একজন স্বপ্নদ্রষ্টা মুজিবুর রহমান ও তাঁর স্বপ্নের কক্সবাজার ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি।

সমসাময়িক কলাম লেখকঃ
নন্দিত ব্যক্তিরা ভালো আর সফল কর্ম নিয়ে সর্বদা আলোচিত ও সমালোচিত হবেন এটাই স্বাভাবিক। নিন্দিতরা কুৎসিত ভাষায় সমালোচনা করেন। আর জ্ঞানী-বিজ্ঞ জনেরা গঠনমূলক আলোচনা-পর্যালোচনার পথে অগ্রসর হয়। ফলে যোগ্য ব্যক্তিকে নিয়ে আলোচনা-পর্যালোচনা-সমালোচনা নিরন্তর।
বাংলাদেশের রুপকার, স্থপতি, হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। যিনি না থাকলে বাংলাদেশ নামক স্বাধীন ভূ-খন্ডের স্বাদ হয়তো বাংলাদেশীরা কখনো পেত না। সেই স্বপ্নদ্রষ্টার স্বপ্নের এই ভূখণ্ডেই মীর জাফরেরা মহান পুরুষ ও তাঁর পুরো পরিবারের ওপর নির্মম হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছিলো ৭৫ এর ১৫ই আগষ্ট। বিনম্র শ্রদ্ধা সকলের প্রতি। আর সেই বিচারের বাণী এখনো গত ৪২ বছর ৩দিন ধরে নীরবে নিভৃতে কেঁদেছিলো কাঁদছে। যদিও বঙ্গবন্ধু বলে গেছেন “আমলা নয় মানুষ সৃষ্টি করুন”। কত সুন্দর মর্মবাণী জগত বিখ্যাত নেতার !!
দ্বিতীয়ত, বাংলাদেশ তথা এশিয়ার গর্ব, বাংলাদেশের প্রথম নোবেল পুরস্কার বিজয়ী প্রফেসর ড. মুহম্মদ ইউনুসকে নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা-পর্যালোচনার শেষ নেই। তাঁর প্রাপ্য সম্মান দেবার বদলে অনেকে নিজ স্বার্থে হীন মনে করে। এ ধরনের আরো হাজারো উদাহরণ বলে ও লিখে শেষ করা যাবেনা। ইতিহাস নিজস্ব গতিতে চলে। ইতিহাস নিয়ে একটু নাড়াচাড়া করেছি এই কারনে, যোগ্য ব্যক্তিকে নিয়ে টানাহেঁচড়া করা এটা ইতিহাস স্বাক্ষী। কক্সবাজারবাসী কখনো হয়তো চিন্তাও করতে পারেনি কক্সবাজারে একটা পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় হবে !! একজন অত্যন্ত সাধারণ মানুষের আজীবনের স্বপ্ন ছিল তাঁর জন্ম স্থানে একটি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের।
আর তিনি এই স্বপ্ন ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে দেখেননি জেগে জেগেই দেখেছেন। আর স্বপ্নটাকে বাস্তবে রুপান্তরের জন্য লক্ষ্য স্থির রেখেই কঠোর পরিশ্রম করেছেন দিনরাত। এমনকি কিছু আত্মবিশ্বাসী মহৎ মানুষকে সাথে নিয়ে দাঁড় করিয়েছেন তাঁর স্বপ্নের বিশ্ববিদ্যালয় “Cox’s Bazar International University”।
সেই সৃজনশীল মহান ব্যক্তি, একজন স্বপ্নদ্রষ্টা, একজন উদ্যোক্তা, আর কেউ নন– কক্সবাজার জেলার গর্ব, পেকুয়ার কৃতিসন্তান লায়ন মোহাম্মদ মুজিবুর রহমান। এবং তাঁর স্বপ্নের প্রতিষ্ঠানটিই হলো “কক্সবাজার ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি”। মহান রাব্বুল আলামিন আল্লাহপাকের অসীম কৃপায় গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার সুদূরপ্রসারী পর্যবেক্ষণের দ্বারা তিনি উপলব্ধি করতে পেরেছিলেন, শিক্ষাক্ষেত্রে কক্সবাজার অনেকটা পিছিয়ে। দেশের দক্ষিনে বৃহৎ একটি অংশ সম্পূর্ণভাবে পিছিয়ে যাতে না থাকে সেই লক্ষ্যে লায়ন মোঃ মুজিবুর রহমানের প্রস্তাবিত বিশ্ববিদ্যালয়টিসহ তখন যে পাঁচটি বিশ্ববিদ্যালয় তিনি অনুমোদন দিয়েছিলেন তন্মধ্যে কক্সবাজার ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অন্যতম। ২০১৩ সালের ১৫ ই সেপ্টেম্বর শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন ( ইউজিসি ) কর্তৃক অনুমোদন পাওয়ার পর কক্সবাজার ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির যাত্রা শুরু হয়। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন ২০১৪ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি। ২০১৪ সালের ৮ মার্চ থেকে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়। বর্তমানে শিক্ষার্থী প্রায় হাজারের ওপর।
