কক্সবাজারে আ.লীগ-বিএনপি লড়াই, আওয়ালীগে চমক আসার সম্ভাবনা সদর-রামু আসন

বিশেষ প্রতিবেদকঃ
আসছে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে সারাদেশের মতো কক্সবাজারে বইছে নির্বাচনী হাওয়া। চলছে নানান হিসেব নিকেশ।
এরই মধ্যে জেলার ৪টি সংসদীয় আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের প্রচার-প্রচারণা শুরু হয়েছে। সম্ভাব্য প্রার্থীদের পক্ষে জোর তৎপরতা চালাচ্ছেন আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি ও বিএনপিসহ বিভিন্ন দলের মাঠ পর্যায়ের কর্মী সমর্থকরা।
বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার দুর্গখ্যাত কক্সবাজার এখন আওয়ামী লীগ ও জাতীয়পার্টির দখলে। এখানকার সংসদীয় ৪টি আসনের ৩টিই ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও ১টি জাতীয় পার্টির দখলে।
অন্যদিকে জেলায় সাংগঠনিকভাবে দুর্বল অবস্থানে থাকা বিএনপি নিজেদের চারটি আসনে ই হাতে রাখতে চেষ্ঠা চালিয়ে যাচ্ছেন। বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্প সফর করে গেলে জেলা বিএনপি কোন্দল মিটিয়ে দল এখন আগের চেয়ে অনেকটা চাঙ্গা।
তাছাডা সদস্য সংগ্রহ অভিযানের পাশাপাশি তৃণমূল থেকে দলকে শক্ত প্রতিপক্ষ হিসেবে দাঁড় করাতে কাজ করে যাচ্ছেন জেলা ও উপজেলার বিএনপির নেতারা।
জেলার চারটি সংসদীয় আসনের মধ্য গুরুত্বপূর্ণ হল কক্সবাজার(৩) সদর রামু-আসন।
এ আসনেই অবস্থিত জেলার সর্বোচ্চ প্রশাসনিক কেন্দ্র ও সরকারি নানা অফিস-সহ পর্যটন কেন্দ্র।বছরে কোটি কোটি টাকার সরকারি বরাদ্দ ও মেগা উন্নয়ন প্রকল্প।
ফলে যেকোন রাজনৈতিক দলের মূলত টার্গেট থাকে কক্সবাজার (৩) আসনের উপর। এই আসনটি দেশব্যাপী বিএনপির দূর্গ হিসেবে পরিচিত। তাই এই আসনটি যেকোন উপায়ে ধরে রাখতে মরিয়া বিএনপি।
এ আসনে আওয়ামী লীগ প্রার্থীকে জনগণের ভোটে নির্বাচিত হতে হলে তৃনমূল নেতাকর্মীদের মতামতকে প্রাধান্য দিয়ে বিকল্প ক্লিন ইমেইজ সম্পন্ন এবং সাধারণ মানুষের কাছে গ্রহনযোগ্য প্রার্থীকে মনোনয়ন দেয়া ছাড়া কোন উপায় নেই বলে মন্তব্য করেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জেলা আওয়ামীলীগের বেশ কয়েকজন নেতা এবং সেক্ষেত্রে প্রার্থী হিসেবে এবার চমক আসার সম্ভাবনা খুব বেশী কক্সবাজার(৩) সদর- রামু আসনে।
ইতিমধ্যে ইশতিয়াক আহমেদ জয় তরুণ নেতা হিসেবে দ্রুত নিজেকে জনগণের কাছে তুলে ধরতে সক্ষম হয়েছেন। জনপ্রিয়তার দিক থেকে তরুণ এই ছাত্রনেতা অন্য সবার চেয়ে অনেক এগিয়ে রয়েছেন বলে জানিয়েছেন তৃণমূলের অধিকাংশ নেতাকর্মী।
আগামীতে কক্সবাজার নিয়ে দলীয় প্রধানের দূরদর্শী চিন্তাধারাও রয়েছে বলে ধারণা করছেন আওয়ামীলীগের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ।
ছাত্রনেতা ইশতিয়াক নিজেকে ইতিমধ্যে দক্ষ সংগঠক ও ক্লিন ইমেজ ও মাদকের বিরুদ্ধে প্রতিবাদীকন্ঠ,পুলিশ সদস্য নিয়োগে উৎকোচ বন্ধে তৎপরতা,স্কুল কলেজে অতিরিক্ত টাকা আদায়ে পদক্ষেপ, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে মনিটরিং সেল করে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প সহ নিঃস্বার্থ সাহায্য সহযোগিতা সহ অসংখ্য জনসচেতনতামূলক কাজ নজর কেড়েছে কেন্দ্রের।
বিশ্বস্তসূত্রে জানা যায়, এ আসনে বিএনপির ঘাটিতে আঘাত করে আওয়ামী লীগের ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে ইশতিয়াক আহমেদ জয়কে মুজিব আদর্শের তারুন্যনির্ভর সৈনিক হিসেবে বেছে নেওয়ার কথা ভাবছে দলের হাইকমান্ড।
কেননা তৃণমূলের অনেক নেতাকর্মীরা বর্তমান সাংসদ কমলের প্রতি প্রকাশ্যে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে বলে জানা যায়।
তাছাড়া ২০০৮ সালের নির্বাচনে দলীয় টিকেট পেয়েও সাংসদ সাইমুম সরওয়ার কমল বিএনপির প্রার্থীর কাছে চরমভাবে পরাজিত হওয়ার বিষয়টিও আগামী নির্বাচনে প্রভাব ফেলতে পারে।
এমনকি রামু উপজেলায় তিন ভাই বোনের দ্বন্দের কারণে দলীয় কর্মকান্ড ওসমান পরিবারের ওপর বিরক্ত বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের অনেক ত্যাগী নেতাকর্মী।
কেন্দ্র থেকে প্রাপ্ত তথ্যমতে সবদিক বিবেচনায় রেখে জেলা ছাত্রলীগের বর্তমান সভাপতি ইশতিয়াক আহমেদ জয়কে আগামী সংসদ নির্বাচনে গ্রীন সিগন্যাল দেওয়ার সম্ভাবনা খুব বেশী বলে ধারনা করা হচ্ছে।
কক্সবাজারে ৪ টি আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশী যারা:
কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়া):-
এ আসন থেকে সম্ভাব্য প্রার্থী আলোচনায় রয়েছেন বর্তমান চকরিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জাফর আলম ,
জেলা আওয়ামী লীগের মানবসম্পদ বিষয়ক সম্পাদক ড. আশরাফুল ইসলাম সজিব,জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সালাউদ্দিন আহমদ সিআইপি,জেলা আওয়ামীলীগ সদস্য রাশেদুল ইসলাম,সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি রেজাউল করিম।
কক্সবাজার-২ (মহেশখালী-কুতুবদিয়া):-
এ আসনে সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় রয়েছেন বর্তমান সাংসদ আশেক উল্লাহ রফিক, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাড. সিরাজুল মোস্তফা, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির ত্রাণ বিষয়ক উপ কমিটির সহ সম্পাদিকা ইন্জি: ইসমত আরা ইসমো,জেলা আওয়ামী লীগ নেতা ড. আনছারুল করিম ও সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ নেতা ওসমান গণি।
গতবার ভোটবিহীন নির্বাচনে সাংসদ নির্বাচিত হলেও তরুণ সাংসদ হিসেবে ইতোমধ্যে মহেশখালী-কুতুবদিয়ার মানুষের অন্তরে ঠাঁই করে নিয়েছেন আশেক উল্লাহ রফিক।
কক্সবাজারের ৪টি আসনের মধ্যে জামায়াতের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত মহেশখালী-কুতুবদিয়ার এ আসনটি। বিগত নবম সংসদ নির্বাচনে জামায়াতের র্শীষ নেতা হামিদুর রহমান আজাদ দাঁড়ি-পাল্লা প্রতীক নিয়ে বিপুল ভোটে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়।
তাই এ আসনে প্রার্থীকে বিজয় করতে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছে আওয়ামী লীগ। কারণ কক্সবাজার জেলায় মহেশখালীতে সব চেয়ে বেশি উন্নয়ন করে যাচ্ছে আওয়ামী লীগ সরকার।
কক্সবাজার-৩ (সদর-রামু):-
এ আসন থেকে সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে আলোচনায় রয়েছে বর্তমান সাংসদ সাইমুম সরওয়ার কমল, জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী কানিজ ফাতেমা আহমেদ, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান, জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য রাশেদুল ইসলাম, জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নাজনিন সরওয়ার কাবেরী।
এছাড়াও রামু উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সোহেল সরওয়ার কাজল ও কক্সবাজার উন্নয়ন কতৃপক্ষ (কউক) চেয়ারম্যান লে. কর্ণেল (অব.) ফোরকান আহমদ। এর মধ্যে বর্তমান সাংসদ কমলের পরিবারে তিন জন মনোনয়ন প্রত্যাশী। তাই ঘরোয়া বিরোধের জেরে রাজনীতিতে সম্পূর্ণ দুইভাবে বিভক্ত রামুতে বর্তমান সাংসদ কমল নিজেকে তুলে ধরতে এবার সফল নাও হতে পারেন।
এছাড়া বর্তমানে এ আসনে ইশতিয়াক আহমেদ জয়ের দিকে কেন্দ্রের সবুজ সংকেত রয়েছে। তবে মুজিবুর রহমানের জনপ্রতিনিধি হিসেবে জনপ্রিয়তা কিছুটা বেড়েছে কিন্তু সাংঘঠনিক ভাবে নয়। কেননা বিগত পৌর নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে বিপুল ভোটে হেরেছেন জামায়াত প্রার্থীর কাছে।
কক্সবাজার-৪ (উখিয়া-টেকনাফ):-
এ আসনে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন বর্তমান সাংসদ আব্দুর রহমান বদি, সাবেক সাংসদ ও টেকনাফ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অধ্যাপক মোহাম্মদ আলী, জেলা পরিষদ সদস্য ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান শফিক মিয়া, জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি শাহ্ আলম ওরফে রাজা শাহ আলম ও উখিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হামিদুল হক চৌধুরী।
এর মধ্যে শাহ আলম ওরফে রাজা শাহ আলম ও হামিদুল হক চৌধুরীর জনসম্পৃক্ততা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। যদিও ইয়াবা চোরাচালান বিষয়ে সারাদেশে আলোচিত-সমালোচিত বদি। অনেকেই তাকে বর্তমান সরকারের ভাবমুর্তি নষ্টের জন্য দায়ী করেন।
সেই হিসাবে দলীয় মনোনয়ন পেতে অনেক প্রার্থী নতুন করে তোড়জোড় শুরু করে দিয়েছেন। দেশের শেষ সীমান্তের উখিয়া-টেকনাফ আসনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আর এই অঞ্চলের ইয়াবা ও মানবপাচারের বদনাম মুছতে আওয়ামী লীগ নতুন প্রার্থী দিতে পারে।

Comments are closed.