লাশকাটা ঘরে কিশোরীদের মৃতদেহ ধর্ষণ, স্বীকারোক্তি মুন্নার

ডেস্ক নিউজ:
ভয়ঙ্কর এক সিরিয়াল কিলারের খোঁজ করতে গিয়ে বের হয়ে আসে জঘন্য রহস্য। গত দুই-তিন বছর ধরে মর্গে আসা মৃত কিশোরীদের ধর্ষণ করে আসছিল মুন্না

২০ বছর বয়সী মুন্না ভক্ত রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে ডোম যতন কুমার লালের সহযোগী হিসেবে কাজ করতো। এই কাজ করতে গিয়ে অপেক্ষাকৃত সুন্দর কিশোরীদের অবিকৃত লাশ ধর্ষণ করতো সে। গত দুই-তিন বছর ধরে সবার অগোচরে এই কাজ করে আসছিল মুন্না।

২০১৫ সালে এক নারীর আত্মহত্যাজনিত মৃত্যুর ঘটনার হাইকোর্ট এক ঐতিহাসিক নির্দেশ দেন। তাতে বলা হয়, অপমৃত্যুর মৃত্যুর ঘটনায় নারীদের যৌনাঙ্গ থেকে নমুনা সংগ্রহ করে তা বিশ্লেষণ করে দেখতে হবে যে মৃত্যুর আগে ধর্ষণের কোনো ঘটনা ঘটেছিল কিনা। এরপর থেকেই আদালতের নির্দেশ মেনে আসছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ সিআইডির ফরেনসিক ল্যাব।

সম্প্রতি এই কাজ করতে গিয়ে মোহাম্মদপুর ও কাফরুল থানা এলাকায় অপমৃত্যু হওয়া ১১ থেকে ১৭ বছর বয়সী পাঁচ তরুণীর মৃতদেহে শুক্রাণুর উপস্থিতি পায় সিআইডি। ডিএনএ বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, পাঁচটি লাশেই একই ব্যক্তির শুক্রাণু। এরপরই বিষয়টি নিয়ে নড়েচড়ে বসে সিআইডি। ভয়ঙ্কর এক সিরিয়াল কিলারের খোঁজ করতে গিয়ে বের হয়ে আসে জঘন্য রহস্য।

সিআইডি সূত্রে জানা গেছে, দুই-তিন বছর ধরে সে মর্গে থাকা মৃত নারীদের ধর্ষণ করে আসছিল।

সিআইডির অর্গানাইজড ক্রাইম বিভাগের প্রধান অতিরিক্ত ডিআইজি শেখ মো. রেজাউল হায়দার বলেন, “এটি খুবই জঘন্যতম ও খুবই বিব্রতকর অভিযোগ। অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার পরই ওই যুবককে গ্রেফতার করেছে সিআইডি।”

তিনি বলেন, “বিভিন্ন স্থান থেকে যেসব লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে নেওয়া হতো, সেসব লাশের মধ্য থেকে মৃত নারীদের ধর্ষণ করতো মুন্না।”

এ বিষয়ে শুক্রবার (২০ নভেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বিৃকত যৌনাচারের ঘটনার সাথে মুন্নার ডিএনএ মিলে গেছে। মৃত অন্তত ৫ তরুণীকে ধর্ষণের ঘটনার সুর্নিদিষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেছে। বৃহস্পতিবার (১৯ নভেম্বর) রাতে রাজধানীর শেরে বাংলানগর থানায় একটি মামলা দায়েরের পর রাতে মুন্নাকে গ্রেফতার করে (সিআইডি)।

গ্রেফতার মুন্নার বাড়ি রাজবাড়ীর গোয়ালন্দের জুরান মোল্লার পাড়ায়। সে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের কর্মচারী নয়, হাসপাতালের ডোম মামা যতন কুমারের সহকারি হিসেবে কাজ করত।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে লাশ ধর্ষণের সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে মুন্না। ঘটনায় আরও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন করে মুন্নাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে সিআইডি।

Comments are closed.