক অন্যতম মেধাবী উদ্ভিদবিজ্ঞানী, সাইটোট্যাক্সনমিস্ট ও শিক্ষাবিদকে হারাল।

অধ্যাপক শামসুন নাহার ১৯৪৯ সালে রাজশাহী জেলার গোদাগাড়ীতে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উদ্ভিদবিজ্ঞান বিষয়ে ১৯৬৯ ও ১৯৭১ সালে যথাক্রমে বিএসসি ও এমএসসি ডিগ্রি এবং ১৯৮২ সালে ভারতের হায়দরাবাদের ওসমানিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন। তিনি ১৯৭৪ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রভাষক পদে যোগ দেন ও ১৯৮৬ সালে অধ্যাপক পদে উন্নীত হন। দীর্ঘ অধ্যাপনা জীবনে তিনি রোকেয়া হলের প্রাধ্যক্ষ (১৯৮৬-১৯৮৮) এবং বিভাগীয় সভাপতি (২০০৯-২০১২) হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০১৪ সালে তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অবসর গ্রহণ করেন।

ড. শামসুন নাহারের গবেষণার বিষয় ছিল সাইটোট্যাক্সনমি। তিনি প্রায় ৫০টি স্নাতকোত্তর গবেষণা তত্ত্বাবধান করেছেন। এ ছাড়া দেশ-বিদেশে বিভিন্ন পিয়ার-রিভিউড জার্নালে তাঁর ৩০টির বেশি গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে।

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.