অতিরিক্ত সচিব ও জেলা জজকে দুদকের নোটিশ

ফাইল ছবি

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব এএসএম এমদাদুদ দস্তগীর ও জেলা জজ পদমর্যাদার সাতক্ষীরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক হোসনে আরা আক্তারের সম্পদের হিসাব চেয়ে নোটিশ দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

মঙ্গলবার দুদকের উপপরিচালক ঋত্বিক সাহা স্বাক্ষরে দেয়া নোটিশে তাদের সম্পদের বিবরণী জমা দিতে বলা হয়।

দুদকের আদেশে বলা হয়েছে, নোটিশ জারির পর থেকে পরবর্তী সাত কর্মদিবসের মধ্যে দু’জনকে তাদের নিজের ও তাদের ওপর নির্ভরশীল ব্যক্তিদের স্থাবর ও অস্থাবর সব সম্পদের বিবরণী দুদকে জমা দিতে হবে। নির্ধারিত সময়ে তা দিতে ব্যর্থ হলে কিংবা মিথ্যা তথ্য দিলে দুদক আইনের ধারা ২৬-এর ২ উপধারা অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। এই দম্পতির অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগের বিষয়ে প্রাথমিক অনুসন্ধান শেষে অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা দু’জনের সম্পদ বিবরণী দাখিলের সুপারিশ করলে কমিশন তাতে সায় দেয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জের জেলা জজ হিসেবে দায়িত্বপালনের সময় হোসনে আরা আক্তারের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদের একটি অভিযোগ আসে দুদকে। গত বছর অক্টোবরে অভিযোগটি আসার পর দুদক অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয়। অনুসন্ধানকালে দুদক এএসএম এমদাদুদ দস্তগীর ও হোসনে আরা আক্তারের কাছে অভিযোগের বিষয়ে জানতে চায়। একই সঙ্গে দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত বছরের ২০ ডিসেম্বর অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে ওই বিচারক ও তার স্বামীর ২ কোটি ২৮ লাখ টাকার ব্যাংক হিসাব জব্দ (ফ্রিজ) করা হয়।

এছাড়া ওই বিচারকের নামে দেশের কোন কোন ব্যাংকে হিসাব রয়েছে, ওই হিসাবে গত দুই বছরে কত টাকা লেনদেন হয়েছে, সেই তথ্য জানতে বাংলাদেশ ব্যাংকে চিঠি পাঠায় দুদক।

জানা গেছে, জেলা জজ হোসনে আরা আকতার এর আগে প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহার আমলে সুপ্রিমকোর্ট প্রশাসনে বিশেষ কর্মকর্তা (স্পেশাল অফিসার) হিসেবে দায়িত্বপালন করেন। সেই সময় তিনি অত্যন্ত প্রভাবশালী কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত ছিলেন। বিচারপতি সিনহা প্রধান বিচারপতি থাকাবস্থায় গত বছর জুন মাসে তিনি নারায়ণগঞ্জের জেলার জেলা ও দায়রা জজ হিসেবে নিয়োগ পান।

এরপর গত ১০ নভেম্বর প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহার পদত্যাগের পরপরই ১৫ নভেম্বর বিচারক হোসনে আরাকে সাতক্ষীরায় বদলি করা হয়।

দুদকের কাছে আসা অভিযোগে বলা হয়, বিচারক হোসনে আরা তার একাধিক ব্যাংক হিসাবে কোটি কোটি টাকার লেনদেন করছেন। তিনি অবৈধ উপায়ে নেয়া অর্থ তার হিসাবে রাখছেন বলেও অভিযোগ করা হয়।

অভিযোগটি পাওয়ার পর দুদক থেকে উপপরিচালক ফরিদুর রহমানকে অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা নিয়োগ দেয়া হয়। প্রাপ্ত অভিযোগ যাচাই-বাছাই করে তাকে কমিশনে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়। তার দাখিল করা প্রতিবেদন আমলে নিয়ে দুজনের সম্পদের সমুদয় হিসাব চাওয়া হলো।

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.