কক্সবাজারের জয়ের ভিডিও স্টাটাসে পাঠকের হুমড়ি “সংগ্রাম ও ছাত্রলীগ একই সুতোয় বাধা”

বিশেষ প্রতিবেদকঃ বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কক্সবাজার জেলা শাখার সভাপতি ইশতিয়াক আহমেদ জয়ের একটি ফেসবুক “স্ট্যাটাস ও ছাত্রলীগের গৌরব ইতিহাসের তথ্যবহুল ডকুমেন্টারি” অনলাইনে কয়েক ঘন্টায় হাজার হাজার পাঠকের দৃষ্টি আকর্ষণ করে চলছে আলোচনার ঝড়। আজ ১৭ই এপ্রিল সোমবার দুপুর ২টা ৩১ মিনেটে তার নিজস্ব ফেসবুক পেইজে এই ডকুমেন্টরী স্টাটাস দিয়েছেন। এই স্ট্যাটাস নিয়ে অনলাইন যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা চলছে। বর্তমানে তার এ স্ট্যাটাসে মাত্র কয়েক ঘন্টায় লাইক দিয়েছেন ৫ শতাধিক,ভিউ করেছে ২.৫ কে,ভি বার,শেয়ার করেছে ১৭১জন, মন্তব্য পড়েছে শত শত । প্রতি ঘন্টায় দ্রুত বেগে বেড়ে যাচ্ছে ভিউ করার সংখ্যা। বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কক্সবাজার জেলা শাখার সভাপতি ইশতিয়াক আহমেদ জয় ওই স্ট্যাটাসে লিখেছেন, “ছাত্রলীগের ইতিহাস তুলে ধরার দুঃসাহস আমার মতো ক্ষুদ্র কর্মীর নেই। তবুও এমন কিছু ইতিহাস এই ভিডিও ক্লিপের মাধ্যমে তুলে ধরার চেষ্টা করেছি যা বাংলাদেশের ইতিহাসের সাথে ছাত্রলীগ নামটি জড়িয়ে আছে গভীরভাবে। ছাত্রলীগ এমন এক বৃহৎ সংগঠন যেখানে জড়িয়ে আছে লাখো মানুষের আবেগ, অশ্রু, শ্রম, আত্মত্যাগ ও ভালোবাসা। দেশের জন্য সংগ্রাম ও আত্মত্যাগে ছাত্রলীগ কখনও পেছনে ফেরেনি। ছাত্রলীগের জন্মলগ্ন থেকে আজ পর্যন্ত প্রায় ২০,০০০ নেতাকর্মী দেশের জন্য প্রাণ দিয়েছেন। এ রকম আত্মত্যাগ পৃথিবীর অন্য কোনো ছাত্র সংগঠনের নাই। মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হয়েছেন ছাত্রলীগের প্রায় ১৮ হাজার নেতাকর্মী। দেশ স্বাধীনের পর থেকে আজ পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নির্মম হামলায় প্রাণ হারায় ছাত্রলীগের অসংখ্য নেতা কর্মী। অনেকে বেঁচে আছেন শরীরে নানা রকম ক্ষত নিয়ে। জেল-জুলুম অন্যায় অবিচার সব ধরণের বাধা উপেক্ষা করে ছাত্রলীগ দেশের ক্রান্তিলগ্নে সবার আগে রাজপথে ছিল সক্রিয়। সংগ্রাম ও ছাত্রলীগ একই সুতোয় বাঁধা। বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও চেতনায় সদা জাগ্রত ছাত্রলীগ। সময় আছে সময় যায়। ক্ষুধা ঘাম ও আত্মত্যাগের শপথ নিয়ে রাজপথেই থেকে যায় ছাত্রলীগ। ছাত্রলীগের সমৃদ্ধ ইতিহাস গড়তে যারা প্রাণ উৎসর্গ করেছেন, মেধা শ্রম ও সময় দিয়ে যারা ছাত্রলীগকে বাঁচিয়ে রেখেছেন যুগ যুগ ধরে, তাদের সকলের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা ও ভালবাসা। ছাত্রলীগের প্রতিটি সদস্যের পারস্পরিক ভালবাসার বন্ধন অটুট হোক। শেখ হাসিনার চলার পথ মসৃণ রাখতে জীবন উৎসর্গ করতেও কখনো পিছপা হবে না ছাত্রলীগ” ছাত্রলীগ বাংলাদেশের বুকে বৃহৎ এক বট বৃক্ষ— ইশতিয়াক আহমেদ জয়ের ফেসবুক থেকে হুবহু। জয়ের আলোচিত ভিডিও ডকুমেন্টারি তথ্যসুত্রে জানা যায়,১৯৪৮ সালে ৪ঠা জানুয়ারীতে বঙ্গবন্ধুর হাত ধরে সময়ের প্রয়োজনে” শিক্ষা শান্তি প্রগতি” শ্লোগানের আন্দোলন ইতিহাসে অবিচ্ছেদ্য নাম বাংলাদেশ ছাত্রলীগ।১৯৪৮ সালে ১১ই মার্চ রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে ধর্মঘট করে ছাত্রলীগ। গ্রেফতার হন অবিসংবাদিত নেতা শেখ মুজিবর রহমান ও তার সহযোগি। রাষ্ট্র ভাষা বাংলার দাবিতে ১০দফা দাবি তুলে ছাত্রলীগ। ১৯৫২ সালের ২১শে ফ্রেবুয়ারী ১৪৪ ধারা ভঙ্গ ছাত্রলীগের অপরিসীম ভূমিকা পালন করে। ১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনে জয় লাভ করার মুল ভূমিকা রাখে ছাত্রলীগ। ১৯৭০ এর নির্বাচনে বাঙ্গালীর মুক্তির সনদ ৬ দফা কে গণভোটে পরিনত করে ছাত্রলীগ। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে ছাত্রলীগ। ১৯৭২ থেকে ১৯৭৫ সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশের অবকাঠামোগত উন্নয়নে জোরালো ভূমিকা রাখে। ১৯৮০ এর দশকে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন ছাত্রলীগের অবদান ছিলো অগ্রভাগ। ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে আওয়ামীলীগের বিজয় নিশ্চিত করতে নিরপেক্ষ নির্বাচনের লক্ষ্যে ছাত্রলীগ দেশব্যাপী অসহযোগ আন্দোলন গড়ে তোলে। ১৯৯৮ সালের বন্যায় মানবিক বিপর্যয় রুখতে পরিশ্রম করে ছাত্রলীগ। ২০০২ সালে জামাত বিএনপি কতৃক দেশব্যাপী সংখ্যালঘু নির্যাতনে ছাত্রলীগ প্রতিবাদে সক্রিয় ছিলো রাজপথে। ২০০৪ সালের ২১ শে আগষ্ট দেশরত্ন শেখ হাসিনার উপর গ্রেনেড হামলার প্রথম প্রতিবাদ করে ছাত্রলীগ। ২০০৭ সালে ১৬ই জুলাই শেখ হাসিনাকে গ্রেফতারের তীব্র প্রতিবাদ জানায় ছাত্রলীগ। ২০০৮ সালের ২৮শে ডিসেম্বর নির্বাচনে আঃলীগ এর জয়ে গুরুত্বপুর্ন অবদান রাখে ছাত্রলীগ। ২৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হয়েছে ছাত্রলীগের ১৮হাজার নেতাকর্মী। এমন তথ্যে ভরপুর ছিলো ইশতিয়াক আহমদ জয়ের ফেসবুক স্টাটাস ও ভিডিও ডকুমেন্ট।

Comments are closed.