ঝড়োহাওয়ায় ট্রলার ডুবি: ৭ জেলে নিখোঁজ

ওয়ান নিউজ ডেক্সঃ দক্ষিণ-পশ্চিম মধ্য বঙ্গোপসাগরে অবস্থিত সুস্পষ্ট লঘুচাপটি কিছুটা উত্তর পুর্ব দিকে সরে গিয়ে বর্তমানে সুস্পষ্ট মৌসূমী নিন্মচাপে পরিণত হয়ে আজ ১১ ই জুন রবিবার দুপুর ০১:৪০ মিনিটে মংলা সমুদ্র বন্দর থেকে ২১১ কিলোমিটার দক্ষিণে , পায়রা বন্দর থেকে ৩০৮ কিলোমিটার, চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ৩৩২ কিলোমিটার ও কক্সবাজার বন্দর থেকে ৪০০ কিলোমিটার দক্ষিণ পশ্চিমে অবস্থান করেছিলো। এটি আরোও শক্তিশালী হয়ে ১২ ই জুন সোমবার ভোররাতে বাংলাদেশ উপকূল খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম এর অনেক এলাকা অতিক্রম করতে পারে।
নিন্মচাপ কেন্দ্রের ৪৪ কিলোমিটার এর ভিতরে বাতাসের একটানা গড় গতিবেগ ঘন্টায় প্রায় ৪৫ কিলোমিটার যা দমকা ও ঝড়ো হাওয়ার আকারে ৬৭ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। সাগর উত্তাল থাকছে। সকল সমুদ্র বন্দরকে ৩ তিন নাম্বার স্থানিয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। ছোট ছোট নৌযান কে নিরাপদে চলাচল করার জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে।
এর প্রভাবে দেশের উপকূলে ভারি থেকে অতি ভারি বর্ষণ হতে পারে ও দেশের অভ্যন্তরে ভারি বৃষ্টি হতে পারে, নিন্মচাপ এর প্রভাবে সাগরে বায়ুচাপের তারতম্যের কারনে দেশের উপকূলের অনেক এলাকায় প্রবল দমকা হাওয়া বয়ে যেতে পারে। মংলা, ঝালকাঠি, পিরোজপুর, বরগুনা, ভোলা, সন্দ্বীপ, হাতিয়া, সহ উপকূলিয় দ্বীপ ও চর সমূহে স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ৩ থেকে ৭ ফুট উচ্চতার জলোচ্ছাসে প্লাবিত হতে পারে। পশ্চিম বাংলা উপকূলেও ভারি বৃষ্টি হতে পারে।
এদিকে নোয়াখালীর হাতিয়ায় ঝড়ে মেঘনা নদীতে নৌকা ডুবে ছয় জেলে নিখোঁজ হয়েছেন।
রোববার রাতে হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খোন্দকার রেজাউল করিম এ কথা জানান। নিখোঁজরা হলেন- হাতিয়ার হারুন, রুবেল, এনায়েত, সুফিয়ান, জহির ও আলমগীর। ইউএনও রেজাউল বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “বঙ্গোপসাগর থেকে মাছ ধরে ফেরার পথে বিকালে মেঘনা নদীর দমার চরের কাছে ঝড়ের কবলে পড়ে একটি নৌকা ডুবে যায়। ঘটনার পরপর জেলে ও মাঝি মাল্লাসহ নয়জন ফিরে আসলেও ছয় জেলের সন্ধান মিলছে না।
টেকনাফ থেকে সাংবাদিক  হাফেজ মুহাম্মদ কাশেম জানান, টেকনাফে ঝড়ো হাওয়ার কবলে পড়ে ফিশিং ট্রলার ডুবিতে ১ জন জেলে নিখোঁজ রয়েছে। ১১ জুন দুপরে টেকনাফের উপকুলে এ ঘটনা ঘটে। রাতে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত নিখোঁজ জেলের সন্ধান পাওয়া যায়নি। নিখোঁজ জেলে টেকনাফ সদর ইউনিয়নের উত্তর লম্বরী গ্রামের বাসিন্দা আবুল হোসেন (৩৬) বলে জানা গেছে। রাত সাড়ে ৯টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত নিখোঁজ জেলের সন্ধান অব্যাহত রেখেছে। জীবিত কিংবা পাওয়া যায়নি বলে জানা গেছে।
নিখোঁজ জেলের আত্নীয় এবং কুলে ফেরা জেলেদের সুত্রে জানা যায় ৩নং সতর্ক সংকেত সত্বেও টেকনাফ সদর ইউনিয়নের লম্বরী ঘাট দিয়ে জেলেরা বঙ্গোপসাগরে মাছ শিকার অব্যাহত রেখেছেন। বর্তমানে সাগরে প্রচুর ইলিশ ধরা পড়ায় মাছের লোভে জেলেরা সংকেত উপেক্ষা করে সাগরে মাছ শিকারে যাচ্ছেন বলে জানা গেছে। ১১ জুন সকালে টেকনাফ সদর ইউনিয়নের উত্তর লম্বরী গ্রামের বাসিন্দা মৃত শহর মুল্লুকের পুত্র নজির আহমদের মালিকানাধীন ফিশিং ট্রলার ৬ জন মাঝি-মাল্লা নিয়ে উত্তর লম্বরী ঘাট দিয়ে বঙ্গোপসাগরে মাছ শিকারে যায়। দুপুরে ফেরার সময় ঝড়ো হাওয়ায় ফিশিং ট্রলারটি বাহারছড়া ইউনিয়নের জাহাজপুরা উপকুলে নিয়ে যায়। সেখানে তীরে ফেরার সময় ফিশিং ট্রলারটি ডুবে যায়। মাঝি ছৈয়দ আলমসহ ৫ জন জেলে কোন রকম তীরে ফিরতে পারলেও আবুল হোসেন নিখোঁজ হয়ে যায়।
এদিকে ১০ জুন সন্ধ্যা থেকে টেকনাফের সর্বত্র ঝড়ো হাওয়াসহ থেমে থেমে মাঝারী ও ভারী বৃষ্টি অব্যাহত রয়েছে। সেন্টমার্টিনদ্বীপ ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ্ব নুর আহমদ জানান ঝড়ো হাওয়ায় সাগর উত্তাল রয়েছে। ঝড়ো হাওয়ায় দ্বীপের ঘাটে বেধে রাখা ১টি ফিশিং ট্রলার ভেঙ্গে গেছে। ডুবে যাওয়ার নৌকার মালিক আবদুল ওহাব নিখোঁজ জেলেদের পরিচয় নিশ্চিত করেছেন।
এদিকে মহেশখালী উপকূলেও রবিবার মধ্যরাতে প্রবল দমকা হাওয়া বয়ে যাচ্ছে। গাছ পালা ভাংছে ও উপড়ে পড়ছে। লোকজন মোরার মত আরেকটি সাইক্লোনের আতংকে রয়েছে। মহেশখালী এখনো ৫০ জেলে নিখোঁজ রয়েছে।

Comments are closed.