মধ্যরাতে শেষ হচ্ছে প্রচারণা

বিশেষ প্রতিনিধিঃ কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচনের প্রচার-প্রচারণা শেষ হচ্ছে আজ মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১২টায়। নির্বাচন কমিশন থেকে জানানো হয়েছে ২৮ মার্চ ১২টা থেকে ১ এপ্রিল ১২টা পর্যন্ত নির্বাচনি এলাকায় কোনো জনসভা, মিছিল বা শোভাযাত্রা করা যাবে না। এছাড়া কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের ভোটার বা বাসিন্দা নন, এমন ব্যক্তিদের গতকাল সোমবার মধ্যরাত থেকে এ সিটিতে প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। যাঁরা অবস্থান করছেন, তাঁদেরও এলাকা ত্যাগ করতে বলা হয়েছে। আগামী ২৯ মার্চ রাত ১২টা থেকে ৩০ মার্চ ১২টা পর্যন্ত সব ধরনের যান চলাচলের ওপর নির্বাচন কমিশন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। এছাড়াও সিটি করপোরেশন নির্বাচনি এলাকায় গতকাল সোমবার ২৭ মার্চ ১২টা থেকে ৩১ মার্চ সকাল ৬টা পর্যন্ত মোটরসাইকেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকবে।

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, এ সিটি নির্বাচনে ২ হাজার নির্বাচন কর্মকর্তা ছাড়াও পর্যাপ্তসংখ্যক পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি, আনসার বাহিনীর সদস্য এবং জুডিসিয়াল ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে মোবাইল টিম থাকবে। কুমিল্লা সিটি করপোরেশনে ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ৭ হাজার ৩৮৪। এখানে সাধারণ ওয়ার্ড ২৭টি। সংরক্ষিত ওয়ার্ড সংখ্যা ৯টি। সম্ভাব্য ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা ৬৫টি। সম্ভাব্য ভোটকক্ষের সংখ্যা ৪২১টি। সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ হবে এমন আশাবাদ ব্যক্ত করে প্রধান নির্বাচন কমিশনার সিইসি নুরুল হুদা বলেন, আমরা নিরপেক্ষ নই। আমরা আইনের পক্ষে। তাই আমরা আইন এবং বিধির ক্ষেত্রে দুর্বল, এর বাইরে আমাদের কোনো দুর্বলতা নেই। সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনে নির্বাচনসংশ্লিষ্ট সবাইকে নিরপেক্ষ ভূমিকা রাখতে হবে। ভোটগ্রহণের সময় কর্মকর্তাদের যেকোনো সমস্যায় পাশে থাকবে নির্বাচন কমিশন।

এ নির্বাচনে জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক দল থাকবে। পর্যবেক্ষণের সময় নির্বাচনে দায়িত্বপ্রাপ্তরা আইনানুযায়ী পর্যবেক্ষকদের সহায়তা করবেন। প্রিজাইডিং অফিসারদের উদ্দেশ্যে কঠোর নির্দেশনা দিয়ে তিনি বলেন, ভোটকেন্দ্রে প্রভাবশালী ব্যক্তি বলতে কেউ নেই, একমাত্র প্রভাবশালী ব্যক্তি হলেন প্রিজাইডিং অফিসার। কেন্দ্রে দলীয় পরিচয়ে কেউ প্রভাব খাটাতে চাইলে ছাড় দেবেন না। কোনো অবস্থাতেই কাউকে বিশৃঙ্খলা করতে দেয়া হবে না। আমাদের কোন দল বা বর্ণ নেই। তাই এ নির্বাচনে কোন দলীয় পরিচয় বা প্রভাব খাটানোরও কোনো সুযোগ নেই।

এ নির্বাচনে কোনো ধরনের শৈথিল্য বরদাশত করা হবে না। অতীতে নির্বাচনি কর্মকাণ্ডে গণতান্ত্রিক পরিবেশের কিছুটা ব্যত্যয় ঘটলেও কুমিল্লা সিটি নির্বাচনের মাধ্যমে আমরা পূর্ণ গণতান্ত্রিক চর্চা ফিরিয়ে আনতে চাই। তিনি আরও বলেন, প্রিসাইডিং অফিসারদের নিকট একটি মোবাইল ফোন নাম্বার দেয়া থাকবে। তারা যেকোনো সমস্যা বা অবস্থান সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে এসএমএসের মাধ্যমে জানালে কয়েক মিনিটের মধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। আর এটি সার্বক্ষণিক মনিটরিং করবেন নির্বাচন কমিশনের সচিব। এছাড়া গুরুত্বপূর্ণ প্রতিটি কেন্দ্রে লাঠিধারী আনসারের পাশাপাশি ১২টি অস্ত্র এবং সাধারণ কেন্দ্রে ১০টি করে অস্ত্রধারী নিরাপত্তাকর্মী থাকবে।

প্রার্থীদের প্রচারণা : গতকাল সোমবার দিনভর নগরীর বিভিন্ন ওয়ার্ড ও পাড়া-মহল্লায় প্রচারণা চালিয়েছেন আওয়ামী লীগ-বিএনপির মেয়রসহ কাউন্সিলর প্রার্থীরা। শেষ মুহূর্তের প্রচারণায় প্রার্থীদের সঙ্গে দলীয় নেতাকর্মীদের পাশাপাশি তাদের আত্মীয়স্বজন, স্ত্রী-সন্তান ও পরিবারের লোকজনও মাঠে নামে। নির্বাচনে রিটার্নিং অফিসার ও নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সমন্বয়হীনতার অভিযোগ করেছে বিএনপি। নির্বাচন কমিশন আন্তরিক হলেও স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন কমিশনের নির্দেশনা উপেক্ষা করে বিএনপির নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার ও হয়রানি করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

বিএনপির যত অভিযোগ : বিএনপির মেয়র প্রার্থী মনিরুল হক সাক্কুর এজেন্টদের মামলা ছাড়াই গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। এ ছাড়াও ডিবি পুলিশ পরিচয়ে বিএনপির নেতাকর্মীদের বাড়ি বাড়ি তল্লাশির নামে হয়রানি করা হচ্ছে। কমিশনের দেয়া নির্দেশনা অনুযায়ী এসব কর্মকা- সুষ্ঠু নির্বাচনের ক্ষেত্রে অন্তরায়।

Comments are closed.