হলুদ সাংবাদিকতা দাপ্তরিক দুর্নীতিকে উৎসাহিত

মোঃ নেজাম উদ্দিন

জেলার প্রত্যেকটি উপজেলায় কিছু অর্থলোভী, অনৈতিক চরিত্রের অধিকারী, অশিক্ষিত, ধান্ধাবাজ মানুষ নিজের সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে সাধারণ জনগণকে প্রতারিত এবং বিভিন্ন সরকারী বেসরকারী প্রশাসনিক দপ্তরে দৈনিক প্রকাশিত সংবাদপত্রের সমালোচনা করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

কোন দৈনিক পত্রিকায় যখন কোন অনিয়ম দুর্নীতির সংবাদ প্রকাশিত হয় তখনই ঐ ধান্ধাবাজ টাউটরা নিজেদের বড়মাপের সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে প্রকাশিত সংবাদপত্রের দুর্নাম করে অভিযুক্ত ব্যাক্তির কাছ থেকে প্রতিবাদ ছাপানোর নামে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে।

সকালে খালি পেঠে বের হয়ে রাত ১০ টায় বাজার করে ঘরে যাওয়ার পেশা সাংবাতিকতা নয়, সমাজের মানুষের অসাহায়ত্বকে পুজি করে অর্থ লুটে নেওয়া সাংবাদিকতা নয়, দুর্নীতিবাজদের কাছ থেকে প্রতিমাসে ২শ,৫শ টাকা নিয়ে তাদের অনৈতিক কর্মকান্ডকে স্বীকৃতি দেওয়া সাংবাদিকতা নয়। থানায়, কোর্টে, সালিশী কার্যালয়ে সেবার নামে দালালী করা সাংবাদিকতা নয়। ইংরেজি ‘জার্নাল’ এবং ‘ইজম’ থেকে জার্নালিজম বা সাংবাদিকতার উৎপত্তি।

‘জার্নাল’ শব্দের অর্থ কোনো কিছু প্রকাশ করা এবং ‘ইজম’ শব্দের অর্থ অনুশীলন বা চর্চা করা। সে হিসেবে কোনো কিছু জনসমক্ষে প্রকাশ করার জন্য যে চর্চা বা অনুশীলন তাকে সাংবাদিকতা বলা হয়। আর যিনি সংবাদপত্রের জন্য সংবাদ সংগ্রহ করেন ও লিখেন তিনিই সাংবাদিক। দালালী ছাড়ুন অন্যথায় সাংবাদিক নাম মুখে না নেওয়ার হুশিয়ারি দিয়েছেন দুর্নীতি দমনে গণমাধ্যম (দুদগ)।

সংবাদপত্রের রেজিষ্ট্রেশন নাই, ডিএফপি নাই ইত্যাদি কথা বলে নিজেদের মুর্খতা জাহির করলেও সাধারণ জনগণ তা সহজে বুঝে উঠতে না পারায় প্রতিনিয়ত প্রতারিত হচ্ছে এমন ভন্ড কিছু কথিত সাংবাদিকদের হাতে।

দৈনিক আলোকিত উখিয়ার সম্পাদক মোঃ মিজান উর রশীদ মিজান বলেন, সংবাদপত্র বাজারে প্রকাশিত হতে কোন ধরনের রেজিষ্ট্রেশন প্রয়োজন হয়না এবং সংবাদপত্রের আইনে ডিএফপি বলতে কোন শব্দ নেই। সংবাদপত্র প্রকাশনার জন্য প্রয়োজন স্ব- জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের ঘোষণাপত্র এবং এই ঘোষণাপত্র ছাড়া কোন সংবাদ পত্র প্রকাশিত হতে পারেনা হলে তা সম্পুর্ন বেআইনী। কক্সবাজার থেকে প্রকাশিত প্রত্যেক দৈনিক পত্রিকার ঘোষণা পত্র রয়েছে তাতে কোন সন্দেহ নেই।

ডিএফপি হচ্ছে বাংলাদেশ সরকারের একটি প্রতিষ্ঠানের নাম (ডিপারর্টমেন্ট অব ফিল্ম এন্ড পাবলিকেশন) এই প্রতিষ্ঠান থেকে সংবাদপত্রের নামের ছাড়পত্র দেওয়া হয়। ডিএফপি আবেদনকৃত সংবাদপত্রের নামের ছাড়পত্র দেয়। নামের ছাড়পত্র না পেলে ঘোষণাপত্র হয়না। পত্রিকার রেজিষ্ট্রেশন নাম্বার নেই, ডিএফপি নাম্বার নেই এসব মুর্খদের, অশিক্ষিতদের, ভন্ডদের ভন্ডামী, মানুষ ভুলানোর বিভিন্ন বিভ্রান্তিকর কথা।

এ ধারনা সম্পুর্ন ভুল। সংবাদপত্রে ছাপানো রেজিঃনং এর দিকে ইঙ্গিত দিয়ে তিনি আরো বলেন, সংবাদপত্রে এই রেজিঃনং টি দেয় জিপিও অর্থাৎ জেনারেল পোষ্ট অফিস। পোষ্টাল সার্ভিস সাশ্রয়ীর জন্য সরকার সংবাদপত্রকে এ সুযোগ সুবিধা দিয়েছে। এ রেজিঃনং থাকলে যেকোন জায়গায় সাশ্রয়ে পত্রিকাটি পাঠানো যায়। এই রেজিঃনং না থাকলে সংবাদপত্র প্রকাশনায় কোন অসুবিধা হয়না। হলুদ সাংবাদিকরা যেখানে সাংবাদিকতা বুঝেনা সেখানে সংবাদপত্র অনেক দুরূহ ব্যাপার। সাধারণ মানুষকে ভুলভাল বুঝিয়ে প্রতারনা করে হলুদ সাংবাদিকতার মাধ্যমে যারা অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে এবং বিভিন্ন প্রশাসনের দুর্নীতিবাজদের সংবাদপত্রের দুর্নাম করছে তাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার দাবী জানিয়েছেন সচেতন সাংবাদিকবৃন্দ। হলুদ সাংবাদিকরা জাতির কুলাঙ্গার, রাষ্ট্রের শত্র“, সমাজের কীট এদের কারনেই আজ পুরো সাংবাদিক সমাজ কুলষিত।

মোঃ নেজাম উদ্দিন
গণমাধ্যম ও মানবাধিকারকর্মী।

Comments are closed.