কক্সবাজারের পরিবেশ রক্ষায় নজর দিন

দুনিয়ার বহু দেশ পর্যটন আয়ের ওপর নির্ভরশীল। দক্ষিণ এশিয়ার মালদ্বীপ ও নেপালের অর্থনীতি অনেকটাই পর্যটননির্ভর।বাংলাদেশ এ ক্ষেত্রে ধারেকাছের সব দেশের চেয়ে পিছিয়ে। ব্যাপক সুযোগ থাকা সত্ত্বেও  পর্যটনবান্ধব পরিবেশের অভাবে বাংলাদেশ হাঁটি হাঁটি পা পা অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে পারছে না। বাংলাদেশে পর্যটনের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ কক্সবাজারের সমুদ্রসৈকত। বিশ্বের বৃহত্তম এ সৈকতকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের পর্যটন কিছুটা হলেও দাঁড়িয়ে আছে। কক্সবাজারের সাগরপ্রান্তের প্রবাল দ্বীপ সেন্ট মার্টিনস পর্যটনের অন্যতম ভরসাস্থল হিসেবে বিবেচিত। কিন্তু কক্সবাজারজুড়ে প্রায় ১০ লাখ রোহিঙ্গার অবস্থান কক্সবাজারের পর্যটন ব্যবস্থাপনাকে গুঁড়িয়ে দিয়েছে। অনন্য সৌন্দর্যের লীলাভূমি পাহাড় ও বনভূমিসমৃদ্ধ কক্সবাজার তার বৈশিষ্ট্য হারাতে চলেছে। পর্যটন মৌসুম শুরুর আগে রোহিঙ্গা শরণার্থীর ঢল যে বিপর্যয় সৃষ্টি করেছে তাতে পর্যটনশিল্পের সমূহ সর্বনাশের আশঙ্কা করা হচ্ছে। ১০ লাখ লোকের বাড়তি চাপ পরিবেশ দূষণে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করছে। পাশাপাশি পাহাড় ও বনাঞ্চলের স্বাভাবিক চেহারা পাল্টে ফেলছে। সর্বনাশের কবলে পড়েছে এ জেলার লাখ লাখ মানুষ। বিশেষত পর্যটনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা চোখে শর্ষে ফুল দেখছেন। শুধু কক্সবাজার নয়, সৌন্দর্যের আরেক লীলাভূমি বান্দরবানও ব্যাপকসংখ্যক রোহিঙ্গা আগমনে সংকটে পড়েছে। সন্দেহ নেই, রোহিঙ্গারা আজ এক মানবিক সমস্যার শিকার। তাদের আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশের মানুষ তাদের মানবিক দায় পালন করেছে। কিন্তু এ সমস্যা দেশের লাখ লাখ মানুষের অস্তিত্ব তথা তাদের জীবন-জীবিকায় সংকট সৃষ্টি করবে তা কাম্য হতে পারে না। রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় দ্রুত এগিয়ে না এলে তা শুধু রোহিঙ্গাদের জন্য নয়, বাংলাদেশের লাখ লাখ মানুষের জন্য অবর্ণনীয় দুঃখ-কষ্ট ডেকে আনবে। কক্সবাজারের পরিবেশ রক্ষায় সরকার রোহিঙ্গাদের নির্দিষ্ট আশ্রয়শিবিরে রাখার ব্যবস্থা করলেও তাদের অনেকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে বিভিন্ন স্থানে আশ্রয় খুঁজে পাওয়ার চেষ্টা করায় পরিবেশগত বিপর্যয় বাড়ছে। পর্যটনের জন্য দীর্ঘমেয়াদে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া ফেলছে। যে বিষয়ে সময় থাকতেই সতর্ক হতে হবে। কক্সবাজারের পরিবেশ রক্ষায় রোহিঙ্গাদের যত্রতত্র আশ্রয় গড়া বন্ধ করতে হবে। তারা যাতে আইনশৃঙ্খলার জন্য বিড়ম্বনা সৃষ্টি না করে সেদিকেও তীক্ষন্ন নজর রাখা দরকার।

মিজান উর রশিদ মিজান

সম্পাদক

দৈনিক আলোকিত উখিয়া, কক্সবাজার 

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.