সরকারি নির্দেশ অমান্য করে বেনাপোল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে মডেল পরীক্ষা নিলের প্রধান শিক্ষক

ইয়ানুর রহমান : সরকারি প্রজ্ঞাপন ও শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের আদেশ অমান্য করে বুধবার সকাল সাড়ে ৮টায় ৬ষ্ঠ শ্রেণী থেকে দশম শ্রেণী পর্যন্ত ছাত্র-ছাত্রীদের মডেল পরীক্ষা-২০১৭ নিলেন বেনাপোল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শওকত আলী। ইতোমধ্যে এ পরীক্ষার নামে ফিস বাবদ স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীদের কাছ থেকে হাতিয়ে নিয়েছেন দুই লক্ষাধিক টাকা। প্রকাশ্যে চ্যালেজ্ঞ দিয়ে প্রধান শিক্ষক পরীক্ষা ফিসের টাকা ফেরত না দেওয়ার কৌশল হিসেবে এ পরীক্ষা নিলেন। ঘটনার সত্যতা জানতে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বুধবার সকালে পরীক্ষা দেখতে বেনাপোল আসার কথা থাকলেও তিনি আসেননি।

সরকারি প্রজ্ঞাপণে বলা হয়েছে মাধ্যমিক স্কুল গুলোতে প্রতি বছরে দুটি করে পরীক্ষা নিতে হবে। একটি বার্ষিক অপরটি অর্ধ বার্ষিক। এ ছাড়া আর কোন পরীক্ষা নেওয়া যাবে না। সরকারি এ নির্দেশ অমান্য করে গত ৫ এপ্রিল বেনাপোল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক স্বাক্ষরিত মডেল পরীক্ষার সময় সূচি প্রকাশ করেন। আর এ পরীক্ষা বুধবার (১৯ এপ্রিল) সকাল ১০ টা থেকে ১টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে বলে জানানো হয়। পরীক্ষার ফিস বাবদ ৬ষ্ঠ শ্রেণীর তিনটি শাখার ১৮১ জন ছাত্র-ছাত্রীদের প্রত্যেকের কাছ থেকে নেওয়া হয়েছে প্রবেশপত্র ফিসহ ১৬৫ টাকা করে। এতে আদায় করা হয় ২৯ হাজার ৮৬৫ টাকা। সপ্তম শ্রেণীর তিনটি শাখার ১৩৬ জন ছাত্র-ছাত্রীদের প্রত্যেকের কাছ থেকে নেওয়া হয়েছে প্রবেশপত্র ফিসহ ১৮৫ টাকা করে। এতে আদায় করা হয় ২৫ হাজার ১৬০ টাকা। অস্টম শ্রেণীর তিনটি শাখার ১৭৮ জন ছাত্র-ছাত্রীদের প্রত্যেকের কাছ থেকে নেওয়া হয়েছে প্রবেশপত্র ফিসহ ১৮৫ টাকা করে। এতে আদায় করা হয় ৩২ হাজার ৯৩০ টাকা। নবম শ্রেণীর বিজ্ঞান, মানবিক ও বাণিজ্য শাখার ২৩৭ জন ছাত্র-ছাত্রীদের প্রত্যেকের কাছ থেকে নেওয়া হয়েছে প্রবেশপত্র ফিসহ ২০৫ টাকা করে। এতে আদায় করা হয় ৬৯ হাজার ৮৫ টাকা এবং দশম শ্রেণীর বিজ্ঞান, মানবিক ও বাণিজ্য শাখার ২৪৫ জন ছাত্র-ছাত্রীদের প্রত্যেকের কাছ থেকে নেওয়া হয়েছে প্রবেশপত্র ফিসহ ২০৫ টাকা করে। এতে আদায় করা হয় ৫০ হাজার ২২৫ টাকা। এসব ছাত্র-ছাত্রীদের কাছ থেকে পরীক্ষার ফিস বাবদ আদায় করা হয়েছে ২ লাখ ৭ হাজার ২৬৫ টাকা। যার প্রভাব পড়েছে অভিভাবকদের ঘাড়ে।

কৌশল হিসেবে পরীক্ষার সময় সূচিতে ১০টা থেকে ১ টা পর্যন্ত প্রতিদিন একটি বিষয়ের পরীক্ষার বলা হলেও সরকারি কর্মকর্তাদের চোখ ফাঁকি দিতে ছাত্র-ছাত্রীদের বলা হয়েছে সকাল ৮টা থেকে বেলা ১১ টা ও সাড়ে ১১টা থেকে ২/৩০ পর্যন্ত প্রতিদিন ২টি বিষয়ে পরীক্ষা নেওয়া হবে। ৯দিনের পরীক্ষা ৫দিনে নেওয়া হবে। ছাত্র-ছাত্রীদের পূর্বের ন্যায় বই খাতা ও স্কুল ড্রেস পরে স্কুলে আসতে বলা হয়েছে। যাতে বাইরের কেউ বুঝতে না পারে ভিতরে পরীক্ষা হবে।

নাম প্রকাশে জনৈক অভিভাবক জানান, ২০১৭ সালের জেএসসি পরীক্ষায় এ স্কুল থেকে ৩২৭ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। জেএসসির সাথে বৃত্তি পরীক্ষাও সংশ্লিস্ট। কিন্তুু ৩২৭ জনের মধ্যে মাত্র একজন মেয়ে সাধারন গ্রেডে বৃত্তি পেয়েছেন। ২১ জন শিক্ষক শিক্ষীকা এ স্কুলে থাকার পর পড়াশুনার হাল হচ্ছে এ রকম।
এ ব্যাপারে প্রধান শিক্ষক শওকত আলীর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, স্কুল পরিচালনা কমিটির সিদ্ধান্ত মোতাবেক মডেল পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে। সরকারি নির্দেশ অমান্য করে পরীক্ষা নেওয়া ও পরীক্ষার ফিস বাবদ টাকা আদায়ের ব্যাপারে কোন কথা বলতে রাজি হয়নি।

এ ব্যাপারে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হাফিজুর রহমান জানান, সরকারি ভাবে মডেল পরীক্ষার কোন নিয়ম নেই। বিষয়টি সংশ্লিস্ট জেলা কর্মকর্তাকে অবহিত করা হয়েছে। স্কুলের শিক্ষকদের জানিয়ে দেওয়া হয়েছে বেআইনি কাজের দায়ভার তাদেরই বহন করতে হবে।

Comments are closed.