আমি শ্রদ্ধা জানাই সৃজনশীল মহান ব্যক্তি জনাব মোহাম্মদ মুজিবুর রহমানকে। খুব কাছে থেকেই দেখেছি তাঁর সেই অবর্ণনীয় অমানুষিক পরিশ্রম। ট্রাষ্টি বোর্ডের প্রথম মিটিংএ ওনার অমানুষিক পরিশ্রমের কথা বর্ণনা করতে গিয়ে আমি অশ্রু সংবরণ করতে পারিনি। বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা থেকে শুরু করে এর উত্তরোত্তর উন্নতকরণের জন্য যিনি দিনরাত একাকার হয়ে কষ্ট করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়টিই যেন ওনার স্বপ্ন আর দেহ। আর এর শিক্ষার্থীরাই যেন ওনার সন্তান সমতুল্য সম্পদ। তাঁর এই যুদ্ধে সহযোদ্ধা হিসেবে যারা ছিলেন, যাদের নাম উল্লেখ না করলেই নয়। বিশ্ববিদ্যালয় এত সহজ বিষয় নয়। চাইলেই বিশ্ববিদ্যালয় হয়না। অনেক কাগজপত্র তৈরির কাজ রয়েছে যার জন্য মেধাবী, দক্ষ, অভিজ্ঞ একটি দলের প্রয়োজন হয়। যারা পর্দার অন্তরালে থেকে নিরলস ও নিঃস্বার্থভাবে কাজ না করলে হয়তো কৌশলগত ভুলের কারণেও বিশ্ববিদ্যালয়টি বাস্তবায়ন হতোনা।
তাই যতদিন “কক্সবাজার ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি” বেঁচে থাকবে ততদিন প্রতিষ্ঠাতা লায়ন মোঃ মুজিবুর রহমানের সাথে তাঁদের নাম স্বর্ণাক্ষরে লিখা থাকবে। তাঁরা হলেন সম্মানিত উপদেষ্টা মোঃ খুরশিদুর রহমান, তানভীর মোঃ হায়দার আরিফ ও সাদাত জামান খান মারুফ। আমার অত্যন্ত শ্রদ্ধাভাজন ব্যক্তিত্ব যার অবদান বিনম্রভাবে স্বরণ করছি তিনি হলেন ট্রাস্টি বোর্ডের সম্মানিত সভাপতি সালাউদ্দিন আহমদ সিআইপি। তাঁর সার্বিক সহযোগিতায় বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন ও সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের অনুমোদন পেয়ে কক্সবাজার ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির যাত্রা শুরু হয়। তাছাড়া ট্রাস্টি সদস্য সাইফুর রহমান , শুভাকাঙ্ক্ষী পুলিশ ইন্সপেক্টর জাকির হোসেন, শুভাকাঙ্ক্ষী বন্ধু জসীম উদ্দিন, ট্রাস্টি বোর্ডের সম্মানিত সকল সদস্যগণ, ট্রেজারার শ্রদ্ধেয় চৌধুরী মঞ্জুরুল হক স্যার, ইউনিভার্সিটির প্রতিষ্ঠালগ্নের সময় কর্মরত যে সকল কর্মকর্তাগণ বিশেষ করে কুতুব উদ্দিন, রুহী মেহনাজ,মিস সারিকা,মোঃ আরিফ, জাহাঙ্গীর সেলিম,আব্দুল মালেকএবং সম্মানিত সকল শিক্ষকবৃন্দ ও এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল শিক্ষার্থী ও সকল কর্মচারীদেরও প্রচুর অবদান রয়েছে।
যারা সব সময় মনে করেছেন শিক্ষাই সর্বোত্তম বিনিয়োগ। সত্য কখনো মরেনা, জবাই করলেও না। সত্যের হাতিয়ার একজনের অবর্তমানে অন্যজন তুলে নেয়। যিনি প্রতিষ্ঠান সৃষ্টি করেছেন তিনিও একদিন থাকবেনা এ পৃথিবীতে। তবে মানবসৃষ্ট প্রত্যেকটি মহৎ সৃষ্টিকর্ম বেঁচে থাকবে চিরকাল। এটাই জগত মনে রাখবে। জোর করে খলনায়ককে নায়ক আর নায়ককে খলনায়ক বানানো যায়না। মূল বক্তব্যে ফিরে আসা যাক। হিংসা বিদ্বেষ এগুলি মানুষের সহজাত প্রবৃত্তি। যোগ্য ব্যক্তিকে সামনের দিকে চলতে না দিয়ে বাঁধা সৃষ্টি করাটাই যেন রীতিনীতিতে পরিণত।
 আপনাদের প্রাণের বাসস্থানে অবস্থিত দক্ষিণ চট্টগ্রামের একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয়টির উত্তরোত্তর সাফল্য আপনারা নিশ্চয় কামনা করেন !!
