রেফারিকে ধুয়ে দিতে রিবেরির অন্য পথ

ওয়ান নিউজ ক্রীড়া ডেক্সঃ চাইলে তির্যক বাক্যবাণেই রেফারিকে ধুয়ে দিতে পারতেন ফ্রাঙ্ক রিবেরি। বায়ার্ন মিউনিখের অন্য খেলোয়াড়েরা সেটাই করছেন। যে যেভাবে পারছেন কঠিন কঠিন শব্দ চয়নের মাধ্যমে হাঙ্গেরিয়ান রেফারি ভিক্তর কাসাইয়ের চৌদ্দগোষ্ঠি উদ্ধার করে ছাড়ছেন। কিন্তু সতীর্থদের অনুসরণ না করে বায়ার্নের ফরাসি মিডফিল্ডার রিবেরি রেফারিকে ধুয়ে দিলেন একটু অন্য পথে। রেফারিকে তুলোধুনো করতে তিনি বেছে নিয়েছেন সামাজিক যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম ইনস্টাগ্রামকে। ম্যাচে যতগুলো বিতর্কিত সিদ্ধান্ত দিয়েছেন রেফারি, রিবেরি সেসব ঘটনার সব ছবিই একে একে পোস্ট করে দিয়েছেন ইনস্টাগ্রামে। নিচে লিখে দিয়েছেন ছোট্ট একটা ক্যাপশনও।

মানে খুব সোজা। ফরাসি মিডফিল্ডার ভক্ত-অনুসারীদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিতে চেয়েছেন, বায়ার্নকে হারিয়ে দিতে ম্যাচে রেফারি কতোটা নির্লজ্জ ছিলেন! মঙ্গলবার রাতে সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে কোয়ার্টার ফাইনালের দ্বিতীয় লেগে মুখোমুখি হয়েছিল রিয়াল মাদ্রিদ ও বায়ার্ন মিউনিখ। তাতে ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর হ্যাটট্রিকে ৪-২ গোলে জিতেছে রিয়াল। দুই লেগ মিলিয়ে জিনেদিন জিদানের দল ৬-৩ অগ্রগামিতায় উঠে গেছে সেমিফাইনালে। কিন্তু রিয়ালের এই জয়ের পেছনে অনেকেই রেফারিরও বড় ভূমিকা দেখছেন!

ম্যাচের ৮৪ মিনিটে বায়ার্নের চিলিয়ান ফরোয়ার্ড আরতুরো ভিদালকে বিতর্কিত লালকার্ড (দ্বিতীয় হলুদকার্ড) দিয়েছেন রেফারি। ফলে ম্যাচের বাকি ৩৬ মিনিট (নির্ধারিত সময়ের ৬ এবং অতিরিক্ত সময়ের ৩০ মিনিট) বায়ার্নকে খেলতে হয়েছে ১০ জন নিয়ে। এরপরই ৩ গোল করে ম্যাচ জিতে নেয় রিয়াল। আর সেই তিন গোলের ছিল বিতর্কিত। যে গোল দুটি করেছেন রোনালদো। তাতে রোনালদোকে অবশ্য দায়ী করা যায় না। হ্যাটট্রিকের পথে তার শেষ দুটি গোল নিয়েই আছে অফসাইড বিতর্ক! বিশেষ করে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করার সময় রোনালদো পরিস্কারভাবেই অফ সাইড ছিলেন। বায়ার্নের খেলোয়াড়েরা অফ সাইডের আবেদনও করেছিলেন। কিন্তু রেফারি ভিক্তর কাসাই শোনেননি।

অফ সাইড বিতর্ক আছে রোনালদোর হ্যাটট্রিক গোলটি নিয়েও। ব্রাজিলিয়ান ডিফেন্ডার মার্সেলো বল নিয়ে এগিয়ে যাওয়অর সময় অফ সাইড লাইনেই ছিলেন রোনালদো। তবে মার্সেলো যখন বলটি তার দিকে বাড়ান, ততক্ষণে অফ সাইড ফাঁদ থেকে রোনালদো চলে আসেন বিতর্কমুক্ত লাইনে। ক্ষোভে-দুঃখে সেই বিতর্কিত ঘটনাগুলোর ছবি ইনস্টগ্রামে পোস্ট করেছেন রিবেরি। রেফারিকে ব্যঙ্গ করে ক্যাপশনে লিখেছেন, ‘এক বছরের কঠোর পরিশ্রম পণ্ড। ধন্যবাদ রেফারি। সাহসী সিদ্ধান্ত!’

Comments are closed.