টাইগারদের স্বাধীনতার মাসে লাল সবুজের জয়োৎসব

ওয়ান নিউজ ক্রীড়া ডেক্সঃ

জয় বাংলা বাংলার জয়
জয় বাংলা বাংলার জয়
হবে হবে হবে হবে নিশ্চয়
কোটিপ্রাণ একসাথে জেগেছে অন্ধরাতে
নতুন সূর্য ওঠার এই তো সময়………

গাজী মাজহারুল আনোয়ারের লিখা এই গানটির কথা আজ বার বার মনে পড়ছে। কারণটা তামিম, সৌম্য, সাব্বির, মুশফিক, সাকিব, মোসাদ্দেক, মাহমুদু্ল্লাহ, মিরাজ, মাশরাফি, তাসকিন আর  মোস্তাফিজরাই। ক্রিকেট নিয়ে এক সময় অনেকেই আমাদের তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করত। এরপর টাইগাররা যখন দেশের মাঠে নিউজিল্যান্ড, জিম্বাবুয়ে ও পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশ করল এবং ভারতের বিরুদ্ধে সিরিজ জিতল, তখন সেই সব সমালোচকরা বলতে লাগল শুধু দেশের মাঠে কেনো বিদেশে জিতে দেখাও। আজ তারা কি বলবে?

স্বাধীনতার মাসে বিদেশ বিভুইয়ে আজ উড়িতেছে বাংলার লাল সবুজ পতাকা। বলছি শ্রীলঙ্কার মাটিতে বাংলাদেশের জয়োৎসবের কথা। কলম্বোর পি সারা ওভালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে নিজেদের শততম টেস্টে ঐতিহাসিক জয়ের রেস কাটতে না কাটতেই এল আরেকটি জয়। টেস্ট সিরিজ ড্র করার পর ২৫ মার্চ ওয়ানডে মিশন শুরু করেছে টাইগাররা। ব্যাটে বলে দুর্দান্ত এক জয় দিয়েই সেটি রাঙিয়েছে বাংলার রয়েল বেঙ্গল টাইগাররা।

শুধু জয়ই নয় ডাম্বুলার রানগিরি ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সর্বোচ্চ দলীয় রানের রেকর্ডটি নিজেদের করে নিয়েছে বাংলাদেশ। তামিম ইকবালের অস্টম ওয়ানডে সেঞ্চুরি এবং সাকিব আল হাসান ও সাব্বির রহমানের জোড়া হাফ সেঞ্চুরির সুবাদে ৫ উইকেটে ৩২৪ রান সংগ্রহ করে বাংলাদেশ। যেকোনো দেশের পক্ষে এই স্টেডিয়ামে এটাই এখন সর্বোচ্চ স্কোর।

এই সর্বোচ্চ সংগ্রহই গড়ে দিয়ে ছিল টাইগারদের জয়ের ভিত। কারণ, এই মাঠে তিনশ’র উপরে রান তাড়া করে জয়ের রেকর্ড নেই। বাংলাদেশ আগে ব্যাট করে ৩২৫ রানের চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেয়। জিততে হলে শ্রীলঙ্কাকে ইতিহাস রচনা করতে হবে। এমন অসম্ভব লক্ষ্যর পেছনে ছুটতে গিয়ে শেষ পর্যন্ত ২৩৪ রানে গুটিয়ে গেল শ্রীলঙ্কার ইনিংস। ফলে ৯০ রানের বিশাল জয় নিয়ে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল মাশরাফি বিন মর্তুজার দল। জন্মদিনে আবারো বিদেশের (শ্রীলঙ্কা) মাটিতে পত পত করে উড়ল লাল সবুজের সতে পতাকা, বাংলাদেশের পতাকা।

এর আগে আসরের গ্রুপ পর্বের খেলায় ইংল্যান্ড, স্কটল্যান্ড ও আফগানিস্তানকে হারানোর পাশাপাশি শক্তিশালী নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে ক্রিকেট বিশ্বের প্রশংসা কুড়িয়েছেন মাশরাফিরা। আফগানিস্তানের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচ আক্ষরিক অর্থেই তাদের জন্য অগ্নিপরীক্ষায় পরিণত হয়। সব চাপ পেছনে ফেলে শতরানের জয়ে ভালোভাবেই বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করেন মাশরাফিরা। স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ৩০০ রানের লক্ষ্য তাড়া করে জিতে প্রথমবারের মতো কোয়ার্টার ফাইনালে খেলার পথে আরেক ধাপ এগিয়ে যায় বাংলাদেশ। পরের ম্যাচে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে গড়ে ইতিহাস। এরপর গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে বিশ্বকাপের অন্যতম সেরা দল ও এখন সাত ম্যাচের সাতটিতে জিতে সেমিফাইনালে থাকা নিউজিল্যান্ডকেও কাঁপিয়ে দিয়েছিল টাইগাররা। এভাবেই বিদেশের মাটিতে আসতে থাকবে জয় আর উড়তে থাকবে পতাকা, লাল সবুজের পতাকা। এখন কি বলবেন সেই সব সমালোচকরা।

Comments are closed.