আল-আজহার; ইসলামি উচ্চশিক্ষায় শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠান

ডেস্ক নিউজ:
মিশরের ইসলামিক কায়রোতে অবস্থিত আল-আজহার মসজিদের অধীনে চলমান ইসলামি শিক্ষা ও আরবি সাহিত্য পড়ানোর অন্যতম প্রতিষ্ঠান আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়। এটি মিশরের তথা বিশ্বের প্রাচীনতম ডিগ্রি প্রদানকারী বিশ্ববিদ্যালয় ও সুন্নি ইসলাম শিক্ষার সর্বাধিক মর্যাদাপূর্ণ প্রতিষ্ঠান হিসেবে খ্যাত।

উচ্চশিক্ষার পাশাপাশি আল-আজহার প্রায় দুই মিলিয়ন শিক্ষার্থীর একটি জাতীয় নেটওয়ার্কের তদারকি করে। এছাড়াও, এই বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্তিতে আছে মিশরের ৪০০০ টিরও অধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।

‘স্টাডি ইন ইজিপ্ট’ এর তথ্য বলছে, ৯৭০ অথবা ৯৭২ সালে গোড়াপত্তন হওয়া এই বিশ্ববিদ্যালয় ইসলামিক শিক্ষার শ্রেষ্ঠ কেন্দ্র। এখানকার শিক্ষার্থীরা প্রতিষ্ঠার শুরু থেকেই কুরআন ও ইসলামি আইনের ওপর বিস্তারিত শিক্ষার্জন শুরু করে। পাশাপাশি, সেখানে যুক্তিবিদ্যা, ব্যাকরণ, বক্তৃতা ও জ্যোতির্বিদ্যা পড়ানো হতো। পুরো পৃথিবীতে ধর্মীয় বিষয়ের উপর শিক্ষা দিয়ে আধুনিককাল পর্যন্ত টিকে থাকা একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় আল-আজহার।

আধুনিক আল-আজহারের যাত্রা শুরু হয় ১৯৬১ সালে। মিসরের প্রেসিডেন্ট জামাল আবদুন নাসের আল-আজহারের হাজার বছরের অবকাঠামো ও ঐতিহ্য ভেঙে তাকে একটি ‘সেক্যুলার’ বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত করেন। তিনি আধুনিক অনেকগুলো বিভাগ ও অনুষদ যুক্ত করেন। সেগুলোর মধ্যে আছে ব্যবসায় অনুষদ, অর্থনৈতিক অনুষদ, বিজ্ঞান অনুষদ, ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদ ও কৃষি অনুষদ।

আল-আজহারে পড়তে হলে বিশেষ কিছু যোগ্যতা অর্জন করতে হয়। সেখানে ভর্তির আগে শিক্ষাজীবনে আরবিতে শিক্ষা নেওয়ার ওপর বিশেষভাবে জোর দিতে হয়। আরবিতে ব্যাখ্যা করতে পারা, প্রচুর আরবি শব্দজ্ঞান থাকা ও আরবীতে ছোট রচনা লেখার যোগ্যতা থাকলে আল-আজহারে ভর্তির ক্ষেত্রে এগিয়ে থাকা যায়।

আল-আজহারে পড়ার জন্য কুরআনের উপর বিশেষ দক্ষতা অর্জন করতে হয়। ভর্তি পরীক্ষার আগে বলে দেওয়া হয় কুরআনের কতটুকু মুখস্থ জানতে হবে।

বর্তমানে আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুষদগুলো ইসলামিক-আরবি, বিজ্ঞান ও মানবিক এই ৩ ইউনিটে ভাগ করা আছে। প্রত্যেক ইউনিটে রয়েছে একাধিক অনুষদ ও বিভাগ। আল-আজহারে মোট ৮৭টি অনুষদ রয়েছে। যার ৪০টি মেয়েদের জন্য এবং ৪৭টি ছেলেদের জন্য। আল-আজহারে পাঠ গ্রহণ করে প্রায় ৫ লাখ শিক্ষার্থী। শিক্ষার্থীদের ২০ ভাগ বিদেশি। যারা বিশ্বের ১০২টি দেশ থেকে আসে।

বাংলাদেশ থেকে প্রতিবছর ১০ জন ছাত্র আল-আজহারের স্কলারশিপ পান। বাংলাদেশ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে আল-আজহারে পড়ার আবেদনের যাবতীয় তথ্য জানা যায়।

প্রতিবছর এই স্কলারশিপের কিছু নিয়ম পরিবর্তন করা হয়। তবে, সাধারণত আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ে স্কলারশিপ পেতে দাখিল ও আলিমের সার্টিফিকেট ও মার্কশিট, আলিমের প্রশংসাপত্র, জন্ম সনদ, মেডিক্যাল সার্টিফিকেট, পুলিশ-ক্লিয়ারেন্স, ছবি ইত্যাদি লাগে।
আবেদন শেষ হওয়ার পরে যাদের বাছাই করা হয়, তাদের নাম ওয়েবসাইটে প্রকাশ করে বাংলাদেশ শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এরপর কিছু যাচাই-বাছাই শেষে মিশরের নিরাপত্তা মন্ত্রণালয় থেকে সবুজ সংকেত আসার পর বাংলাদেশের মিশর দুতাবাস ওই ১০ ছাত্রকে ভিসা দেওয়ার জন্য ডাকে।

আল-আজহারে স্কলারশিপে গেলে বিনামূল্যে অধ্যয়নের পাশাপাশি থাকা-খাওয়া ও বইপত্র মিলবে বিনামূল্যে। পাশাপাশি বিভিন্ন ছুটি ও পড়াশোনা শেষে বাড়ি ফেরার টিকিটও দেওয়া হয় শিক্ষার্থীদের।
স্কলারশিপ ছাড়াও আল-আজহারে আছে নিজ খরচে পড়ার সুযোগ।

Comments are closed.