চট্টগ্রামে পুলিশের সঙ্গে ছাত্রলীগের সংঘর্ষ, গুলিবিদ্ধ ৩

চট্রগ্রাম প্রতিনিধিঃ চট্টগ্রামে নির্মাণাধীন সুইমিংপুল ঘেরাও করতে গিয়ে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন নগর ছাত্রলীগে নেতা-কর্মীরা। এ ঘটনায় তিনজন গুলিবিদ্ধসহ অন্তত ছয়জন আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (১৮ এপ্রিল ) বিকেল সাড়ে চারটায় কাজীর দেউড়ি মোড়ের অদূরে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

আহত ছয়জনের মধ্যে কোতোয়ালি থানার উপপরিদর্শকসহ (এসআই) দুইজন পুলিশ সদস্য এবং বাকি চারজন ছাত্রলীগের নেতা-কর্মী বলে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে। এসআই শহিদের রহমানের কপালের বাম দিকে ফেটে গেছে। আর কনস্টেবল পিংকু দের শরীরে ছররা গুলি লেগেছে। এছাড়া নগর ছাত্রলীগের মানব সম্পদ ও উন্নয়ন বিষয়ক সম্পাদক লিটন চৌধুরীসহ আরও দুইজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। তাঁদেরও চট্টগ্রাম মেডিকেলে চিকিৎসা চলছে।

চট্টগ্রাম জেলা ক্রীড়া সংস্থার তত্ত্বাবধানে আউটার স্টেডিয়ামের দক্ষিণ অংশে সুইমিং পুল নির্মাণ করা হচ্ছে। এই স্থাপনা নির্মাণের বিরুদ্ধে আজ বিকেল সাড়ে তিনটায় নগর ছাত্রলীগ আউটার স্টেডিয়ামে ঘেরাও কর্মসূচি পালন শুরু করে। ছাত্রলীগের কর্মসূচির কারণে কাজীর দেউড়ি মোড় থেকে নেভাল অ্যাভিনিউ সড়ক পর্যন্ত পুলিশ গাড়ি চলাচল বন্ধ করে দেয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, জড়ো হওয়ার পর আনুমানিক প্রায় এক ঘণ্টা ধরে ছাত্রলীগ সেখানে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করছিল। একপর্যায়ে তাঁরা স্টেডিয়ামের ভেতরে ঢুকতে চাইলে পুলিশ বাধা দেয়। এতে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেঁধে যায়। পুলিশ ছাত্রলীগকে ছত্রভঙ্গ করতে ছররা গুলি ছোড়ে। ছাত্রলীগের উত্তেজিত কর্মীরা ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে পাল্টা জবাব দেয়। প্রায় আধা ঘণ্টা ধরে এই সংঘর্ষ চলতে থাকে।

আহত এসআই শহিদ ঘটনার বর্ণনা দিয়ে জানান, দুই প্লাটুন পুলিশ আউটার স্টেডিয়ামে অবস্থান নিয়েছিল। ছাত্রলীগের কয়েক শ নেতা-কর্মী সেখানে বিক্ষোভ করতে জড়ো হয়। ওরা স্টেডিয়ামে ঢুকতে চাইলে পুলিশ বাধা দেয়। এরপর ছাত্রলীগের কর্মী-সমর্থকেরা পুলিশের দিকে ইট-পাথর ছুড়তে থাকে। একটি টুকরো ইট তাঁর কপালের বাম দিকে আঘাত করে। এতে তাঁর কপাল ফেটে যায়।

চিকিৎসাধীন কনস্টেবল পিংকু দে জানান, ছাত্রলীগের সমর্থকদের বাধা দিতে গিয়ে তিনি গুলিবিদ্ধ হন।

আহত নগর ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক গোলাম ছামদানী জনি বলেন, পুলিশ বিনা উসকানিতে গুলি ছোড়ে এবং ইটপাটকেলও নিক্ষেপ করে। পুলিশের ছোড়া ইট এবং কাচের আঘাতে তাঁর ডান হাতের কবজির ওপরের অংশ কেটে যায়।

নগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নুরুল আজিম রনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আউটার স্টেডিয়াম সংকুচিত করার প্রতিবাদে আমরা কর্মসূচি দিয়েছিলাম। রাস্তায় গাড়ি বন্ধ করে আমরা কর্মসূচি পালন করতে চাইনি। কারণ, এতে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি হয়। আমরা মাঠের ভেতরে কর্মসূচি করতে চাইলে পুলিশ আমাদের দিকে গুলি ছোড়ে এবং ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এতে আমাদের তিন নেতা ও কর্মী গুলিবিদ্ধ এবং আরও ১০ জন আহত হয়েছে।

এর আগে,রোববার নগর ছাত্রলীগের এ সুইমিংপুল বন্ধের বিষয়ে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছেন বলে জানান নগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নুরুল আজিম রণি।

Comments are closed.