কিন্তু অবাস্তব হলেও সত্য। প্রচন্ড ঈর্ষাপরায়ণ একটি কুচক্রিমহল সর্বদা ঈর্ষান্বিত হয়ে ভুলতথ্য দিয়ে নানাভাবে অপ-প্রচার করে মাঝেমধ্যে। প্রশ্নবিদ্ধ করতে চায় লাখো ছাত্রছাত্রীর ভরসাস্থল কক্সবাজারের প্রিয় এ শিক্ষাঙ্গনকে। অনেকে ভুলে যায় তাদেরই ভাইবোন ও সন্তানেরাইতো পড়াশোনা করবে, মাতিয়ে রাখবে এই শিক্ষাঙ্গন। সুতরাং দলমত নির্বিশেষে প্রাণের এই শিক্ষাঙ্গনকে কলুষিত করবেন না। ক্ষুদ্র ব্যক্তি স্বার্থে নিজেরাই নিজেদের পায়ে যেন কুড়াল না মারি। কেননা শেখ সাদি বলেছেন, যে জাতি মনে বড় নয়, সে জাতি জ্ঞানেও বড় নয়। কোনো ঠুনকো অজুহাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি, সম্ভাবনাময় উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ যেন অঙ্কুরেই বিনষ্ট না করি। তাতে সবচেয়ে বেশী ক্ষতিগ্রস্ত হবে কক্সবাজারবাসীর কিংবা শিক্ষার।
প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক হুমায়ুন আজাদ বলেছিলেন, এদেশে সবাই শিক্ষানুরাগী ও সমাজসেবক। দারোগার শোক সংবাদেও লেখা হয়,‘তিনি শিক্ষানুরাগী ও সমাজসেবক ছিলেন। তবে আমরা সহজে কেউ শিক্ষার জন্য কাজ করিনা। এটাই আমাদের চিত্র।
দার্শনিক এরিষ্টটল বলেছিলেন, শিক্ষার শিকড়ের স্বাদ তেঁতো হলেও এর ফল মিষ্টি। জনাব মুজিবুর রহমানের প্রানান্তকর চেষ্টার ফসল এ বৃক্ষের অর্থাৎ কক্সবাজার ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির মিষ্টি ফল ভোগ করবে কক্সবাজারবাসী। তাতে সমালোচনা আসবেই কারন মালেয়েশিয়ার সফল প্রেসিডেন্ট মাহাথির মোহাম্মদ বলেছেন, ভালো কাজে সমালোচনা আর বিতর্ক হবেই তাতে হতাশ হবার কিছু নেই। জাতি একদিন বুঝতে পারবে কোনটা সঠিক আর কোনটি বেঠিক। সত্য উম্মোচিত হবেই কালো মেঘমালা কিংবা তীর্যক সমালোচনার মধ্য দিয়ে।
অ্যালবার্ট আইনস্টাইন বলেছেন, যেকোন বুদ্ধিমান বোকা জিনিষকে বড় করতে পারে, আরো জটিল এবং আরও তীব্র। এটি একটি প্রতিভাকে স্পর্শ করে এবং সাহস অনেকটা বিপরীত দিকে অগ্রসর হয়। আমার মতে যারা সমালোচনা করছেন তারাও এপথে অগ্রসরমান তারা শিক্ষানুরাগী লায়ন মুজিবুর রহমানের প্রতিভা স্পর্শ করছেন।
মহান কিছু মানুষের ত্যাগে সৃষ্টি হল এ শিক্ষারসাগর। হেলেন কেলার বলেন, শিক্ষার চূড়ান্ত ফল হচ্ছে সহনশীলতা। নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, বৈষম্য কমাতে শিক্ষা ব্যবস্থার ওপর জোর দিতে হবে। বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন করতে হবে। আমাদের যে শিক্ষা ব্যবস্থা সেটা মানুষকে চাকরির দিকে নিয়ে যায়। কিন্তু আমাদের উদ্যোক্তা তৈরি করতে হবে।
মানুষ হিসাবে আগামী প্রজম্মকে সুশিক্ষার পথ দেখাতে হবে সেটাই বিবেচ্য। পন্ডিত নিকোলাস খালব্রাঁশ বলেছিলেন,’দেখবার জন্য আমাদের চোখের যেমন আলোর প্রয়োজন, ঠিক তেমনি কোনো প্রত্যয় অর্জন করবার জন্য আমাদের ভাবনার প্রয়োজন, আরো দরকার বিবেক মনুষ্যত্ব দিয়ে মানুষকে দেখার।
