টাকা পাচার, শুল্ক ফাঁকি ও দুর্নীতি করেছেন মুসা : শুল্ক গোয়েন্দা

ওয়ান নিউজঃ ধনকুবের ‘প্রিন্স মুসার’ বিরুদ্ধে শুল্ক ফাঁকি, টাকা পাচার ও দুর্নীতির তিন অভিযোগ প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন শুল্ক গোয়েন্দা।  অভিযোগের প্রমাণ পাওয়ায় শুল্ক ফাঁকির ঘটনায় মুসাকে প্রধান আসামি ও মানি লন্ডারিংয়ে সহযোগী আসামি করে দুটি মামলা করবে শুল্ক গোয়েন্দা। একই সঙ্গে দুর্নীতির দায়ে দুর্নীতি দমন কমিশনকে আইনানুযায়ী যথাযোগ্য ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ জানানো হবে।

রোববার মুসা বিন শমসেরের জবানবন্দি শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান শুল্ক গোয়েন্দা মহাপরিচালক ড. মইনুল খান।

কাস্টমস ডিজি বলেন, শুল্কমুক্ত সুবিধার অপব্যবহারসহ মানিলন্ডারিং অভিযোগের বিষয়ে জবানবন্দি দিয়েছেন প্রিন্স মুসা বিন শমসের। দুই সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে।

মইনুল খান বলেন, প্রিন্স মুসা বিন শমসেরকে রোববার বিকেল ৩টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত দুই ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে প্রয়োজনীয় তথ্য দেন প্রিন্স মুসা। তিনটি অভিযোগের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ ও আমাদের নিজস্ব তদন্তে তার বিরুদ্ধে প্রমাণ মিলেছে। এরমধ্যে শুল্ক ফাঁকির মামলায় মুসাকে প্রধান আসামি করা হবে। পাশাপাশি মানিলন্ডারিং ও দুর্নীতি দায়ে সহযোগী আসামি করে ২টি মামলা করা হবে।

তিনি আরও বলেন, ইংল্যান্ডের নাগরিক ফরিদ নাবিরকে প্রধান আসামি করে মানিলন্ডারিং মামলা দায়ের করা হবে। এ মামলায় সহযোগী আসামি হবেন মুসা বিন শমসের। এসব দুনীতিতে সহায়তাকারীরা এই মামলায় আসামি হবে। কেউ ছাড় পাবে না।

ড. মইনুল খান বলেন, প্রিন্স  মুসাকে দুই ঘণ্টাব্যাপী  জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। আশা করছি তাকে আর ডাকা হবে না। প্রয়োজন হলে তার পক্ষ থেকে কেউ আসলেই হবে।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, প্রিন্স মুসার আরো অনেক গাড়ি রয়েছে এমন অভিযোগ আমাদের কাছে এসেছে। তা যাচাই ও প্রমাণ সাপেক্ষ। যদি সেরকম তথ্য-প্রমাণ মেলে, তবে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এর আগে, শুল্ক ফাঁকি ও মানি লন্ডারিংয়ের তদন্তে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য শুল্ক গোয়েন্দা কার্যালয়ে হাজির হন প্রিন্স মুসা। রোববার বিকেল ৩টার দিকে ছয়টি গাড়িতে কমপক্ষে ৩০ জন দেহরক্ষী নিয়ে শুল্ক গোয়েন্দা কার্যালয়ে হাজির হন তিনি। তার সঙ্গে এসময় পাঁচ আইনজনজীবী ছিলেন।

দেহরক্ষীদের বেষ্টনীর মধ্য দিয়ে একটি সাদা রঙের গাড়ি থেকে নেমে গোয়েন্দা অফিসে যান মুসা। তার সঙ্গে লিফটে প্রায় পাঁচ দেহরক্ষী উপরে উঠার সুযোগ পান। বাকিরা নিচে পার্কিংয়ে অবস্থান করেন।

মুসার জিজ্ঞাসাবাদের পর সাংবাদিকরা তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি ইশারায় বাকশক্তি হারিয়েছেন বলে জানান।

Comments are closed.