আরও ২ জঙ্গির লাশ হস্তান্তর, আতিয়া মহলের দায়িত্বে পুলিশ

ওয়ান নিউজ ডেক্সঃ সিলেটের  দক্ষিণ সুরমায় জঙ্গিদের আস্তানা আতিয়া মহলের দায়িত্ব পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছে সেনাবাহিনী। মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে ভবনটি পুলিশের দায়িত্বে বুঝিয়ে দেওয়া হয়। ওই ভবনে প্যারা কমান্ডোদের অভিযানে নিহত আরও ২ জঙ্গির লাশও পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

সিলেটের মোগলাবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা খাইরুল ফজল পরিবর্তন ডটকমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, সেনা কর্তৃপক্ষ আতিয়া মহলের দায়িত্ব পুলিশকে বুঝিয়ে দিয়েছে। এ ছাড়া দুই জঙ্গির লাশও হস্তান্তর করেছে। তাদের শরীরে সুইসাইড ভেস্ট থাকায় লাশগুলো এখনও ভেতরেই রয়েছে।

তিনি জানান, ময়নাতদন্তের জন্য জঙ্গিদের লাশ সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হবে।

এর আগে, সোমবার সন্ধ্যায় ওই জঙ্গি আস্তানায় নিহত এক পুরুষ ও পোড়া এক নারীর মৃতদেহ হস্তান্তর করে সেনাবাহিনীঅ মঙ্গলবার দুপুরে তাদের লাশের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুর ১টার দিকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তাদের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়।

ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের প্রভাষক শামসুল ইসলামের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি চিকিৎসক দল দুটি লাশের ময়নাতদন্ত করেন।

কোতোয়ালি থানার ওসি সোহেল আহমদ বলেন, ‘লাশ দুটি চেনার উপায় নাই। অজ্ঞাত পরিচয় হিসেবেই তাদের ময়নাতদন্ত হয়েছে। এখন লাশ দুটি হিমাগারে রাখা হবে। পরিচয় নিশ্চিতের জন্য ডিএনএ নমুনা ও আঙ্গুলের ছাপ রাখা হয়েছে।’

বৃহস্পতিবার গভীর রাতে ওই জঙ্গি আস্তানা ঘিরে ফেলার পর শনিবার সকালে সেখানে চূড়ান্ত অভিযান শুরু করে সেনাবাহিনীর প্যারা কমান্ডো দল। সোমবার রাতে ওই ভবন নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার কথা জানিয়ে সামরিক গোয়েন্দা পরিদপ্তরের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ফখরুল আহসান সাংবাদিকদের বলেন, ‘ভেতরে চার জঙ্গির লাশ পেয়েছেন তারা।’

আতিয়া মহলের মালিক উস্তার আলীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মর্জিনা বেগম ও কাউছার আলী নামে দুইজন স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে মাস তিনেক আগে নিচতলার একটি ফ্ল্যাট ভাড়া নেন।

এদিকে কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘নব্য জেএমবির অন্যতম শীর্ষ নেতা মাইনুল ইসলাম ওরফে মুসা ওই বাড়িতে ছিলেন বলে গোয়েন্দাদের কাছে তথ্য ছিল। নিহত চারজনের মধ্যে একজন মুসা বলেই তারা ধারণা করছেন।’

তবে বিস্ফোরণে লাশ বিকৃত হয়ে যাওয়ায় চেহারা দেখে তাদের শনাক্ত করা কঠিন জানিয়ে কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার আব্দুল মান্নান বলেন, ‘সিলেট থেকে আমাদের সাথে যোগাযোগ করা হয়েছে। নিহতদের শরীরের বিভিন্ন নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে। তাদের পরিচয় নিশ্চিতের কাজ চলছে।’

Comments are closed.