আল্লামা ইকবাল বলেছেন, যেই শিক্ষা গ্রহণ করে ও যেই শিক্ষার গুণে গুনান্নিত হয়ে ছেলে মেয়ে সাজে, মেয়ে ছেলে সাজতে পছন্দ করে, ঐ শিক্ষাকে জ্ঞানীরা শিক্ষা না জাতির জন্য বিষ বলে গন্য করেছেন। বড় দুঃখের বিষয়, সুন্দর দেখার মত চোখ দরকার।
তাইতো নেপোলিয়ন বোনাপার্ট বলেছেন,”তুমি আমাকে শিক্ষিত মা দাও, আমি তোমাকে শিক্ষিত জাতি দিবো”। তবে প্রশ্ন থেকে যায়, কেন এই মহান ব্যক্তি লায়ন মুজিবুর রহমান ও তাঁর স্বপ্নের প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংসের পাঁয়তারা করছে কিছু স্বার্থান্বেষী মহল ও অপশক্তি ?
একজন পরিশ্রমী ও যোগ্যব্যক্তি স্বপ্নপুরনের লক্ষ্যে সৎ উদ্দেশ্য নিয়ে যখন সমাজ ও শিক্ষা বিস্তারে অবদান রাখেন। তখন মন থেকেই আমাদের সেসব মানুষদের জন্য দোয়া চলে আসে এবং আসাটাই স্বাভাবিক। কিন্তু বর্তমানে কেউ ভাল কাজ করলেই দেখা যায় শত্রু ও সমালোচকদের সংখ্যা বেড়ে যায়। আমার বিশ্বাস একজন সফল মানুষ কখনই আরেকজন সফল মানুষকে হিংসা করেনা। বরঞ্চ আরো বেশি বেশি অনুপ্রাণিত করে।
একনিষ্ঠভাবে মনোনিবেশ করে দেশের কল্যাণে প্রতিনিয়ত কাজ করে যায়। লায়ন মোঃ মুজিবুর রহমান সাহেব শিক্ষাক্ষেত্রে প্রতিনিয়ত যে অবদান রেখে যাচ্ছেন, দক্ষিণ চট্টগ্রামে কক্সবাজার ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির মত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করে যে অমূল্য সম্পদ উপহার দিয়েছেন। আমাদের উচিত তাঁর পাশে থেকে তাঁকে আরো বেশী বেশী করে উৎসাহিত করা। একজন সৃজনশীল, স্বপ্নবাজ, স্বপ্নদ্রষ্টা লায়ন মোহাম্মদ মুজিবুর রহমানের জন্ম কক্সবাজারে হয়েছিল বলেই এবং তিনি তাঁর জন্মস্থানে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করার স্বপ্ন দেখেছিলেন বলেই আজ আমরা কক্সবাজারবাসী আর্ন্তজাতিক মানের একটি বিশ্ববিদ্যালয় পেয়েছি, যা আমাদের জন্য অত্যন্ত গর্বের বিষয়। ঠিক একইভাবে মহেশখালিতে ডঃ রশিদ গড়ে তোলেন লিডারশীপ ইউনিভার্সিটি।
চট্রগ্রাম শহরের দক্ষিন উপজেলায় “পটিয়া বিশ্ববিদ্যালয় নামে একটি প্রতিষ্ঠান দাঁড় করাতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পালি ও সংস্কৃতি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডঃ জিনবোধি ভিক্ষু দীর্ঘদিন শিক্ষাবোর্ড ও সচিবালয়ে দ্বারস্থ হচ্ছে গত ৯টি বছর ধরে। এখনো সফল হতে পারেননি। কতটা কষ্ট করতে হয় একটা সফলতার পেছনে যিনি ভুক্তভোগী তিনিই জানেন। সুতরাং তাঁর এই কৃতিত্বপূর্ণ কাজের জন্য কক্সবাজারবাসী চিরকৃতজ্ঞ থাকবে ও আজীবন তাঁকে স্বরন রাখবে। এবং কক্সবাজারবাসীর দোয়ায় আল্লাহ তাঁকে আরও সম্মানী