বদিকে নিয়ে আগাম নির্বাচনী জরিপ!

ওয়ান নিউজ ডেক্সঃ ‘এমপি বদি’, পুরো নাম আব্দুর রহমান বদি। দেশের যেই প্রান্তেই যান এই নামটি বললে সবাই মুহূর্তের মধ্যেই চিনে ফেলেন। ২ মেয়াদে আওয়ামী লীগ সরকারের সবচেয়ে আলোচিত-সমালোচিত সংসদ সদস্যের নাম এটি।  সংসদের ৩০০টি আসনের এমপিদের নাম অনেকেই না জানলেও দেশের সর্বদক্ষিণের কক্সবাজার-৪ (উখিয়া-টেকনাফ) আসনের এমপি বদির নাম সবাই জানেন।

কারণ মাদক ব্যবসা, মানব পাচার ও রোহিঙ্গাদের মদদ দেওয়ার অভিযোগে এমপি বদি প্রায়ই সংবাদের শিরোনাম হয়েছেন। তার কারণে বিভিন্ন সময় আওয়ামী লীগ ইমেজ সঙ্কটে পড়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগের যেসব ‘বিতর্কিত’ এমপিকে মনোনয়ন না দেওয়ার সম্ভাবনা আছে, তাদের মধ্যে বদির নাম উপরের দিকে রয়েছে বলে জানা গেছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়েরর ইয়াবা পাচার, মানব পাচার ও মিয়ানমারের রোহিঙ্গাদের মদদ দেওয়ার তালিকার শীর্ষে আছেন আবদুর রহমান বদি। তিনি ছাড়াও তার পরিবারের এক ডজন সদস্যের নামও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ইয়াবা ব্যবসায়ীর তালিকায় আছে। সরকার ক্ষমতায় থাকার সময় দুদকের করা সম্পদের তথ্য গোপন মামলায় একমাত্র সংসদ সদস্য হিসেবে বদির ২ বছরের জেল হয়েছে। এমপি বদি বিভিন্ন সময় সরকারি কর্মকর্তা, শিক্ষক ও আইনজীবীকে মারধর করার কারণে সরকারকে বিব্রত অবস্থায় ফেলেছেন।

এমপি বদিকে নিয়ে দেশজুড়ে এতো আলোচনা, সমালোচনা ও বিতর্ক হলেও আগামী নির্বাচনে তাকে মনোনয়ন দেওয়া না দেওয়া নিয়ে কঠিন পরীক্ষায় আওয়ামী লীগ। এর প্রধান কারণ হল নির্বাচনী এলাকায় বদির জনপ্রিয়তা ও বিকল্পযোগ্য প্রার্থী না থাকা।

কক্সবাজার-৪ (উখিয়া-টেকনাফ) বদির আসনে সরকারি সংস্থার সম্ভাব্য প্রতিটি জরিপে নৌকার প্রার্থী হিসেবে এগিয়ে আছেন বিতর্কিত এই সংসদ সদস্য।

কক্সবাজার-৪ আসনে সরকারি সংস্থার এক জরিপ সূত্রে জানা গেছে, বদি ছাড়াও এই আসনে নৌকার টিকিট চাইতে পারেন মোট ৫ জন।

অন্যরা হলেন সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক মোহাম্মদ আলী, উখিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হামিদুল হক চৌধুরী, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শাহ আলম চৌধুরী ও জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আলী আহম্মদ।

জরিপে বলা হয়েছে, কক্সবাজার-৪ (উখিয়া-টেকনাফ) আসনে বর্তমান সংসদ সদস্য বদিকে নৌকার মনোনয়ন দিলে তার জয়ের সম্ভাবনা ৬০ শতাংশ, সাবেক সংসদ অধ্যাপক মোহাম্মদ আলীর ৪০ শতাংশ, হামিদুল হক চৌধুরী, শাহ আলম চৌধুরী ও আলী আহম্মদের নৌকা নিয়ে জয়ের সম্ভাবনা ৩০ শতাংশ।

জরিপে আরো বলা হয়েছে, বদি ছাড়া এই আসনে আওয়ামী লীগের অন্য প্রার্থীর জয়ের সম্ভাবনা খুবই কম।

মাঠ পর্যায়ের এই জরিপের ফলে কঠিন পরীক্ষায় আওয়ামী লীগ। ১১তম সংসদ নির্বাচনে বিএনপি অংশগ্রহণ করলে নির্বাচনে তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। তখন আসন রক্ষার কথা বিবেচনা করলে কক্সবাজার-৪ (উখিয়া-টেকনাফ) আসনে বদিকে বাদ দেওয়া আওয়ামী লীগের জন্য বিরাট চ্যালেঞ্জ হবে। আবার সারাদেশে দলের ভাবমূর্তি রক্ষায় বদির মতো বিতর্কিত সংসদ সদস্যদের মনোনয়ন না দেওয়াটাও জরুরি। এখন দেখার বিষয় কোনদিকে যায় আওয়ামী লীগের সিদ্ধান্ত।

উখিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির চৌধুরী বলেছেন, দল নিশ্চয়ই নির্বাচনে জয়ী হতে পারবে এমন প্রার্থীকে মনোনয়ন দেবে। মনোনয়ন প্রদানের ক্ষেত্রে জরিপ করে দেখা উচিত কোন প্রার্থী সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়। উখিয়া টেকনাফে বদিকে বাদ দিয়ে অন্য কাউকে মনোনয়ন দিলে জয় পেতে কষ্ট হবে।

টেকনাফ থেকে নির্বাচিত কক্সবাজার জেলা পরিষদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আলহাজ্ব শফিক মিয়া জানিয়েছেন, বদিকে নিয়ে যেই অভিযোগগুলো আছে বাস্তবের সঙ্গে তার মিল নেই। সাধারণ ভোটারদের কাছে বদি সবচেয়ে জনপ্রিয়। তাই তিনি আশা করেন নৌকার জয় নিশ্চিত করতে বদিকেই ফের মনোনয়ন দেওয়া হবে।

এ বিষয়ে টেকনাফ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক মোহাম্মদ আলী বলেন, কোনো বিতর্কিত ব্যক্তিকে মনোনয়ন দিলে দলের ভাবমূর্তি নষ্ট হবে।

দলের ইমেজ যাতে নষ্ট না হয় সেই জন্য সৎ ও ক্লিন ইমেজের প্রার্থীকে মনোনয়ন দেওয়ার দাবি করেছেন সাবেক এই সংসদ সদস্য।

তবে সংসদ সদস্য আব্দুর রহমান বদি বলেন, তিনি কখনো ইয়াবা ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন বা আছেন তার প্রমাণ দিতে পারলে সংসদ সদস্য পদ ছেড়ে দেবেন।

তিনি জানিয়েছেন, দলের হাইকমান্ড তাকে যদি আগামী সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেয় তাহলে তিনি নিশ্চিত জয় লাভ করবেন।

Comments are closed.