সৌদি সম্মেলনে খালেদা জিয়া গেলে ফখরুল কী বলতেন?

ওয়ান নিউজ ডেক্সঃ সৌদি আরবে সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বদলে খালেদা জিয়া থাকলেও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সমালোচনা করতেন কি না- সেই প্রশ্ন তুলেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

রিয়াদে আরব-ইসলামিক-আমেরিকান সম্মেলনে ৫০টি মুসলিম দেশের নেতারা থাকার পরও শেখ হাসিনার সেখানে অংশগ্রহণ নিয়ে বিএনপির সমালোচনার কোনো যৌক্তিকতা দেখছেন না তিনি।

ওবায়দুল কাদের বলেন, “দাওয়াত দিয়েছেন সৌদি আরবের বাদশাহ। সৌদি আরবের বাদশাহর দাওয়াতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যাবেন না? যদি আজ বেগম খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী থাকতেন, তাহলে কি মির্জা ফখরুল এ কথা বলতেন? অবশ্যই বলতেন না। রাজনীতির জন্য তারা কেন রাজনীতি করেন?”

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও মুসলিম প্রধান অর্ধশতাধিক দেশের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধান রোববার কিং আব্দুল আজিজ আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ওই সম্মেলনে যোগ দেন। সন্ত্রাসবিরোধী লড়াইয়ের এক থাকার কথা বলেন তারা।

গত জানুয়ারিতে শপথ নেওয়ার পর এটাই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রথম বিদেশ সফর। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে এই সম্মেলনেই তার প্রথম দেখা হয়।

ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাচনকালীন মুসলিমবিরোধী নানা বক্তব্যের দিকে ইঙ্গিত করে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সোমবার ঢাকায় এক অনুষ্ঠানে বলেন, “আজকে দুর্ভাগ্য আমাদের এই ট্রাম্প আজকে প্রায় সভাপতিত্ব (সম্মেলনে) করছেন বলা যায় এবং সেখানে আমাদের দেশের প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত হয়েছেন।”

মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর র‌্যাডিসন হোটেলের সামনে বিআরটিএ-এর ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রম দেখতে এসে সাংবাদিকদের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলেন সেতুমন্ত্রী কাদের।

তিনি বলেন, “সৌদি আরবের কোনো একটি অনুষ্ঠানে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ছিলেন, সেখানে বিশ্বের ৫০টি মুসলিম দেশ ছিল, এটা নিয়ে বিতর্ক তোলার তো কোনো কারণ নেই।

“আজ তারা যদি ক্ষমতায় থাকত এবং প্রধানমন্ত্রী যদি খালেদা জিয়া থাকতেন, আর খালেদা জিয়া এই অনুষ্ঠানে যেতেন, তাহলে এ নিয়ে তারা উল্লসিত, উচ্ছ্বসিত হতেন। তাহলে এখন কেন হতাশা?”

বিএনপির রাজনীতির ধরনের সমালোচনায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, “খালি একটার পর একটা ইস্যু খোঁজেন। ইস্যু না পেলেও ইস্যু খোঁজেন, তাদের এখন ইস্যু খোঁজা ছাড়া আর কিছু নেই। একটার পর একটা ইস্যু। সব ইস্যু শেষ পর্যন্ত মাঠে মারা যায়, তারপরও ইস্যু খোঁজে। এটা বিএনপির পুরনো অভ্যাস।”

বিএনপি এখন ‘বেপরোয়া গাড়ির বেপরোয়া ড্রাইভারের’ মত হয়ে গেছে মন্তব্য করে ওবায়দুল কাদের বলেন, নির্বাচনের বর্ষপূর্তি ঘিরে বিএনপির আন্দোলনের সময় ‘খালেদা জিয়ার অফিস থেকেই’ ১৬৫ জন মানুষকে ‘পুড়িয়ে মারা’ হয়েছে। সরকারি অফিস ‘পোড়ানো হয়েছে’।

“তখন বিএনপি চেয়ারপারসন নিজে চট্টগ্রামের নেতাদের মোবাইলে গালিগালাজ করেছেন- তারা ঠিকমত কাজ করছে না কেন, বাস পুড়ছে না কেন? রাস্তার গাছ কাটছে না কেন, রাস্তা কাটছে না কেন, সরকারি অফিস পোড়াচ্ছে না কেন?

“তারা এখন কত কিছু বলবে এই যে বললাম বিএনপি এখন বেপরোয়া গাড়ির বেপরোয়া ড্রাইভারের মত হয়ে গেছে। কখন যে কোন দুর্ঘটনা ঘটিয়ে ফেলে, সেটাই আমাদের জন্য আতঙ্ক।”

Comments are closed.