দুর্নীতির দায় নিয়ে অবসরে বেগম রোকেয়ার ভিসি

ওয়ান নিউজ ডেক্সঃ মামলা আর দুনীতির দায় মাথায় নিয়ে বিদায় নিলেন রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম নূর-উন-নবী। শুক্রবার রাত সাড়ে ১২টায় পেছনের গেট দিয়ে বাসভবন ছাড়লেন তিনি। সাংবাদিকদের ছবি তোলার ভয়ে তার বাসভবনের পেছনের গেট দিয়ে কালো জীপের একটি গাড়িতে চড়ে বের হয়ে যান উপাচার্য। এর আগে রাত ১২টায় উপাচার্য ড. একে এম নূর-উন-নবী অবসরের বিষয়ে তিনটি ফাইলে স্বাক্ষর করেন বলে জানিয়েছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিশ্ববিদ্যালয়ের এক কর্মকর্তা।

বুধবার সারাদিন ও মধ্যরাত পর্যন্ত ছাত্রলীগ কর্মীরা ভিসিকে অবরুদ্ধ করে রাখে। রাত পৌনে একটায় অবমুক্ত হয়ে উপাচার্য তার বাসভবনে প্রবেশ করেন। বৃহস্পতিবার বাসভবনেই বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ফাইলে স্বাক্ষর করেন। এরপর নানা নাটকীয়তার মধ্য দিয়ে তার চার বছর পূর্ণ করে দুনীতি আর বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষকের দায়ের করা মামলা মাথায় নিয়ে অবসরে যান এ উপাচার্য।

মিথ্যা মামলায় শিক্ষকদের জড়িয়ে পদোন্নতি আটকে রাখার অভিযোগে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. এ কে এম নূর-উন-নবীর বিরুদ্ধে মানহানি মামলা করেছেন বেরোবি শিক্ষক সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক তাবিউর রহমান প্রধান। বৃহস্পতিবার সকালে রংপুর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট-১ তারিক হোসেনের আদালতে বাদীর পক্ষে মামলাটি করেন অ্যাডভোকেট মুনীর চৌধুরী।

মামলার বাদী তাবিউর রহমান প্রধান জানান, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর একেএম নূর-উন-নবীর স্বেচ্ছাচারিতা ও অনিয়মের বিরুদ্ধে আন্দোলনরত অনশন মঞ্চে ২০১৫ সালের ৩ মার্চ ভিসির আর্শীবাদপুষ্টরা হামলা চালিয়ে শিক্ষক কর্মচারীদের লাঞ্ছিত করেন এবং ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। এ ঘটনায় পুলিশ একটি অজ্ঞাত মামলা দায়ের করে। যাতে শিক্ষকদের অনৈতিকভাবে জড়ানোর চেষ্টা করেন উপাচার্য এবং মামলার অজুহাতে শিক্ষক-কর্মকর্তাদের পদোন্নতি আটকে রাখেন। যা শিক্ষকদের মানহানি ঘটিয়েছে। আর সেই মানহানির যথাযথ বিচার নিশ্চিতে মামলা করা হয়েছে।

Comments are closed.