বিশ্রাম ফেলে ঘাম ঝরালেন মুশফিক-মোস্তাফিজ-সৌম্য

ওয়ান নিউজ ক্রীড়া ডেক্সঃ মঙ্গলবার ডাম্বুলায় দ্বিতীয় ওয়ানডে বৃষ্টিতে ভেসে যাওয়ার পর বুধবার বাংলাদেশ দল কাটিয়েছে ‘ভ্রমণ’ ছুটি! ডাম্বুলা থেকে কলম্বো আসায় ঐদিন ঐচ্ছিক অনুশীলনেও নামেনি বাংলাদেশ। বাধ্যতামূলক অনুশীলন সেশন করল না বৃহস্পতিবারও। তৃতীয় তথা সিরিজের শেষ ম্যাচের ভেন্যু কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব মাঠে সকালে বাংলাদেশ একটা অনুশীলন সেশন করেছে বটে; সেটাও বাধ্যতামূলক নয়, ঐচ্ছিক। বাংলাদেশের ১৭ সদস্যের ওয়ানডে স্কোয়াডের মধ্য থেকে ঐচ্ছিক সেই অনুশীলনে অংশ নেন মোট ৯ জন ক্রিকেটার। সেই ৯ জনের মধ্যে মাত্র ৩ জন প্রথম দুই ওয়ানডের একাদশে ছিলেন- মুশফিকুর রহীম, মোস্তাফিজুর রহমান ও সৌম্য সরকার। বাকি ৬ জনই প্রথম দুই ওয়ানডেতে একাদশের বাইরে থাকা রিজার্ভ বেঞ্চের খেলোয়াড়-ইমরুল কায়েস, নুরুল হাসান, শুভাগত হোম, সানজামুল ইসলাম, শুভাশীষ রায় ও রুবেল হোসেন।

মানে প্রথম দুই ওয়ানডেতে বাংলাদেশ একাদশের বাকি ৮ জন বৃহস্পতিবারও কাটাচ্ছেন ‘বিশ্রাম’ ছুটি! মাশরাফি, সাকিব, তামিম, সাব্বির, মাহমুদউল্লাহ, মোসাদ্দেক, মেহেদী, তাসকিনরা যখন হোটেলের শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত রুমে গল্প-গুজব করে সময় কাটাচ্ছেন, যে যার মতো করে ঘুরে বেড়াচ্ছেন, তখন মুশফিক, মোস্তাফিজ, সৌম্য’র কলম্বোর তপ্ত রোদে পুড়ে শরীরের ঘাম ঝরানোর পেছনে কারণ কী? বাধ্যতামূলক হোক কিংবা ঐচ্ছিক-বাংলাদেশ দলের অনুশীলন পর্ব মানেই মুশফিক সেখানে থাকবেন, এটা প্রতিষ্ঠিত সত্য।

বাংলাদেশ দল অনুশীলন করছে, অথচ মুশফিক তাতে অংশ নেয়নি, এ রকম ঘটনা বিরল। অনুশীলন পর্ব থাকলে মুশফিক নিজের তাড়না থেকেই ছুটে যান ব্যাট-প্যাড নিয়ে। ঐচ্ছিক অনুশীলন মিস করার রেকর্ডও খুব কম তার। ভেতরের সেই তাড়নাটা তো আছেই, বৃহস্পতিবারের অনুশীলনে অংশ নেওয়ার পেছনে অন্য একটা কারণও খুঁজে নেওয়া যাচ্ছে। মুশফিকের সঙ্গে মোস্তাফিজ-সৌম্য’র ঘাম ঝরাতে ছুটে যাওয়াটাই সেই কারণটাকে সামনে নিয়ে আসছে। এই ৩ জনেরই যে নিজেদের একটা হতাশা কাটিয়ে নতুন করে উজ্জীবিত হওয়ার দায় আছে!

সেই দায়টা কেমন? ডাম্বুলায় সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে দল ৯০ রানের বড় জয় পেলেও ব্যাট হাতে মুশফিক-সৌম্য দুজনেই ছিলেন ব্যর্থ। সৌম্য আউট হন ১০ রান করে। বাংলাদেশ দলের সবচেয়ে বড় ব্যাটিং ভরসা মুশফিক আরও বেশি ব্যর্থ। নিজে মুখোমুখি হওয়া দ্বিতীয় বলেই লক্ষ্মণ সান্দাকানকে রিটার্ন ক্যাচ দিয়ে মুশফিক ফিরেন মাত্র ১ রান করে। দ্বিতীয় ওয়ানডেটি বৃষ্টিতে ভেসে যাওয়ায় মুশফিক-সৌম্যদের ব্যাট করার সুযোগই হয়নি। অন্যদিকে প্রথম ম্যাচে ভালো বোলিং করলেও দ্বিতীয় ম্যাচে বল হাতে কাটার মাস্টার মোস্তাফিজকে ঠিক মোস্তাফিজের মতো লাগেনি! দিনেশ চান্ডিমালের উইকেটটি পেলেও তা রান খরচের হিসেবটাকে ঢেকে দিতে পারেনি। মাত্র ৮ ওভারেই মোস্তাফিজ দিয়ে ফেলেন ৬০ রান! ওভার প্রতি খরচ ৭.৫০! এই তথ্য ঠিক দ্য ফিজের সঙ্গে যায় না।

