“ডিজিটাল আইল্যান্ড মহেশখালী শেখ হাসিনার যুগান্তকারী পদক্ষেপ”

ই-গভর্নমেন্ট মাস্টার প্লান বাস্তবায়নের মাধ্যমে সব উন্নত প্রযুক্তি কাজে লাগিয়ে কক্সবাজারের মহেশখালী দ্বীপকে সিঙ্গাপুরের মত সর্বাধুনিক ‘ডিজিটাল আইল্যান্ড’ হিসেবে গড়ে তোলা হবে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। প্রতিমন্ত্রী পলক বলেন, মহেশখালীর মানুষ আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির সেবা থেকে বিচ্ছিন্ন ছিল। সেখানকার মানুষের সঙ্গে ঢাকা শহরের মানুষের পার্থক্য রয়েছে। এখন আর এ ভেদাভেদ থাকবে না। এই মহেশখালী হবে সিঙ্গাপুরের আদলে একটি ‘ডিজিটাল অ্যাইল্যান্ড’। এখানে অর্থায়ন করবে উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা কোরিয়ান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি(কোইকা) সরকারের সকল কার্যক্রমে তথ্য ও প্রযুক্তির কার্যকর ও যুগোপযোগী সংযোজনের লক্ষ্য নিয়ে গঠিত হয়েছিল ডিজিটাল মাস্টার প্লান। এই প্লান অনুসারে সকল মন্ত্রণালয়/বিভাগ একীভূত কাঠামোতে নিয়ে আসতে ন্যাশনাল এন্টারপ্রাইজ আর্কিটেক্ট (এনইএ) বাস্তবায়নে কাজ করছে। কোরিয়ান সরকার সরকারি ই-গর্ভনমন্টে সেবায় সারা পৃথিবীতে এগিয়ে রয়েছে। তাদের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে মহেশখালি হচ্ছে ডিজিটাল দ্বীপ। বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষা এখন আর সেই যুগে নেই। বিশ্ব দরবারে এ স্তরের শিখন-শেখানো কার্যক্রমের মানে উন্নত প্রযুক্রির ছোঁয়া একে আগামী ৫/১০ বছরে অনেক উপরে নিয়ে যাবে। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সুযোগ্য কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার এ যুগান্তকারি পদক্ষেপের সূচনা ঘটালেন। আর এর নেপথ্যে রয়েছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর স্বনামধন্য তথ্য-প্রযুক্তিবিদ সন্তান ও বাংলাদেশের ভবিষ্যত পথরেখা এবং উন্নত জাতি গড়ে তোলার স্বপ্নদ্রষ্টা ও বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় তথ্য-প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজিব ওয়াজেদ জয়। আরও আছেন তথ্য-প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিন্ত্রী জনাব জুনায়েদ আহমদ পলক। ডিজিটাল বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার ধারাবাহিকতায় ‘ডিজিটাল আইল্যান্ড মহেশখালী’ কার্যক্রমের সূচনা ঘটতে যাচ্ছে শীঘ্রই। আগামী ২৭/০৪/২০১৭খ্রি: তারিখ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিডি কন্ফারেন্সের মাধ্যমে এ প্রকল্পের শুভযাত্রা ঘটাবেন। উল্লেখ্য যে, মাতারবাড়ী কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন, সোনাদিয়া ও ধলঘাটায় অর্থনৈতিক জোন স্থাপন, মৈনাক পাহাড়ে এলএনজি স্টেশন তৈরিসহ হাজার কোটি টাকা ব্যয় সাপেক্ষ অনেক মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন কার্যক্রম এরেই মধ্যে মহেশখালীর মাটিতে উন্নয়নের মহা সোপান সৃষ্টি করে দিয়েছে। আইওএম(আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা) এবং কে.টি কর্পোরেশন(কোরিয়ান টেলিকম) যৌথভাবে ডিজিটাল আইল্যান্ড মহেশখালী প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে। এ প্রকল্পের নেপথ্যে রয়েছেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু পরিবারের আরেক সুযোগ্য কন্যা শেখ রেহেনার বউ মা মিস পাপ্পি সিদ্দীক। যা হোক, দক্ষিণ কোরীয় প্রত্যন্ত দ্বীপে সেদেশের সরকার কতৃক গড়ে তোলা আইটি পার্ক গিগা আইল্যান্ডের আদলে উচ্চ গতি সম্পন্ন ইন্টারনেট কানেকটিভিটি ব্যবহার করে মহেশখালী উপজেলায় সর্বস্তরের জনগণের দরজায় শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি ও কম্পিউটার প্রশিক্ষণসহ সকল ধরণের সেবা পৌঁছে দেয়ার এক অনন্য উদ্যোগ গ্রহন করেছে বর্তমান বাংলাদেশ সরকার। প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগে মহেশখালী পৌরসভা, বড় মহেশখালী ও ছোট মহেশখালী ইউনিয়নে এর কার্যক্রম প্রাথমিকভাবে চলবে। ক্রমান্বয়ে পুরো মহেশখালী দ্বীপকে প্রকল্পভুক্ত করা হবে। বিগত ১৫/০৪/২০১৭খ্রি: তারিখ ও গত ২০/০৪/২০১৭খ্রি: তারিখ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য-প্রযুক্তি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মান্যবর সচিব জনাব সুবীর কুমার চৌধুরী এবং অতিরিক্ত জনাব মো: হারুনুর রশিদ মহেশখালী সফর করে উদ্বোধনী কর্মসূচির সার্বিক প্রস্তুতি নিশ্চিত করেন। কক্সবাজার জেলা প্রশাসন এবং মহেশখালী উপজেলা প্রশাসন আসন্ন ২৭ এপ্রিলে/১৭ মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কর্মসূচির সফল বাস্তবায়নে সর্বোচ্চ আন্তরিক প্রস্তুতি নিচ্ছে। ডিজিটাল আইল্যান্ড কর্মসূচি এবং প্রাথমিক শিক্ষা স্তর: মহেশখালী উপজেলার একটি (০১টি) পৌরসভা এবং আটটি (০৮টি) ইউনিয়নের মধ্যে পৌরসভা এবং ছোট ও বড় মহেশখালী ইউনিয়নকে ডিজিটাল আইল্যান্ড মহেশখালী প্রকল্পভুক্ত করা হয়েছে এবং এর অংশ হিসেবে প্রাথমিক স্তরে দশটি (১০টি) সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং ০২টি সরকার নিয়ন্ত্রিত সিনিয়র মাদ্রাসাকে উচ্চ ক্ষমতার তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহারে দূর শিক্ষণ প্রোগ্রাম সম্প্রচার করার পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো হলো; ১. মহেশখালী মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ২. বার্মিজ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৩. আদিনাথ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৪. সিপাহির পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৫. পশ্চিম ফকিরাঘোনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৬. ফকিরাঘোনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৭. গোরকঘাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৮. মুন্সিরডেইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৯. নতুন বাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং ১০. মধূয়ারডেইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। আর মাদ্রসা দুটি হলো; পুটিবিলা তৈয়বিয়া ফাজিল মাদ্রাসা ও আহমদিয়া তৈয়বিয়া সিনিয়র মাদ্রাসা। ‘জাগো ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ’ সংস্থার সহায়তায় ০৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ; যথাক্রমে আদিনাথ, বার্মিজ ও ফকিরাঘোনায় ইতোমধ্যে ‘দূর শিক্ষণ’ কার্যক্রম পরীক্ষামূলকভাবে পরিচালনা শুরু করা হয়েছে। মহেশখালী উপজেলায় বর্তমানে ৭১ টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় আছে। এরমধ্যে ৬৮টিতে পুরোদমে শ্রেণি পাঠদানসহ অন্যান্য কার্যক্রম চলছে। আর বিদ্যালয়বিহীন গ্রামে প্রতিষ্ঠিত তিনটি (০৩টি) সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নির্মাণাধীন ও এখনো পাঠদান কার্যক্রম চালু হয় নি। বর্তমানে প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রম চলমান রয়েছে এমন ৬৮টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ২২টিতে ইতোমধ্যে ল্যাপটপ, প্রজেক্টর ও স্ক্রীন (মাল্টিমিডিয়া) প্রদান করা হয়েছে। আর তথ্য-প্রযুক্তি বিষয়ে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছেন, প্রায় ২০০ জন মত শিক্ষক/শিক্ষিকা। মাল্টিমিডিয়া ব্যবহার করে শ্রেণি পাঠদান কার্যক্রম বর্তমানে প্রত্যাশা অনুযায়ী পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে না।
কারণ বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও ইন্টারনেট-এর গতি খুবই দুর্বল।ডিজিটাল আইল্যান্ড প্রকল্পের আওতায় পুরো মহেশখালীতে উচ্চ গতির ইন্টারনেট কানেক্টিভিটি শুরু হলে প্রাথমিক শিক্ষাস্তরে ও মহেশখালী উপজেলার অন্যান্য সেবা খাতগুলোর সেবা জনগনের ঘরে ঘরে পৌঁছানো এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। এ ক্ষেত্রে মহেশখালী উপজেলার রাজনীতিবিদ, নাগরিক সমাজ, শিক্ষক, সাংবাদিক, পেশাজীবীসহ আপামর জনসাধারণের মেধা-মনন ও রুচিবোধকে জাগ্রত করা একান্ত প্রয়োজন। যদিও অনেকেই আজও বুঝতে পারছেন না যে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পরিবার ও সরকার মহেশখালবিাসীকে কত উঁচু জায়গায় পৌঁছে দিয়েছেন। ২৭ এপ্রিলের/১৭ইং পরে হয়ত যারা এখনো এসব বুঝতে পারছেন না মহেশখালীতে কী ঘটতে যাচ্ছে, তারা স্ব-চক্ষে দেখে উপলব্ধি করতে পারবেন তা, কিছুটা হলেও। ধন্যবাদ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর পরিবারের সদস্যবর্গকে, যাঁরা ডিজিটাল আইল্যান্ড মহেশখালী প্রকল্পের নেপথ্যে রয়েছেন। কক্সবাজার এলাকার সন্তান হিসেবে আমার একান্ত কামনা, আমরাই হবো শিক্ষা-দীক্ষা, উন্নত প্রযুক্তি জ্ঞান অর্জন ও ব্যবহারে দেশ সেরা। আল্লাহ্ তায়ালার নিকট অকুন্ঠ চিত্তে দোয়া করি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর জন্য কক্সবাজারবাসি তথা বাঙ্গালী জাতির মঙ্গলের জন্য এহেন একটি মহত্তম কাজের সূচনা ঘটনানোর উদ্যোগ গ্রহণ করায়। পরিশেষে স্মরণ করি হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানকে।
মোঃ শহিদুল্লাহ
মহেশখালি উপজেলা শিক্ষা অফিসার
মহেশখালি উপজেলা

Comments are closed.