বৃষ্টিতে পরিত্যক্ত বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কা ম্যাচ

ওয়ান নিউজ ক্রীড়া ডেক্সঃ বৃষ্টির কারণে ডাম্বুলায় বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কা দ্বিতীয় ওয়ানডে পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। দিনরাতের এই ম্যাচে আগে ব্যাট করে ৩১১ রানে অল আউট হয়েছিল শ্রীলঙ্কা। লঙ্কানদের ইনিংস শেষ হলেই নামে বৃষ্টি। তাসকিন আহমেদ শেষ ওভারে করেছিলেন হ্যাটট্রিক। তবে শ্রীলঙ্কায় ৩০০ রানের বেশি তাড়া করে জেতার রেকর্ড নেই বলে খুশিতেই ছিল লঙ্কানরা। কিন্তু তাদের সব আনন্দে বৃষ্টির পানিতে ভেসে গেল। জেতার আশা করতেই পারতো। হতে পারতো কার্টেল ওভারের ম্যাচ। কিন্তু বৃষ্টি সেই অনুমতি না দেওয়ায় রনগিরি মাঠের ম্যাচটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয় অনেক দেখার পর। এই ম্যাচের কোনো রিজার্ভ ডে নেই। তাই তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে প্রথম ম্যাচ জয়ের সুবাদে ১-০ তে এগিয়েই থাকল বাংলাদেশ। ১ এপ্রিল সিরিজের শেষ ম্যাচ। সিরিজ হার এড়াতে ওটাই স্বাগতিকদের শেষ ভরসা।

তবে এই ম্যাচে বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি হয়ে থাকল তাসকিন আহমেদের হ্যাটট্রিক। বাংলাদেশের মাত্র পঞ্চম বোলার হিসেবে হ্যাটট্রিক করেছেন ২১ বছরের ফাস্ট বোলার। আর শ্রীলঙ্কার পাওয়া বলতে কুশল মেন্ডিসের সেঞ্চুরি।

দ্বিতীয় ম্যাচেই শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে প্রথম বারের মতো ওয়ানডে সিরিজ জিতে নেয়ার স্বপ্নটা কী একটু ফিঁকে হয়ে গেল? এই স্বপ্ন পূরণ করতে হলে যে বাংলাদেশকে শ্রীলঙ্কার মাটিতে গড়তে হবে আরও একটা ইতিহাস। শ্রীলঙ্কার মাটিতে এখনো পর্যন্ত ৩০০ রানের বেশি তাড়া করে ওয়ানডেতে জিততে পারেনি বিদেশি কোনো দল। সেখানে উপুল থারাঙ্গার দল মঙ্গলবার সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে বাংলাদেশকে ছুঁড়ে দিয়েছে ৩১২ রানের লক্ষ্য। কুশল মেন্ডিসের প্রথম ওয়ানডে সেঞ্চুরিতে ভর করে শ্রীলঙ্কা ৪৯.৫ ওভারে ৩১১ রানে অল আউট। মাশরাফি বিন মুর্তজার দল পারতো শ্রীলঙ্কার মাটিতে দুটো রেকর্ডই গড়ে দেশকে বাঁধভাঙা আনন্দে ভাসাতে?

লঙ্কানদের এই বড় পুঁজির পেছনে সবচেয়ে বড় অবদান কুশল মেন্ডিসের। ক্যারিয়ারের প্রথম ওয়ানডে সেঞ্চুরি তুলে নেওয়া কুশল মেন্ডিস তাসকিনের শিকার হয়ে ফিরেছেন ১০২ রান করে। দারুণ এই ইনিংসের পথে কুশল মেন্ডিস দ্বিতীয় উইকেটে অধিনায়ক থারাঙ্গার সঙ্গে ১১১ রানের ও দিনেশ চান্ডিমালের সঙ্গে তৃতীয় ৮৩ রানের দুটি জুটি গড়েন। থারাঙ্গা ৬৫ ও চান্ডিমাল করেন ২৪ রান। এছাড়া আসেলা গুনারত্নে ৩৯, মিলিন্দা সিরিওয়ার্দানে ৩০ রান করেন।

ইনিংসের শেষ ওভারে জ্বলে উঠে তাসকিন পূর্ণ করেছেন হ্যাটট্রিক। ৫০তম ওভারের তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম বলে তিনি একে একে ফিরিয়ে দেন গুনারত্নে, সুরঙ্গা লাকমল ও নুয়ান প্রদীপকে। শ্রীলঙ্কার আর উইকেট ছিল না। ফলে সম্ভাবনা থাকলেও তাসকিনের ছোঁয়া হয়নি ২০০৭ সালে লাসিথ মালিঙ্গার গড়া টানা ৪ বলে ৪ উইকেট নেওয়র কীর্তি। হ্যাটট্রিকসহ ৪ উইকেট নিয়ে তাসকিনই ম্যাচে বাংলাদেশের সেরা বোলার। একটি করে উইকেট নিয়েছেন অধিনায়ক মাশরাফি, মোস্তাফিজ ও মেহেদী। বাকি তিনটি রান আউট।

বাংলাদেশ একাদশ : তামিম ইকবাল, সৌম্য সরকার, সাব্বির রহমান, মুশফিকুর রহীম, সাকিব আল হাসান, মাহমুদউল্লাহ, মোসাদ্দেক হোসেন, মেহেদী হাসান মিরাজ, মাশরাফি বিন মুর্তজা (অধিনায়ক), তাসকিন আহমেদ, মোস্তাফিজুর রহমান।

শ্রীলঙ্কা একাদশ : দানসুকা গুনাথিলাকা, উপুল থারাঙ্গা (অধিনায়ক), কুশল মেন্ডিস, দিনেশ চান্ডিমাল, আসেলা গুনারত্নে, মিলিন্দা সিরিওয়ার্দানে, থিসারা পেরেরা, দিলরুয়ান পেরেরা, সুরঙ্গা লাকমাল, নুয়ান কুলাসেকারা, নুয়ান প্রদিপ।

Comments are closed.