বিদ্যুতের বদলে সরকারের উপহার লোডশেডিং

ওয়ান নিউজঃ বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোর কথা বলে সরকার জনগণকে লোডশেডিং উপহার দিচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

গতকাল বুধবার (২৪ মে) এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ভয়াবহ লোডশেডিংয়ে জনজীবন বিপযস্ত হয়ে পড়েছে। ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, সিলেট, খুলনা ও রাজশাহীর মতো বড় বড় শহর-নগরে লোডশেডিং হচ্ছে দফায় দফায়।

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বলেন, বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার শুরু থেকেই বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধির কথা বলে জনগণের পকেট থেকে লক্ষ কোটি টাকা বের করে নিয়ে জনগণকে উপহার দেয়া হয়েছে এই লোডশেডিং। সারা দেশে প্রায় ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা ধরে লোডশেডিং হচ্ছে বলে অভিযোগ করে তিনি বলেন, জ্যৈষ্ঠের খরতাপে মানুষের যখন স্বস্তি দরকার। তখন এই দীর্ঘক্ষণ লোডশেডিং সরকারের উন্নয়নের জলজ্যান্ত উদাহরণ।

গতকাল সকালে রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) বিরুদ্ধে বিদ্যুৎ উৎপাদন নিয়ে মিথ্যাচারের অভিযোগ তুলেন বিএনপির এই মুখপাত্র।

এ সময় রিজভী আরো বলেন, পিডিবির ওয়েবসাইটে দেখা যায়, ২১ মে ৮ হাজার ৮০০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদার বিপরীতে উৎপাদন ছিল ৮ হাজার ৮৩০ মেগাওয়াট। তার আগের দিন ২০ মে চাহিদা ছিল ৮ হাজার ৭০০ মেগাওয়াট, উৎপাদন ছিল ৮ হাজার ৮১৯ মেগাওয়াট। ‘নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ দিতে আরো তিন-চার বছর লাগবে’ বলে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপুর উদ্ধৃতি দিয়ে রিজভী বলেন, দেখুন সরকারের প্রতিষ্ঠান পিডিবি বিদ্যুৎ নিয়ে দিচ্ছে এরকম তথ্য। আর প্রতিমন্ত্রী বলছেন ভিন্ন কথা। পিডিবি ডাহা মিথ্যাচার করছে, তারা জনগণকে ধোঁকা দিচ্ছে।

রিজভী আরো বলেন, কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎ স্থাপন করে মূলত লুটপাটেরই সুযোগ দেয়া হয়েছে। আর কেটে নেয়া হয়েছে সাধারণ মানুষের পকেট। অনুন্নয়নের শরীরে প্রসাধনী মাখালেই উন্নয়ন হয় না। সেটি হয় ধাপ্পাবাজি। আওয়ামী সরকার সেই কাজটি করছে।

বিএনপি কার্যালয়ের সামনে থেকে প্রতিদিন পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা বিএনপি কর্মীদের তুলে নিয়ে গ্রেফতার করছে। এরপর মিথ্যা মামলা দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসিচিব।

এছাড়া গত ২০ মে গুলশানে চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে পুলিশি তল্লাশির প্রতিবাদে আজ বুধবার ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জনসভার অনুমতির বিষয়ে রিজভী বলেন, আমরা আশা করছি, সরকার আমাদেরকে অনুমতি দেবেন। দেখি আজকে (গতকাল) তারা (পুলিশ ও গৃহায়ন অধিদপ্তর) কি সিদ্ধান্ত দেন। আমাদের ঢাকা মহানগর উত্তর-দক্ষিণ সর্বাÍক প্রস্তুতি নিয়েছে, এই জনসভা সফল করতে।

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, কেন্দ্রীয় নেতা তাইফুল ইসলাম টিপু ও বেলাল আহমেদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

Comments are closed.