কথাগুলো সন্তানের মারাত্মক ক্ষতির কারণ

ওয়ান নিউজ ডেক্সঃ খুব করে বকেছেন আজ সন্তানকে। পরীক্ষায় এক নম্বর ছেড়ে এসেছে সে। ওর ভাই তো কখনো এমন করেনি! আবার এই কথা বলতেই কান্না জুড়ে দিল সে। কত বড় সাহস!

সন্তানের সাথে এমন ব্যবহার প্রায় সব অভিভাবকই করেন। ভালো নাকি মন্দ তা না বুঝেই করেন। না বুঝেই নিজের মানসিক চাপ, উচ্চাশা, রাগ কিংবা দুশ্চিন্তার প্রভাব সন্তানের ওপর ফেলা হয়। রেগে গেলেও কিছু কথা একদমই বলা উচিত সন্তানকে। জেনে নিন তেমনই কিছু কথা, যেগুলো সন্তানের সামনে কখনোই বলা উচিত নয়।

তোমার বয়সে আমি অনেক দায়িত্ববান ছিলাম
বড় হওয়ার পর সবাই ভুলে যায় যে সেও একসময় ছোট ছিল। ছোটবেলায় বাবা-মাকে জ্বালাতন করার কথা বেমালুম ভুলে গিয়ে সন্তানকে অনেকেই বলেন, ‘তোমার বয়সে আমি অনেক দায়িত্ববান ছিলাম।’ এ কথাটি শিশুর আত্মবিশ্বাস কমিয়ে দেয়। এছাড়া আপনাকে সে প্রতিদ্বন্দ্বী ভাবতে শুরু করে। তাই এই কথাটি শিশুর সামনে বলা উচিত নয়।

রাগারাগি না করে ভালো-মন্দের তফাৎ জানিয়ে দিন সন্তানকে

তুমি সবসময় ভুল সিদ্ধান্ত নাও
ভুল সবার হয়। সব বয়সেই ভুল হয়। সন্তান এখনো ছোট। তাই ওর ভুল হতেই পারে। ভুল হলেই তাকে দোষারোপ করবেন না। ‘তুমি সবসময় ভুল সিদ্ধান্ত নাও’– এই কথাটি বললে শিশুটি সব সময় সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগবে। ভবিষ্যতেও নিজের সিদ্ধান্ত নিজে নিতে পারবে না। সন্তানকে আদর করে তার ভুলটা বুঝিয়ে দিন। ভালো-মন্দের তফাৎ জানিয়ে দিন তাকে।

তোমার ভাই/বোন কে দেখে শিখো
‘তোমার ভাই/বোন কে দেখে শিখো’ এই কথাটি পারিবারিক সম্পর্ক নষ্ট করে দেয়। কারণ ছোটবেলায় যে শিশুটি তার ভাই বা বোন সম্পর্কে এই কথাটি শোনে, তাকে শত্রু ভাবা শুরু করে। তার সঙ্গে প্রতিযোগিতামূলক সম্পর্ক হয় শিশুটির। বড় হয়েও এই রেশ থেকে যায়। ফলে পারিবারিক সম্পর্কের অবনতি ঘটে।

নিজের ওপর লজ্জা হওয়া উচিত তোমার
শিশুর কোমল মনে খুবই বাজে প্রভাব ফেলে ‘নিজের ওপর লজ্জা হওয়া উচিত’ কথাটি। এই কথাটি শুনলে শিশুর আত্মবিশ্বাস চিরতরে হারিয়ে যায়। এধরণের কথার কারণে নিজেকে একদম গুটিয়ে ফেলতে পারে আপনার সন্তান। প্রতিবেশী কিংবা আত্মীয়স্বজনের সাথে মেলামেশাও করতে চাইবে না সে। ফলে ধীরে ধীরে আত্মকেন্দ্রিক এবং একগুঁয়ে স্বভাবের হয়ে উঠবে আপনার সন্তান।

সারাক্ষণ দোষারোপ করলে আত্মকেন্দ্রিক এবং একগুঁয়ে স্বভাবের হয়ে উঠবে আপনার সন্তান

বাবার/মায়ের মতো বাজে অভ্যাস পেয়েছ
সন্তানের বাবা-মা হলেও নিজেদের মধ্যে ঝগড়া বিবাদ লেগে থাকে অনেক দম্পতিরই। আর এই ঝগড়ার প্রভাব পড়ে সন্তানের ওপর। সন্তানের কোনো অভ্যাস পছন্দ না হলেই অনেক বাবা কিংবা মা বলে ফেলেন বাবার/মায়ের মতো খারাপ অভ্যাস পেয়েছ। এতে সন্তান তার বাবা/মায়ের প্রতি শ্রদ্ধা হারিয়ে ফেলতে পারে। তাই এই ধরণের কথা সন্তানের সামনে কখনোই বলা উচিত না।

তোমার মত সন্তান থাকার চাইতে না থাকা ভালো
রাগের মাথায় কখনোই সন্তানকে বলবেন না ‘তোমার মত সন্তান থাকার চাইতে না থাকা ভালো।’ এধরণের কথায় ঘর ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার কথা ভাবতে পারে সন্তান। বেঁচে থাকার আগ্রহ হারিয়ে আত্মহত্যা প্রবণও হয়ে ওঠার ঝুঁকি থাকে। এছাড়াও নিজেকে মূল্যহীন মনে করার কারণে পড়াশোনা, স্বাভাবিক জীবন যাত্রার প্রতি আগ্রহ হারিয়ে নেশাগ্রস্ত হয়ে যেতে পারে সন্তান।

আমাকে একা থাকতে দাও
সন্তানকে যদি বিরক্তি নিয়ে বলেন ‘আমাকে একা থাকতে দাও’, তাহলে এই কথাটি ভবিষ্যতেও তার কাছ থেকে শোনার জন্য প্রস্তুত থাকুন। এধরণের কথায় সন্তান নিজেকে অবহেলিত মনে করে এবং বিষণ্ণতায় ভোগে। পরবর্তীতে বাবা-মায়ের ক্ষেত্রে এই কথাটির পুনরাবৃত্তি করে সন্তান। তাই বলে কি নিজের জন্য একেবারেই সময় পাবেন না আপনি? অবশ্যই পাবেন। তবে এক্ষেত্রে বিরক্তি নিয়ে নয়, বুঝিয়ে বলতে হবে সন্তানকে। তাকে অন্য কোনো কাজে ব্যস্ত রেখে নিজের জন্য সময় বের করে নিতে হবে আপনার।

সন্তানকে না বুঝেই বলে ফেলা এই কথাগুলো দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে। বিষণ্ণতা, আত্মবিশ্বাসের অভাব, হীনমন্যতা এবং নিজেকে অবহেলিত ভাবার কারণে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য অর্জন করতে পারে না সন্তান। তাই সন্তানকে একজন সফল এবং আত্মবিশ্বাসী মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে চাইলে এই কথাগুলো কখনোই সন্তানকে বলা উচিত নয়।ফেমিনা।

ছবি : সংগৃহীত

Comments are closed.