কক্সবাজারের সাবেক ডিসি-এডিসির জামিন বাতিল

ওয়ান নিউজঃ মাতারবাড়ি কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্রের চিংড়ি খাতের প্রকল্পে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের মামলায় কক্সবাজারের সাবেক জেলা প্রশাসক (ডিসি) রুহুল আমিন ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এডিসি) জাফর আলমের জামিন বাতিল করেছেন আপিল বিভাগ।

সোমবার এক আবেদনের শুনানি শেষে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বাধীন তিন বিচারপতির আপিল বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

আদালতে দুদকের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী খুরশীদ আলম খান। অন্যদিকে আসামিদের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী শম রেজাউল করিম।

পরে আইনজীবী খুরশীদ আলম খান জানান, মাতারবাড়ি কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্রের চিংড়ি খাতের ক্ষতিপূরণ প্রকল্পে ভুয়া লোকজনের নামে প্রকল্প দেখিয়ে অর্থ আত্মসাতের মামলায় পৃথকভাবে হাইকোর্ট দুই আসামিকে জামিন দিয়েছিলেন। এর বিরুদ্ধে দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আপিল বিভাগ তাদের জামিন বাতিল করেন।

দুদক সূত্রে জানা গেছে, মাতারবাড়ি কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্রের চিংড়ি খাতের ক্ষতিপূরণ প্রকল্পে ভুয়া লোকজনের নামে প্রকল্প দেখিয়ে ২৩ কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়। এ চক্রের অন্যতম হোতা মাতারবাড়ির রফিকুল ইসলাম প্রকাশ ভেণ্ডার রফিক, জমির উদ্দীন ও কক্সবাজার থানা রোডের দোকানদার মৌলভী সেলিম। তবে নেপথ্যে থেকে আত্মসাতের নেতৃত্বে ছিলেন কক্সবাজারের তৎকালীন জেলা প্রশাসক রুহুল আমিন ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক জাফর আলম।

এ ঘটনায় মাতারবাড়ির কাউছার আহামদ নামে এক ব্যক্তি জেলা প্রশাসককে মূল আসামি করে ২৭ জনের বিরুদ্ধে কক্সবাজার জজ আদালতে মামলা করেন।

মামলাটি আমলে নিয়ে তদন্তের জন্য দুদককে নির্দেশ দেন আদালত। দীর্ঘ তদন্ত শেষে আত্মসাতের প্রমাণ পেয়ে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় দুদক। অভিযোগপত্র পেয়ে আদালত তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। এরপর রুহুল আমিন আত্মসমর্পণ করেন।

এ ছাড়া ৩ এপ্রিল কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের ভূমি অধিগ্রহণ শাখার (এলও শাখা) প্রাক্তন উচ্চমান সহকারী কাশেম, আইনজীবী নুর মোহাম্মদ সিকদার ও সাবেক সার্ভেয়ার ফখরুল ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়। গত ৯ মে সাবেক অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) জাফর আলমকে ঢাকার সেগুনবাগিচা থেকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠায় দুদক।

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.