কক্সবাজারে এলও শাখার উচ্চমান সহকারী ও আইনজীবি গ্রেফতার

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ কক্সবাজারের মহেশখালীর মাতারবাড়ি কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্পের ক্ষতিপূরণের জন্য প্রদেয় ২০ কোটি টাকা দুর্নীতির মাধ্যমে আত্মসাৎ মামলায় কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের এলও শাখার সাবেক উচ্চমান সহকারী আবুল কাশেম মজুমদার ও এডভোকেট নুর মোহাম্মদ সিকদারকে গ্রেপ্তার করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

সোমবার সকাল ১০ টায় ও সাড়ে ১১ টায় জেলা প্রশাসনের কার্যালয় এলাকায় পৃথক অভিনব অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়।

দুদক সূত্র জানায়, মহেশখালী কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্পের জন্য অধিগ্রহণ করা জমির বিপরীতে ভুয়া মালিকানা তৈরী করে ক্ষতিপূরণের ২০ কোটি টাকা আত্মসাত করেছে আটক আবুল কাশেমের নেতৃত্বে একটি সিন্ডিকেট। মামলার তদন্তে এটি প্রমানিত হওয়ার পর তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয় এবং এ মামলায় সোমবার কক্সবাজারে দু’জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। দুদকের চট্টগ্রাম-২ এর সহকারী পরিচালক অজয় কুমার সাহার নেতৃত্বে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করা হয়। এসময় দুদক চট্টগ্রাম-২ এর (এসি) গোলাম মোস্তফা ও ওসমান গণিও উপস্থিত ছিলেন।

অপরদিকে দুদকের আরেকটি টিম একই মামলার আসামী চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে কক্সবাজারের সাবেক সার্ভেয়ার ফখরুল ইসলামকেও গ্রেপ্তার করেছে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদক চট্টগ্রাম-২ এর উপ-পরিচালক ছৈয়দ আহমদ বলেন, মহেশখালীর কয়লা বিদ্যুত প্রকল্পের আওতায় অধিগ্রহণকরা জমির বিপরীতে ২৩৭ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ করা হয়। এর মাঝে ২৫টি অস্থিত্তহীন চিংড়ি ঘের দেখিয়ে ৪৬ কোটি ২৪ লাখ ৩ হাজার ৩২০ টাকা ক্ষতিপূরণ নিজেদের করায়ত্বে নেয় কক্সবাজার ভূমি অধিগ্রহন শাখার উচ্চমান সহকারি আবুল কাশেম মজুমদারের নেতৃত্বে ৩৬ জনের একটি সিন্ডিকেট। এথেকে কৌশলে তারা ১৯ কোটি ৮২ লাখ ৮ হাজার ৩১৫ টাকা উত্তোলনও করে ফেলে। বাকি টাকার জন্য ইস্যুকরা হয়েছিল আরো ৫টি চেক। এরই মধ্যে নালিশ আসলে ৫টি চেকের আওতায় নির্ধারিত ক্ষতিপূরণের বাকি টাকা আটকে দেয়া হয়।

তিনি আরো জানান, প্রাথমিক তদন্তে এটি প্রমাণ হলে নিজেরা বাঁচতে তৎকালীন ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা (এলএও) মাহবুবুর রহমান ক্ষতিপূরণ তুলে নেয়া ঘের মালিক দাবিদারদের বিরুদ্ধে সরকারি টাকা আদায়ে ২০ টি মামলা দায়ের করে। এটি তদন্ত করতে গিয়ে ২০টি মামলাকে একটি মামলায় একিভূত করা হয় (নম্বর-১৯, ৭/১২/২০১৪)। পূর্ণ তদন্তে উল্লেখিত ২৫ চিংড়ি ঘেরের কোন অস্থিত্বই পাওয়া যায়নি। তাই ঘেরের বিষয়টি প্রথম উপস্থাপনকারি হিসেবে আটক উচ্চমান সহকারি আবুল কাশে মজুমদারকে মূল হোতা হিসেবে গণ্য করা হয়। এসব কাগজ তৈরীতে জড়িত আইনজীবিসহ ৩৬জনকে অভিযুক্ত হিসেবে পাওয়া যায়। এ ব্যাপারে অভিযোগপত্র দায়ের করা হয়েছে। অভিযুক্তদের মাঝে সোমবার কক্সবাজার থেকে দু’জন এবং চট্টগ্রাম থেকে আরো একজনকে আটক করেছে দুদক।

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আলী হোসেন তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, আবুল কাশেম অভিযুক্ত হওয়ার পর পরই বহিস্কৃত। অনৈতিক ভাবে সরকারি টাকা আত্মসাত কোন ভাবেই মেনে নেয়া যায় না। তাই অভিযুক্ত সবার ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হচ্ছে।

এদিকে গ্রেপ্তারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদের পর সংশ্লিষ্ট মামলায় আদালতের মাধ্যমে বিকেল সাড়ে ৫টারদিকে কারাগারে প্রেরণের প্রস্তুতি চলছিল বলে জানিয়েছেন অভিযানকারি দুদক কর্মকর্তা অজয় কুমার সাহা।

অপরদিকে, অভিযুক্ত আবুল কাশেমের সাথে জেলা প্রশাসনের তৎকালীন উচ্চপদস্ত আরো বেশ কয়েকজন জড়িত বলে তদন্তে এসেছে। সোমবার দলের সদস্য আটক হওয়ার খবর প্রচার পেলে সেসব সুবিধাভোগীরা আতংকে রয়েছে বলে প্রচার পায়। ইতোমধ্যে গ্রেফতার এড়াতে বিভিন্ন জায়গায় তারা দৌঁড় ঝাপও শুরু করেছেন বলে বিশ্বস্ত সূত্রে খবর এসেছে।

Comments are closed.