রগ কেটে যুবলীগ নেতা হত্যার আসামি পৌর কাউন্সিলর!

ডেস্ক নিউজ:
নাটোরের লালপুর উপজেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জাহারুল ইসলাম হত্যা মামলার প্রধান আসামি মাসুদ রানা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় গোপালপুর পৌরসভা ৭ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর নির্বাচিত হতে চলেছেন। ওই ওয়ার্ড থেকে দ্বিতীয় কোন কাউন্সিলর প্রার্থী মনোনয়ন পত্র জমা দেননি। মনোনয়ন ফর্ম উত্তোলন করলেও রহস্যজনক কারণে তা জমা দেননি বিএনপি সমর্থক এক প্রার্থী। ফলে আসামি মাসুদ রানাকে কাউন্সিলর ঘোষণা এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র।

জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. আসলাম জানান, ৭ নম্বর ওয়ার্ড থেকে শুধু মাসুদ রানা কাউন্সিলর পদে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। ২২ ডিসেম্বর যাচাই বাছাইয়ের দিন তার মনোনয়নপত্র বৈধ হিসেবে গণ্য হয়। ২৯ ডিসেম্বর মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন ছিল। ওইদিন তিনি তার মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেননি। তাই ধরে নেওয়া যায় যে তিনি ওই ওয়ার্ডের কাউন্সিলর হিসেবে নির্বাচিত হচ্ছেন।

এদিকে, জাহারুল হত্যা মামলার নথি থেকে জানা যায়, ২০১৮ সালের ২৮ নভেম্বর সকাল সাড়ে ১০টায় গোপালপুরে নর্থ বেঙ্গল চিনিকলের দ্বিতীয় গেইটের সামনে দুর্বৃত্তরা যুবলীগ নেতা জাহারুল ইসলামের (৩২) হাত-পায়ের রগ কেটে দেয় এবং শরীরের অন্যান্য স্থানে এলোপাথাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করে ফেলে পালিয়ে যায়। দুপুরে তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। জাহারুল লালপুর উপজেলার চংধুপইল ইউনিয়নের সিরাজী নিশিপাড়া গ্রামের মৃত লুৎফর রহমানের ছেলে।

এ ঘটনায় নিহত জাহারুলের ভাই রেজাউল করিম বাদী হয়ে ২৯ নভেম্বর লালপুর থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলার প্রধান আসামি ছিলেন গোপালপুর পৌরসভার কাউন্সিলর মাসুদ রানা। অন্য আসামীরা হলেন মো. মঞ্জু, মোস্তাফিজুর রহমান, মো. ভিকি, মো. মানিক, মো. জীবন ও বরাত আলী। ২০১৯ সালের ১৩ জানুয়ারি লালপুর আমলী আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করলে তা নামঞ্জুর করে বিচারক তাদের কারাগারে পাঠান। বর্তমানে মাসুদ রানা ওই মামলায় জামিনে আছেন। তবে তদন্ত শেষে পুলিশের অভিযোগপত্রে মাসুদ রানার নাম রয়েছে।

হত্যাকাণ্ডের কারণ হিসেবে সে সময় জানা যায়, নাটোর-১(লালপুর-বাগাতিপাড়া) আসনের তৎকালীন মনোনয়ন বঞ্চিত এমপি আবুল কালাম আজাদের সমর্থক ছিলেন নর্থবেঙ্গল চিনিকলের কর্মচারী মঞ্জুর রহমান মঞ্জু। অপরদিকে এ আসনে মনোনয়নপ্রত্যাশী ও এমপির ভাতিজা সাগর আহমেদের অনুসারী জাহারুল ইসলাম। মঞ্জু ও জাহারুলের গ্রুপের মধ্যে ঠিকাদারী কাজের ভাগ বাটোয়ারাসহ আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধ চলে আসছিলো।

এদিকে ৭ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর হিসেবে আসামি মাসুদ রানার প্রতিদ্বন্দ্বিতা নিয়ে পৌর এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। তবে এ নিয়ে নাম প্রকাশ করার শর্তে কেউ কথা বলতে চান না। সচেতন ভোটাররা মনে করছেন, হত্যা মামলার চার্জশিটভুক্ত হওয়ার পর কারও নির্বাচনে অংশ নেয়া নৈতিকভাবে সিদ্ধ নয়। বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষিত হতে চলা মাসুদ রানা চার্জশিটভুক্ত আসামি হওয়ায় যথাযথ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে যদি দোষী সাব্যস্ত হন, তবে পদ থেকে অপসারিত হতে পারেন। এতে প্রতিনিধিত্ব দেখা দিতে পারে।

এদিকে, ৭ নং ওয়ার্ডে এবারের নির্বাচনেও প্রার্থী ছিলেন গোপালপুর পৌর যুবদলের সাবেক সহ-সভাপতি দুই বারের কাউন্সিলর মহিদুল ইসলাম। তিনি মনোনয়ন ফর্ম তুললেও জমা দেননি। এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোন মন্তব্যও করতে চাননি।

এ ব্যাপারে মাসুদ রানা বলেন, ‘রাজনৈতিকভাবে হেয় করতে আমার বিরুদ্ধে জাহারুল হত্যা মামলা দেয়া হয়েছে। অথচ ঘটনার দিন আমি ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলাম না।’

নির্বাচন প্রসঙ্গ মাসুদ রানা বলেন, ‘আমি কাউকেই মনোনয়ন ফর্ম জমা দিতে ভয়ভীতি দেখাইনি। বিএনপির কাউন্সিলর বিগত দিনে জনবিচ্ছিন্ন ছিলেন, এলাকার জন্য কোনো কাজ করেননি। তাই এবার ভোট চাওয়ার মুখ নেই তাদের। বিষয়টি বুঝতে পেরে মনোনয়ন ফর্ম তুলেও হয়তো তিনি জমা দেননি। তাই একক প্রার্থী হিসেবে আমি নির্বাচিত হতে চলেছি।’

আগামী ১৬ জানুয়ারি গোপালপুর পৌরসভার ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ, বিএনপি, স্বতন্ত্রসহ ৪ জন প্রার্থী মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। -বার্তা২৪

Comments are closed.