কাতার ইস্যুতে ট্রাম্প হচ্ছেন নাটের গুরু

ওয়ান নিউজ ডেক্সঃ সন্ত্রাসে মদদ দেওয়ার অজুহাতে কাতারের সাথে সম্পর্কচ্ছেদ করেছে সৌদি আরব ও মিশর নেতৃত্বাধীন অর্ধডজন মুসলিম দেশ। এর পেছনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দায়ী বলে অভিযোগ ইরানের। খবর রয়টার্সের।

ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মধ্যপ্রাচ্য সফরের পরপরই এমন সিদ্ধান্ত আসায় সেটা মধ্যপ্রাচ্য বিশেষজ্ঞদের কাছে স্পষ্ট মার্কিন প্রেসিডেন্টের হাত না থেকে পারে না। ইরান সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের দিকেই অভিযোগের তীর ছুড়ে। কারণ সৌদি আরবের সাথে দীর্ঘদিনের তিক্ত সম্পর্কের কারণে পরোক্ষভাবে ইরানকে টার্গেট করেই কাতারের সাথে কূটনীতিক ও বাণিজ্যিক ও যোগাযোগসহ সকল সম্পর্কচ্ছেদ করা হয়েছে।

উপসাগরীয় দেশগুলো এবং বিশেষ করে মিশর কাতারের প্রতি তাদের নিন্দা জানিয়ে আসছিলো কারণ কাতার মুসলিম ব্রাদারহুডসহ বিভিন্ন ইসলামিস্টদের সমর্থন দিয়ে আসছিলো। মুসলিম ব্রাদারহুডকে মিশর ও সৌদি আরব ভয়ানক রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ মনে করে।

সাম্প্রতিক এ ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক ভূমণ্ডলে বড় আকারের ফাটলের সৃষ্টি করেছে।

কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয় ‘চারটি দেশের গৃহীত সিদ্ধান্ত অহেতুক এবং যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে সেগুলোর কোন ভিত্তি নেই।’ তবে একই সাথে বিবৃতিতে আরও বলা হয় চার দেশের সিদ্ধান্তের ফলে ‘দেশের (কাতারে) কোনো নাগরিক ও বাসিন্দার স্বাভাবিক জীবনে কোনো প্রভাব ফেলবে না।’

মধ্যপ্রাচ্যের চার দেশের সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা করে বলা হয় ‘তাদের লক্ষ্য স্পষ্ট। তারা আমাদের উপর মুরব্বীগিরী করতে চায়। এটা তো আমাদের (কাতারের) সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন।’

সোমবার কাতারের সাথে সম্পর্কচ্ছেদের ঘোষণা দেয় সৌদি আরব, মিশর, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইন। কাতার ও তার জবাবে সৌদি আরবে সকল ধরণের বিমান যোগাযোগ বাতিল করেছে।

কাতারের সাথে সম্পর্কচ্ছেদের ব্যাপারে সৌদি নেতৃত্বাধীন কয়েকটি দেশের সিদ্ধান্তের ফলে দেশটির অর্থবাজারে ব্যাপক টানাপোড়েন শুরু হয়েছে। তেলের দাম বেড়ে গিয়েছে। দেশটির স্টক মার্কেট ও শেয়ারের দ্রুতপতন হচ্ছে। আল জাজিরার মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক সিনিয়র সংবাদদাতা হাশেম আহেলবাররা বলেন: ‘মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এটা হচ্ছে সবচেয়ে মারাত্মক রাজনৈতিক সংকট।’

Comments are closed.