একুশে পদক পেলেন সিরাজগঞ্জের ৩ কৃতি সন্তান

এইচ এম আলমগীর কবির, সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি :

একুশে ফেব্রুয়ারি এবং আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে দেশের দ্বিতীয় বৃহৎ সম্মাননা একুশে পদকে (মরণোত্তর) ভূষিত হয়েছেন সিরাজগঞ্জের ৩ কৃতি সন্তান।

একুশে পদকে ভুষিত হলেন যারা, মোতাহার হোসেন তালুকদার ভাষা আন্দোলনে, উল্লাপাড়ার সাবেক সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম হাসনায়েন এবং কবি, লেখক, সাহিত্যিক ও মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্য সৈয়দা ইসাবেলা।

শনিবার (২০ ফেরুয়ারি) সকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক রাজধানীর ওসামানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ২১ জন বিজয়ীর হাতে এ পদক তুলে দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ভার্চুয়ালি সংযুক্ত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

মোতাহার হোসেন তালুকদার ১৯৪৬ সালে তদানীন্তন মুসলিম ছাত্রলীগে যোগদান করেন। তিনি ১৯৪৭ সালে পাবনা এডওয়ার্ড কলেজের জিএস, ১৯৪৮ ও ১৯৪৯ সালে রাজশাহী গভর্নমেন্ট কলেজের জিএস ও ভিপির দায়িত্ব পালন করেন।

১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তিনি সিরাজগঞ্জ জেলার সাবেক গর্ভনর ও সিরাজগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের আমৃত্যু সভাপতি ছিলেন। ১৯২২ সালে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার গজারিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। তিনি সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার নিজ বাসভবনে ২০০১ সালের ২ ডিসেম্বর মৃত্যুবরণ করেন।

নারী সমাজের রত্নাগর্ভা মা সৈয়দা ইসাবেলা ছিলেন সিরাজগঞ্জের খ্যাতনামা সৈয়দ পরিবারের মেয়ে। ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধে তার বিশেষ অবদান রয়েছে। তিনি নারী জাগরণে এবং দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে এক অনন্য নাম।সৈয়দা ইসাবেলা স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সংগঠক ছিলেন। ১৯৪২ সালের ২৪ ডিসেম্বর সৈয়দ মোহাম্মদ ইসহাক ও আছিরুন নেছা খন্দকারের পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। মা-বাবা দুজনেই ছিলেন শিক্ষক। ২০১৩ সালের ১১ জানুয়ারি মহীয়সী নারী সৈয়দা ইসাবেলা মৃত্যুবরণ করেন।

জীবন্ত কিংবদন্তি গোলাম হাসনায়েন নান্নু। তিনি ১৯৭০ সালের নির্বাচনে জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। উল্লাপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের এক সময়ের জনপ্রিয় এবং তুখোড় রাজনীতিবিদ গোলাম হাসনায়েন নান্নু পাবনা জেলা বারের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী, মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক। ১৯৭০ সালের পর মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে তার অবদান অনস্বীকার্য। তিনি উল্লাপাড়ার রাজনীতিতে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত ছিলেন। ১৯৭২ থেকে ২০০১ সালের রাজনীতির মাঠে সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছেন জনগণের পাশে।

বীর মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দা ইসাবেলা (মরণোত্তর) এর পক্ষে তার পুত্র পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব কবির বিন আনোয়ারসহ স্ব-স্ব পরিবারের সদস্যরা পুরস্কার গ্রহণ করেন।

Comments are closed.