কক্সবাজার উপকূলে আঘাত হেনেছে ঘূর্ণিঝড় ‘মোরা’

ওয়ান নিউজঃ সেন্টমার্টিন ও টেকনাফ উপকূলে ১৩৫ কিলোমিটার বেগে আঘাত হেনেছে ঘূর্ণিঝড় ‘মোরা’। ভোর ৬টার দিক থেকে ঘূর্ণিঝড় ‘মোরা’ টেকনাফ উপকূল অতিক্রম করেছে। এদিকে ‘মোরা’র আঘাতে সেন্টমার্টিন ও টেকনাফে ঘরবাড়ি ও গাছপালার ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। তবে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। সুপার সাইক্লোন-১ ক্যাটাগরির এই ঘূর্ণিঝড়টি বর্তমানে কক্সবাজার উপকূল অতিক্রম করছে। জেলার বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ রয়েছে। ঝড়ের সাথে বৃষ্টি হওয়ায় জলোচ্ছ্বাসে কক্সবাজারে নিম্নাঞ্চল ৬-৭ ফুট পানিতে প্লাবিত হতে পারে। উপকূলীয় এলাকার হাজার হাজার মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেয়া হয়েছে।

ঘূর্ণিঝড়ের কারণে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার সমুদ্র বন্দরসমূহকে ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। উপকূলীয় জেলা চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত। এছাড়া নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, ফেনী, চাঁদপুর এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহ ১০ নম্বর বিপদ সংকেতের আওতায় থাকবে। মংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরসমূহকে ৮ নম্বর বিপদ সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।

ঘূর্ণিঝড় ‘মোরা’ এর অগ্রবর্তী অংশের প্রভাবে সোমবার বিকাল থেকে উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় এবং সমুদ্র বন্দরসমূহের ওপর দিয়ে ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে। ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৫৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৬২ কিলোমিটার যা দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ৮৮ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ঘূর্ণিঝড়ের নিকটবর্তী এলাকায় সাগর খুবই উত্তাল রয়েছে।

ঘূর্ণিঝড়টির প্রভাবে উপকূলীয় জেলা কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, লক্ষীপুর, ফেনী, চাঁদপুর, বরগুনা, ভোলা, পটুয়াখালী, বরিশাল, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, বাগেরহাট, খুলনা, সাতক্ষীরা এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহের নিমড়বাঞ্চল স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ৪-৫ ফুট অধিক উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হতে পারে।

আবহাওয়ার বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ঘূর্ণিঝড় ‘মোরা’ অতিক্রমকালে কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, ফেনী, চাঁদপুর, বরগুনা, পটুয়াখালী, ভোলা, বরিশাল, পিরোজপুর জেলাসমূহ এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহে ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণসহ ঘণ্টায় ৬২-৮৮ কিলোমিটার বেগে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.