কমান্ডো অভিযানে ৪ জঙ্গি নিহত

ওয়ান নিউজ ডেক্সঃ সিলেটের আতিয়া মহলের অভিযানে সন্তোষ প্রকাশ করেছে সেনাবাহিনী। সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় ব্রিফিংকালে সেনা সদর দপ্তরে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ফখরুল আহসান বলেন, আতিয়া মহলে চার জঙ্গি নিহত হয়েছে। এর মধ্যে একজন নারী ও তিনজন পুরুষ।’ তিনি বলেন, আমরা গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী জানতে পেরেছিলাম সেখানে চারজন জঙ্গি আছে। অভিযানে ওই চার জঙ্গিই নিহত হয়েছে। এটা সেনাবাহিনীর বড় একটা অ্যাচিভমেন্ট।

দুই জঙ্গির লাশ পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বাকি দুই লাশের শরীরে সুইসাইডাল ভেস্ট রয়েছে বলে সেগুলো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি- জানান ফখরুল।

ফখরুল আহসান বলেন, সারাদিনেই অভিযান চলেছে। দিনের শেষের দিকে আতিয়া মহলে প্রবেশ করে আমরা চারটা ডেড বডি পেয়েছি। দুটো ডেড বডি শনাক্তের পর তা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এর মধ্যে একজন পুরুষ ও একজন নারী। বাকি দুটো লাশ এখনো পড়ে আছে।

আতিয়া মহলের অভিযান পরিস্থিতি জানিয়ে তিনি বলেন, পুরো আতিয়া মহল ঝুঁকিপূর্ণ। এ কারণে কমান্ডোরা সাবধানে অভিযান চালাচ্ছে। সতর্কতার সঙ্গে এগুতে হচ্ছে। অভিযান এখনো চলমান। আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নির্দেশনা অনুযায়ী অভিযানের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘোষণা করা হবে।

‘অভিযানের সমাপ্তি আমরা এখনই ঘোষণা করছি না। এটার একটা প্রক্রিয়া আছে। সেটার মাধ্যমে আমরা এটা করব।’

‘অভিযান শেষ হওয়ার আতিয়া মহল ক্রাইম সিন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য ‍খুলে দেওয়া হবে।’

আতিয়া মহলে শীর্ষ কোনো জঙ্গি আছে কি না সাংবাদিকের এক প্রশ্নের জবাবে ফখরুল আহসান বলেন, ‘শীর্ষ কোনো জঙ্গি আছে কি না আমরা এখনো নিশ্চিত নই।’

পুরো পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমরা ভেতরে গিয়ে ডেড বডি নিয়ে এসেছি। এটা কখনো আমাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে যায়নি। একটা কেউ তো এখান থেকে বের হয়নি।’

আতিয়া ভবনে বিস্ফোরণ ও ধোঁয়ার বিষয়ে সেনা কর্মকর্তা বলেন, সুইসাইডাল ভেস্টের বিস্ফোরণ হচ্ছে। যে পরিমাণ ফায়ারিং হচ্ছে। ভেতরে যে সব বাসিন্দা ছিল তাদের লেপ কাথা রয়েছে। সুতরাং আগুন লাগতেই পারে। কোনোভাবে সেটা বিপজ্জনক হতে পারত। আমরা আগুন নিভিয়েছি।

আতিয়া মহলের তল্লাশীর বিষয়ে তিনি বলেন, আমরা মোটামুটি তল্লাশী করেছি। দরকার হলে আরো করব।

শনিবার সকাল ৯টা ৩৫ মিনিটে ‘অপারেশন টোয়ালাইট’ শুরু করে সেনাবাহিনী। ওইদিন দুপুর ২টায় শুরু হয় মূল অভিযান। অভিযান শুরুর আগে শুক্রবার পুলিশ-র‌্যাব, সোয়াট আস্তানা ঘিরে রেখেছিল।

শুক্রবার সকালে জঙ্গি আস্তানা সন্দেহে ঘিরে রাখা বাড়ির ভেতর থেকে ২ রাউন্ড গুলি করে জঙ্গিরা। জবাবে পুলিশও পাল্টা ফাঁকা গুলি ছোড়ে। এ সময় একটি গ্রেনেড বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া যায় সেখান থেকে। এছাড়া বাড়ির ভেতর থেকে কয়েকজনকে একসঙ্গে আল্লাহু আকবার ধ্বনি দিতে শোনা যায়।

বৃহস্পতিবার রাত ৩টা থেকে দক্ষিণ সুরমার শিববাড়িস্থ জহির তাহির মেমোরিয়াল স্কুলসংলগ্ন বাড়িটি ঘিরে রাখা হয়। রাতে বাড়ি থেকে বিস্ফোরণের শব্দও শোনা যায় বলে স্থানীয়রা জানান।

এদিকে জঙ্গি দমন অভিযান চলাকালেই শনিবার সন্ধ্যায় সিলেটে চেকপোস্ট এলাকায় দুই দফা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এতে দুই পুলিশ সদস্যসহ ছয়জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন অন্তত অর্ধশত।

এর আগে শুক্রবার রাতে ঢাকায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এলাকায় বোমার বিস্ফোরণে এক যুবক নিহত হন। ঢাকা ও সিলেটের এ বিস্ফোরণের ঘটনায় আইএসের পরিচয়ে দায় স্বীকার করার কথা জানিয়েছে সাইট ইন্টেলেজিন্স গ্রুপ।

Comments are closed.