কলম্বোয় সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচের আগে তাই হয়তো মুশফিক-সৌম্য-মোস্তাফিজ তিনজনেই নিজেদের ব্যক্তিগত এই হতাশা থেকে বের হয়ে আসতে চাইছেন। দলের জন্যও সেটা বড় বেশি প্রয়োজন। তো তাদের সঙ্গে বাকিরাও সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচের আগে নিজেদের একটু ঝালিয়ে নিলে ভালো হতো না? বাংলাদেশ কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহে তা মনে করেন না। বাংলাদেশের শ্রীলঙ্কান কোচের মতে, পরিপূর্ণ ফিট আর আত্মবিশ্বাসী থাকলে ম্যাচের আগে অনুশীলনের দরকার নেই। তা ছাড়া শ্রীলঙ্কায় এখন প্রচণ্ড গরম। হাথুরুসিংহে মনে করেন, গরমের মধ্যে খেলোয়াড়দের জন্য বিশ্রামটাও খুবই গুরুত্বপূর্ণ, ‘ঘটনা হলো, আমাদের প্রতিদিন অনুশীলন করার দরকার নেই। যদি খেলোয়াড়েরা মনে করে তাদের প্রস্তুতিটা যথেষ্ট ভালো, তাহলে সব সময়ই তারা বিশ্রাম নিতে পারবে।’ হাথুরুসিংহে সঙ্গে যোগ করেন, ‘তাছাড়া শ্রীলঙ্কায় ক্রিকেট খেলাটা খুবই কঠিন। এখানে প্রচণ্ড গরম। যখন খেলোয়াড়েরা আত্মবিশ্বাসী থাকে এবং আমি মনে করব যে, তাদের প্রস্তুতিটা যথেষ্ট ভালো, আমিই তখন তাদেরকে মানসিক এবং শারীরিক প্রস্তুতির জন্য ম্যাচের আগে বিশ্রাম দিতে চাই।’

বাংলাদেশের লঙ্কান প্রধান কোচের এই কথার মানে, সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচের আগে বাংলাদেশ দল যথেষ্টই আত্মবিশ্বাসী। মাশরাফিদের আত্মবিশ্বাসী হওয়ার কারণটাও স্পষ্ট। দ্বিতীয় ওয়ানডেটা পরিত্যক্ত হওয়ার মধ্য দিয়ে নিশ্চিত হয়ে গেছে, ওয়ানডে সিরিজটাও বাংলাদেশ হারছে না। মানে শ্রীলঙ্কার সিরিজ জয়ের কোনো সুযোগ নেই। বড়জোর সিরিজটা ড্র করতে পারবে। উল্টো পিঠে ১-০তে এগিয়ে থাকা বাংলাদেশেরই কেবল সুযোগ আছে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে প্রথমবারের মতো ওয়ানডে সিরিজ জয়ের। মাশরাফিরা তাই ভয়হীনভাবে সিরিজ জয়ের স্বপ্ন নিয়েই শনিবার কলম্বোর শেষ ম্যাচে নামতে পারছেন।

কলম্বো টেস্টে ঐতিহাসিক জয়ে টেস্ট সিরিজ ১-১ ড্র করার পর ওয়ানডে সিরিজেও প্রথম ম্যাচে জয়। হাথুরুসিংহে দলের এই অর্জনেই সন্তুষ্ট। তবে বাংলাদেশের শ্রীলঙ্কান কোচ সিরিজ জয়ের ব্যাপারেও আত্মবিশ্বাসী, ‘আমি মনে করি শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে আমরা ভালো করতে পারব। তারা ঘরের মাঠে খুবই ভালো দল। আমি মনে করতে পারছি না, তারা সর্বশেষ কবে (নিজেদের মাটিতে) সিরিজে একটা ম্যাচও জিতেনি। আমরা এই মুহূর্তে ১-০তে এগিয়ে। কাজেই আমরা খুব ভালো অবস্থানে আছি। আমরা সিরিজ অন্তত হারছি না। তারাও ভালো খেলতে চাইবে। শেষটায় ভালো কিছু পেতে হলে আমাদেরও ভালো খেলতে হবে।’

মাশরাফিরা তা পারবেন তো?

Comments are closed.