করবেন। তাঁর এই দুর্গম পথ পাড়িতে আল্লাহ সাহায্য করবেন। অতীতে কক্সবাজারের ছাত্রছাত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে জেলার বাহিরে অন্য বিভাগে ও দেশের বাইরে যেতো। বাধ্য হয়ে বাবা-মায়েরা প্রাণপ্রিয় সন্তানকে দূরে পাঠাতেন কিন্তু এখন ঘরে বসেই সন্তানকে চোখের সামনে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াতে পারছেন। অকৃতজ্ঞদের কথা আলাদা। তবে কৃতজ্ঞ কক্সবাজারবাসীরা অবশ্যই এসব মানুষের কাছে চিরকৃতজ্ঞ হয়ে থাকবেন এটাই আমার বিশ্বাস। প্রিয় ছাত্রছাত্রী-শিক্ষার্থী ভাইবোনেরা, এখনই সময় এই স্বার্থান্বেষী মহল-অপশক্তিকে প্রতিহত করার। এদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবার।
হাজারো শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ নিয়ে ছিনিমিনি খেলার দুঃসাহস ও অপপ্রয়াসকে যে কোন মূল্যে প্রতিহত করতে হবে, উপযুক্ত জবাব দিতে হবে সমালোচকদের। প্রতিষ্টান কারো দল করেনা। চন্দ্র যেমন নিজস্ব গতিতে আলো দেয়, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানও তেমনি আলোকিত করে সমাজ ও রাষ্ট্রকে।
শিক্ষার্থীরা পারে প্রিয় শিক্ষাঙ্গনকে সন্ত্রাসমুক্ত, জঙ্গিমুক্ত রাখতে এবং জঙ্গিবাদকে স্বমূলে উৎপাটনে অগ্রণী ভূমিকা রাখতে। তাই সকল অপশক্তি – অপপ্রয়াসকে প্রতিহত করতে হবে। সকল অপপ্রচারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে এবং প্রিয় শিক্ষাঙ্গনকে সারা বাংলাদেশ তথা বিশ্বের দরবারে স্থান করে দিতে হবে।
সুতরাং লেখাপড়াই যেন হয় আপনাদের একমাত্র ব্রত। সুশিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে মানুষের মত মানুষ হয়ে সব জায়গায় নিজেদের মেধা, দক্ষতা ও যোগ্যতা প্রমান করে “কক্সবাজার ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি”র সুনাম বজায় রাখবেন, এটাই একমাত্র বিশ্বাস ও প্রত্যাশা। কেননা যিনি শিক্ষা দান করেন তিনি আলোকিত মানুষ। তাঁর কাজটি সবার জীবনকে আলোকিত করে, সমাজকে নিরক্ষরমুক্ত করা।
তবে মনে রাখা দরকার, বাংলাদেশ যেমন মীর জাফরের দেশ। তেমনি এদেশ মাওলানা ভাসানী, শেরে ই বাংলা, শেখ মুজিবুর রহমান, ক্ষুদিরাম, সোহরাওয়ার্দী, সুর্যসেন, বেগম রোকেয়া ও বেগম সুফিয়ার দেশ। তবে এটাও সত্য বিশ্বাসীদের হাতেই বঙ্গবন্ধু নিহত হয়েছিলেন সেনাদের ২২টি তাজা বুলেটে। সুতরাং সব জেলায় ভালো খারাপের পাশাপাশি বসবাস আছে থাকবে মরণ পর্যন্ত। তবে সত্য আর মনুষত্ব, বিবেক,সৎসৃষ্টি সব সময় সুন্দর হয়।
সমসাময়িক কলাম লেখকঃ
মাহবুবা সুলতানা
সদস্য, বোর্ড অব ট্রাস্টিজ। সভাপতি, শৃংখলা কমিটি ও অভিযোগ কমিটি। কক্সবাজার ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি।

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.